শুধু ফ্রিজ-টিভি নয়, জানেন বিদ্যুৎ চমকালে কী কী বন্ধ করতে হয়?
মেঘের ডাক আর বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হলেই আমরা সাধারণত তাড়াহুড়ো করে ঘরের টিভি, ফ্রিজ বা কম্পিউটারের প্লাগ খুলে দিই। ভাবি, লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স জিনিসগুলো বুঝি সুরক্ষিত হয়ে গেল! কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, শুধু এই কয়েকটি দামি জিনিস বন্ধ করাই কিন্তু যথেষ্ট নয়। আমাদের অজান্তেই ঘরের এমন কিছু গ্যাজেট বা পয়েন্ট অন থাকে, যা বজ্রপাতের সময় মারাত্মক বিস্ফোরণ বা শর্ট সার্কিট ডেকে আনতে পারে।

বিদ্যুৎ চমকানোর সময় আমরা অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ঘরের ফ্রিজ, টিভি বা কম্পিউটারের প্লাগ খুলে দিই। কিন্তু সুরক্ষার খাতিরে শুধু এই কয়েকটি দামি ইলেকট্রনিক্স জিনিস বন্ধ করাই কি যথেষ্ট? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একেবারেই নয়। বজ্রপাতের সময় ঘরের এমন কিছু জিনিস সচল থাকে, যা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ।
বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং ঘরের সুরক্ষায় কোন কোন বিষয়গুলো মাথায় রাখা জরুরি?
টিভি-ফ্রিজ বন্ধ করলেও অনেকেই ঘরের ওয়াই-ফাই রাউটারটি অন রাখতে ভুল করেন না। মনে রাখবেন, বজ্রপাতের সময় ল্যান্ডলাইন বা ব্রডব্যান্ডের তারের মাধ্যমে হাই-ভোল্টেজ কারেন্ট খুব সহজে ঘরের ভেতর চলে আসতে পারে। এর ফলে রাউটারটি তো পুড়বেই, পাশাপাশি ল্যান (LAN) কেবলের মাধ্যমে যুক্ত থাকা কম্পিউটার বা ল্যাপটপের মাদারবোর্ডও মুহূর্তে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বিদ্যুৎ চমকালে রাউটারের প্লাগ ও তার দুটোই খুলে দিন।
অনেকেরই ধারণা থাকে এসি ঘরের ভেতরে থাকায় এটি সুরক্ষিত। কিন্তু এসির আউটডোর ইউনিটটি বাড়ির বাইরে বা ছাদে খোলা আকাশের নিচে থাকে। বজ্রপাতের উচ্চ বিদ্যুৎ তরঙ্গ যদি ওই আউটডোর ইউনিটে আঘাত করে, তবে তা লাইনের মাধ্যমে ঘরের ভেতরের ইনডোর ইউনিটটিকেও বিস্ফোরণের মুখে দাঁড় করাতে পারে। তাই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় এসি চালানো বন্ধ রাখুন এবং মেইন সুইচ অফ করে দিন।
ফোন বা ল্যাপটপ ব্যাটারিতে চললেও, চার্জে থাকা অবস্থায় এগুলি সরাসরি মেইন লাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বজ্রপাতের সময় যদি বাড়ির পাওয়ার লাইনে ‘সার্জ’ হয়, তবে চার্জে থাকা মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্লাস্ট করতে পারে।
ভারী বৃষ্টির সময় অনেক বাড়িতেই জল জমে যাওয়ার আশঙ্কায় বা ট্যাংক ভরতে পাম্প চালানো হয়। কিন্তু মাটির নিচে থাকা পাইপলাইনের মাধ্যমে আর্থিংয়ের সমস্যা থাকলে পাম্পে বড় ধরনের শর্ট সার্কিট হতে পারে। তাই এই সময়ে পাম্প চালানো থেকে বিরত থাকুন।
কী করবেন আর কী করবেন না? প্লাগ সম্পূর্ণ খুলে দিন: শুধু রিমোট বা বোর্ডের সুইচ বন্ধ করলেই কিন্তু বিদ্যুৎ স্পাইক আটকানো যায় না। দেওয়ালের সকেট থেকে প্লাগটি সম্পূর্ণ বের করে দিন।
ধাতব কল বা পাইপ স্পর্শ করবেন না: বজ্রপাতের সময় বাথরুম বা রান্নাঘরের ধাতব জলের কল ব্যবহার না করাই শ্রেয়। মাটির নিচে থাকা পাইপলাইনের মাধ্যমেও কারেন্ট পরিবাহিত হতে পারে।
ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার নয়: কর্ডলেস বা মোবাইল ফোন ব্যবহারে সমস্যা নেই, তবে ল্যান্ডলাইন রিসিভার কানে দিয়ে এই সময় কথা বলা বিপজ্জনক।
আকস্মিক বজ্রপাতে লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স জিনিস বাঁচাতে বাড়ির মেইন লাইনে ‘সার্জ প্রোটেক্টর ডিভাইস’ (SPD) ব্যবহার করা উচিত। এটি হাই-ভোল্টেজ কারেন্টকে ঘরের যন্ত্রপাতিতে পৌঁছানোর আগেই মাটিতে পাঠিয়ে দেয়। সামান্য অসাবধানতা যাতে বড় বিপদের কারণ না হয়, তার জন্য মেঘের ডাক শুনলেই অলসতা না করে ঘরের সব গুরুত্বপূর্ণ প্লাগ খুলে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
