Trinamool Congress List: বদলে গেল একাধিক বিধায়কের আসন, তালিকায় কে কে? কেন এই রদবদল?

TMC MLA: পুরনো কেন্দ্র থেকে সরিয়ে একাধিক বিদায়ী বিধায়ককে নতুন কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে শাসকদল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোথাও প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া সামাল দিতে, কোথাও অন্তর্দ্বন্দ্ব রুখতে, আবার কোথাও বিরোধী শিবিরকে একেবারে অঙ্ক কষে টেক্কা দিতেই এই সুচিন্তিত 'আসন বদলের' কৌশল নিয়েছে ঘাসফুল শিবির।

Trinamool Congress List: বদলে গেল একাধিক বিধায়কের আসন, তালিকায় কে কে? কেন এই রদবদল?
রাজনৈতিক মহলে চলছে চর্চা Image Credit source: TV 9 Bangla GFX

Mar 17, 2026 | 8:52 PM

কলকাতা: বিরাট চমক, এক ঝাঁক সেলিব্রেটি মুখ? না, সেই ছবি খুব একটা দেখা গেল না তৃণমূলের প্রার্থা তালিকায়। কিন্তু এই মুহূর্তে যত বিধায়ক রয়েছেন তৃণমূলের তাঁদের মধ্যে ৭৪ জনই এবার টিকিট পাননি। তা নিয়ে চর্চা চলছে পুরোদমে। উল্টে নিচুস্তরে কাজ করেছেন, মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এরকম কর্মীদেরই প্রার্থী করা হয়েছে সিংহভাগ ক্ষেত্রে। যা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা, পারফরম্যান্সই যে শেষ কথা তাই যেন বলছে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। সেই আধারেই হয়েছে প্রার্থী বাছাই। শুধু তাই নয়, বেশ কিছু বিধায়কের ঠিকানও বদলে গিয়েছে। তা নিয়েও চলছে জোর চর্চা। 

পুরনো কেন্দ্র থেকে সরিয়ে একাধিক বিদায়ী বিধায়ককে নতুন কেন্দ্রে টিকিট দিয়েছে শাসকদল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোথাও প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া সামাল দিতে, কোথাও অন্তর্দ্বন্দ্ব রুখতে, আবার কোথাও বিরোধী শিবিরকে একেবারে অঙ্ক কষে টেক্কা দিতেই এই সুচিন্তিত ‘আসন বদলের’ কৌশল নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। 

সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর কেন্দ্র বদল। একুশের নির্বাচনে চণ্ডীপুর থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে তাঁকে নদিয়ার করিমপুরে সরিয়ে আনা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরে বিরোধী দলের প্রবল প্রভাব, স্থানীয় স্তরের কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা মাথায় রেখে সোহমকে এবার নদিয়ায় আনা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, চণ্ডীপুরের তুলনায় নদিয়ার করিমপুর তৃণমূলের জন্য অপেক্ষাকৃত ‘নিরাপদ’ আসন। তাই তারকা প্রার্থীর ভাবমূর্তি কাজে লাগিয়ে নদিয়ায় দলের সংগঠনকে আরও মজবুত করতেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে।  

অন্যদিকে, বিধায়ক রুকবানুর রহমানকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র নদিয়ার চাপড়া থেকে সরিয়ে এবার পাশের কেন্দ্র পলাশিপাড়ার প্রার্থী করা হয়েছে। একুশে চাপড়া থেকে তিনি জিতলেও, গত কয়েক বছরে ওই এলাকায় গোষ্ঠীকোন্দল বারবার অস্বস্তি বাড়িয়েছে শাসকদলের। চাপড়ায় দলের অন্দরের ক্ষোভ যাতে ভোটব্যাঙ্কে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে সে কারণেই এই রদবদল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

অন্যদিকে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা হুমায়ুন কবীরেরও আসনও বদলে গিয়েছে। ২০২১ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁকে ডেবরা থেকে সরিয়ে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে পাঠানো হয়েছে। এই মুর্শিদাবাদেই আবার তৃণমূলকে কড়া টক্কর দিতে চলেছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিছুদিন আগেই ডেবরার বিধায়কের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেছিলেন, “দরকারে আর এক হুমায়ুনকে নিয়ে এসে কান্দিতে দাঁড় করাব। দেখব কত ধানে কত চাল হয়।” তা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হতেই ডেবরারয় বিধায়ক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আমার দল আমার পার্টির উপর আমার ভরসা আছে। সম্ভবত আমি ডেবরাতেই লড়ব এবং জিতব।” যদিও এবার তাঁকে যেতে হচ্ছে ডোমকলে। 

চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ বদল চিকিৎসক-নেতা নির্মল মাঝির ক্ষেত্রে। হাওড়ার উলুবেড়িয়া উত্তর কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের এই বিধায়ককে এবার পাঠানো হয়েছে হুগলির গোঘাটে। গত কয়েক বছরে তাঁকে ঘিরে দলের ভেতরে ও বাইরে বেশ কিছু বিতর্ক, প্রবল প্রতিষ্ঠান বিরোধী ক্ষোভও তৈরি হয়েছিল। উলুবেড়িয়া আসনটিকে সেই ক্ষোভের আঁচ থেকে বাঁচাতে দলের সেখানে নতুন মুখের প্রয়োজন ছিল বলেই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের। অন্যদিকে, হুগলির গোঘাটও রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং একটি আসন। অন্যদিকে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লাকে এবার আনা হচ্ছে ভাঙড়ে। শেষ বিধানসভা ভোটে এখানেই আইএসএফের টিকিটে জিতেছিলেন নওশাদ সিদ্দিকী। তবে রাজনীতির আঁচে বরাবরই তপ্ত থেকে এই ভাঙড়। প্রায়শই আইএসএফ তৃণমূল সংঘর্ষের খবর উঠেছে সংবাদ শিরোনামে। 

Follow Us