মোবাইল স্ক্রিন থেকে বাচ্চা কে দূরে রাখতে গিয়ে নাজেহাল? এই ভাবে ব্যস্ত রাখুন বাচ্চাকে
রং, কাগজ, পোস্টার, স্কেচ পেন এই সাধারণ জিনিস দিয়েই বাচ্চাদের এক জায়গায় মনোযোগী করতে পারেন। নিজের মতো করে আঁকা বা কিছু বানানোর আনন্দ স্ক্রিনের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে সেটাই আপনার বাচ্চাকে না বলে বোঝান।

আজকাল ছোটদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব যেন একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার। পড়াশোনার ফাঁকে, অবসরে, এমনকি খাবারের সময়ও চোখ থাকে স্ক্রিনে। কিন্তু বেশি স্ক্রিন টাইম শিশুদের মনোযোগ, ঘুম, আচরণ সব কিছুর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। বাচ্চার হাতে ফোন দেখলেই অভিভাবকরা চিৎকার করেন, বকা দেন। তবে এছাড়া রয়েছে অন্য উপায়। শুধু নিষেধ না করে, যদি বুদ্ধি খাটিয়ে বিকল্প আনন্দের ব্যবস্থা করা যায়,তাহলে স্ক্রিন ছাড়াও বাচ্চারা খুশি থাকতে পারে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৮ থেকে ১২ বছর বয়সি শিশুরা দিনে গড়ে ৪–৬ ঘণ্টা স্ক্রিনে সময় কাটায়, আর কিশোরদের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। এই অভ্যাস কমাতে দরকার সৃজনশীল, মজাদার আর পারিবারিক কিছু উদ্যোগ নিতে পারেন।
সৃজনশীল কাজের সুযোগ দিন- রং, কাগজ, পোস্টার, স্কেচ পেন—এই সাধারণ জিনিস দিয়েই বাচ্চাদের এক জায়গায় মনোযোগী করতে পারেন। নিজের মতো করে আঁকা বা কিছু বানানোর আনন্দ স্ক্রিনের চেয়েও বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে সেটাই আপনার বাচ্চাকে না বলে বোঝান।
বাইরে খেলতে উৎসাহ দিন– দৌড়ঝাঁপ, ক্রিকেট, ফুটবল, সাইকেল চালানো যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, তেমনই মানসিক সতেজতাও বাড়ায়।
লাইব্রেরি ভিজিট ও পড়ার অভ্যাস– বই, পাজল, কমিকস এনে দিন। এতে পড়ার অভ্যাস তৈরি হবে, বাড়বে শব্দভাণ্ডারও।
ঘরের ভেতর ঘর বানান– চেয়ার, চাদর আর বালিশ দিয়ে বানানো ছোট্ট দুর্গ বাচ্চাদের কল্পনার জগৎকে আরও রঙিন করে তুলতে পারে। এই রকম ঘর বানিয়ে দিলে বাচ্চার স্ক্রিনের কথা মনে পড়বে না।
জোরে জোরে গল্প পড়া– বইয়ের চরিত্র গুলো কণ্ঠ বদলে বদলে পড়লে, পড়াশোনা হয়ে উঠবে একেবারে গল্পের আসর।
পাপেট শো – মোজা, পুতুল বা নিজের বানানো চরিত্র দিয়ে ছোট্ট নাটক মঞ্চস্থ করা যেতে পারে। এতে বাচ্চা মজা পাবে।
বোর্ড গেম – লুডো, দাবা, উনো, মনোপলি- এই সব খেলা বাচ্চাদের সঙ্গে সপরিবারে খেলতে পারেন। এতে বাচ্চার সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয়।
একসঙ্গে রান্না বা বেকিং- সহজ কুকিজ, কেক বা ডেজার্ট বানান বাচ্চাদের পাশে নিয়ে। নিজের হাতে বানানো খাবারের আনন্দ আলাদাই।
