পরিকল্পনামাফিক টিকা না দিলে রূপ বদলাবে করোনা, প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হল সতর্কবার্তা

শিশু ও সদ্য প্রপ্তবয়স্কদের টিকাকরণে কার্যকারিতার কোনও প্রমাণ না থাকায় এটি অর্থের অপচয় ও মিউট্যান্ট স্ট্রেনকে ছড়িয়ে পড়তেও সাহায্য করতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

পরিকল্পনামাফিক টিকা না দিলে রূপ বদলাবে করোনা, প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া হল সতর্কবার্তা
ফাইল চিত্র।

নয়া দিল্লি: কেন্দ্রের লক্ষ্য ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা দেশের বাসিন্দাদের করোনা টিকা দেওয়া। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইতিমধ্যেই নানা পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। তবে এতে বড় বিপদ আসতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। করোনা মোকাবিলায় গঠিত কেন্দ্রের টাস্কফোর্স ও এইমসের চিকিৎসক সহ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল জানায়, অসম্পূর্ণ বা অগোছালোভাবে টিকাকরণ মিউট্যান্ট বা অভিযোজিত করোনা স্ট্রেনকে ছড়িয়ে পড়তেই সাহায্য করবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রকাশিত নতুন রিপোর্টে জানানো হয়েছে, সমগ্র জনগণকে টিকাকরণের আগে যাদের সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, তাদের টিকাকরণেই জোর দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে যারা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের নতুন করে করোনা টিকা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ ইতিমধ্যেই তাদের দেহে করোনার বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে গিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, “বর্তমান প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে টিকাকরণে কাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত, তা মহামারী সম্পর্কিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে স্থির করা উচিত। সমস্ত বয়সসীমার জন্য একসঙ্গে টিকাকরণ চালালে তা বিপদই ডেকে আনবে। একসঙ্গেই সমস্ত বয়সসীমার টিকাকরণ চালাতে গিয়ে একদিকে যেমন মানবসম্পদের অপচয় হবে, তেমনই আবার গোটা জনসংখ্যার উপর প্রভাব ফেলতেও ব্যর্থ হবে।”

শিশু ও সদ্য প্রপ্তবয়স্কদের টিকাকরণে কার্যকারিতার কোনও প্রমাণ না থাকায় এটি অর্থের অপচয় ও মিউট্যান্ট স্ট্রেনকে ছড়িয়ে পড়তেও সাহায্য করতে পারে। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে বলা হয়, “অগোছালো ও অসম্পূর্ণভাবে গণটিকাকরণে মিউট্যান্ট স্ট্রেন ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংক্রমমের হার দেখো বলা যায়, যে হারে সদ্য যুবক-যুবতীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে, তার সঙ্গে টিকাকরণ পাল্লা দিয়ে এগোতে পারছে না।”

করোনা আক্রান্তদের টিকাকরণের প্রয়োজনীয়তা নেই বলেও জানানো হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের ক্ষেত্রেও ভ্যাকসিন উপকারী, তা প্রমাণ হওয়ার পরই সুস্থ হয়ে ওঠা মানুষদের টিকা দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: সত্যিই কি হ্যাক হয়ে গিয়েছে কো-উইন পোর্টাল? সত্যতা জানাল কেন্দ্র