Abhishek Banerjee on EC: ‘পেটি ধরে-ধরে কমিশনের অফিসের দোতলায় স্টোর করে রাখা’, ভিডিয়ো পোস্ট করে কীসের অভিযোগ অভিষেকের?
TMC MP Abhishek Banerjee: এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। কীসের সিসিটিভি? অভিষেক বলেন, "কমিশনের বিধি অনুযায়ী ৫০টার বেশি ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন না। আমাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য আছে, প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম সিক্স যাঁরা এই রাজ্যের ভোটার নয়, বিহার-উত্তরপ্রদেশে নাম রয়েছে, তাঁদের ভোটার করা হয়েছে।"

কলকাতা: বিস্ফোরক অভিযোগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর দাবি, বাংলায় বিহার-উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে বিজেপি। এইভাবেই আগে মহারাষ্ট্র-হরিয়ানা-দিল্লির মতো রাজ্য তারা দখল করেছে, আর এবার বাংলাও একই পন্থায় দখল করতে চাইছে। সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের অফিস থেকে বেরিয়ে বিরাট অভিযোগ করলেন অভিষেক। বললেন, ফর্ম-৬-কে কাজে লাগিয়ে ভিন রাজ্যের লোক ঢুকিয়ে বাংলার সীমান্ত বদল করতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেটাই আজ অভিষেক ও তার নেতৃত্বাধীন দল ‘হাতেনাতে’ ধরেছে।
‘ফর্ম-৬ আলাদা করে সিইও অফিসে জমা দেওয়া হচ্ছে’
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ প্রথমে জানান, কীভাবে এই ফর্ম-৬-এর ব্যাপারে খবর পেয়েছেন তিনি। তৃণমূলের নম্বর ২ বলেন, “আমি পুরুলিয়াতে সভা করছিলাম। কিছু তথ্য জানতে পারি। ফর্ম-৬ আলাদা করে সিইও অফিসে জমা দেওয়া হচ্ছে। কিছু লোক যাঁরা আমাদের বাংলাকে ভালোবাসে এখানে কাজ করে, তাঁরাই আমাদের পাঠায়।” এরপরই তিনি বলেন, “সেগুলি পেটি ধরে ধরে দো-তলায় স্টোর করে রাখা। এর ভিডিয়ো তুলে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছি।”
হিসেব দেখালেন অভিষেক
এ দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানান। কীসের সিসিটিভি? অভিষেক বলেন, “কমিশনের বিধি অনুযায়ী ৫০টার বেশি ফর্ম ৬ জমা দিতে পারেন না। আমাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য আছে, প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম সিক্স যাঁরা এই রাজ্যের ভোটার নয়, বিহার-উত্তরপ্রদেশে নাম রয়েছে, তাঁদের ভোটার করা হয়েছে।”
কোন-কোন জেলায় ফর্ম-৬ বেশি জমা পড়েছে?
অভিষেকের কথায়, “নোয়াপাড়ায়- ৭০০ ফর্ম ৬ জমা পড়েছে, ব্যারাকপুরে জমা পড়েছে, এগরা, জোড়াসাকো, চৌরঙ্গী, শ্যামপুকুরে। মোট ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। নিয়ম অনুয়ায়ী, ৩০ হাজার যদি এই ফর্ম ৬ জমা পড়েছে, ৬০০ জনকে সশরীরে এসে জমা দিতে। আমরা বলেছি সিইও-কে যাতে সিসিটিভি দেখায়।” তৃণমূল সাংসদের এও দাবি, “আপনাার দেখবেন যাঁদের নাম জমা পড়েছে সব বিহারের। ব্যারাকপুক, জগদ্দল, ভাটপাড়া, নৈহাটি এখান থেকে কোথাও ৫০০-৭০০ ফর্ম জমা পড়েছে। এরা সব বিহারের ভোটার।”
অমিত মালব্যকে আক্রমণ
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, অমিত মালব্য জোর করে বিহারের লোকের নাম ঢোকাচ্ছে। তিনি বলেন, “ভোটার লিস্টে চুরি হচ্ছে, দিল্লিতে একজন প্রতিমন্ত্রী বিহারের ২৭ জন ভোটারকে অ্যাড করেছে। বাংলার ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করতে চাইছে অমিত শাহ। ওরা অভিযোগ করে বলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি এই বাংলার ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করেছে। আসলে ওরা এই কাজ করছে। কতজন বাংলাদেশি/ রোহিঙ্গা পেয়েছে কমিশন? বাংলাকে এক বছর ধরে বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
বাঙালি অস্মিতা নিয়ে সওয়াল অভিষেকের
অভিষেক বলেন, “কালকে বিজেপির MP সিইও অফিসে ফোন করেছে ফর্ম ৬ নিয়ে। আমার কাছে খবর আছে। অমিত মালব্য জোর করে তারপর এই ফর্ম ৬ জমা করেছে। একই জিনিস মহারাষ্ট্রে হয়। পাঁচ মাসে ৪০ লক্ষ ভোটার অ্যাড হয়। দিল্লিত ৫ লক্ষ ভোটার অ্যাড হয়। এই ভাবে হরিয়ানা দখল হয়েছে। আজ হাতনাতে ধরেছি। যদি অবৈধভাবে ভোট দিতে আসে, যাঁরা বাংলায় থাকে না, বাংলায় বসবাস করে না। বিহার-উত্তরপ্রদেশে থাকে। বিজেপি বলছে পরিবর্তন দরকার, এই পরিবর্তন চায়। যেখানে দুর্গাপুজো নয় রামনবমী হবে। ওরা ঠিক করবে মাছ নাকি মাংস খাবে।”
