
কলকাতা: ২৪ ঘণ্টা আগেই লাল ঝান্ডা ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম। রাজ্য রাজনীতিতেও আলোচনা চলছে। একজন বাম নেতার তৃণমূলে যাওয়া নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। এই আবহে প্রতীক উরকে খোঁচা দিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তৃণমূল প্রতীক উরকে এক সপ্তাহে ভুলে যাবে বলে মন্তব্য করলেন। একইসঙ্গে সেলিম বলেন, “আমরা তাঁকে মঞ্চ দিয়েছিলাম। ওরা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।”
রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির একটি অনুষ্ঠানে এসেছিলেন সেলিম। সেখানে প্রতীক উরকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “বামপন্থীতে বিকাও একজন। বাকিরা টিকাও।” গতকাল আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে রাজ্যের শাসকদলের পতাকা নেন প্রতীক উর। অভিষেকের অফিসের বাইরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের পতাকা হাতে নিয়ে দেখা যায় তাঁকে। এদিন এই নিয়ে খোঁচা দিয়ে সেলিম বলেন, “আমরা যুবদের মঞ্চ দিই। আমরা যাকে মঞ্চ দিয়েছিলাম, তাঁকে প্রথম দিনই রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।”
সিপিএমে থাকাকালীন একবার হামলার শিকার হয়েছিলেন প্রতীক উর। তাঁকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এদিন সেলিম বলেন, “তারা প্রথমে মারে। তারপরও যদি শিরদাঁড়া সোজা করে থাকে, তখন লোভ দেখায়। তারপরও শিরদাঁড়া সোজা করে রাখলে, বলে, তুমি তো আমাদেরই লোক।” প্রতীক উরকে তৃণমূল এক সপ্তাহে ভুলে যাবে বলেও এদিন মন্তব্য করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক। তাঁর কথায়, “আমি জানি, যারা তাঁকে কিনেছে, এক সপ্তাহে ভুলে যাবে।”
এদিকে, জানা গিয়েছে, প্রতীক উর সিপিএমের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পর তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এমনকি, প্রতীক উরকে ফোন করেছিলেন সেলিমও। বারবার ফোন করে করে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন সুজন চক্রবর্তী। প্রতীক উরকে শেষ ফোন করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তারপরও তৃণমূলের পথেই পা বাড়ান প্রতীক উর।