শরীরচর্চা করছেন? এই ডায়েটের ভুলগুলো আপনার সব পরিশ্রম জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে না তো!
শুধু ভাত বা কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর করলে হবে না। শরীরচর্চার পর পেশির ক্ষয় রোধ করতে এবং মেটাবলিজম চাঙ্গা রাখতে ডাল, পনির, মাছ বা ডিমের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার পাতে রাখা আবশ্যিক। প্রোটিন না থাকলে শরীর উল্টে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

আজকাল নিজেকে ফিট রাখতে চান অনেকেই। আর ফিট রাখার জন্যই কেউ ছোটেন জিমে, আবার কেউ বাড়িতেই যোগা বা ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে ফিট থাকতে চান। সুস্থ থাকার তাগিদে খুব খাটছেন, কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুতেই পরিবর্তন বুঝতে পারছেন না? আসল কারণ জানেন? আসলে শরীরচর্চা আপনার ফিটনেস চর্চার অংশ মাত্র, বাকিটা নির্ভর করে আপনার খাবার রুটিনের ওপর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল খাদ্যাভ্যাস আপনার সারা দিনের খাটনিকে এক নিমেষেই বেকার করে দিতে পারে।
ডায়েটিশিয়ানের মতে, অনেকেই মনে করেন ব্যায়াম করছি যখন, তখন যা খুশি খাওয়ার ‘লাইসেন্স’ পেয়ে গিয়েছি। এখানেই আসল গোলমালটা শুরু হয়।
বিশেষ করে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা খুব জরুরি:
প্রসেসড ফুড: শরীরচর্চা শেষ করে খিদে পাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সময় যদি হাতের কাছে পাওয়া চিপস, বিস্কুট বা প্যাকেটজাত স্ন্যাকস খেয়ে নেন, তবে শরীরের বারোটা বাজতে বাধ্য। এই খাবারগুলোতে থাকা অতিরিক্ত সোডিয়াম আর রিফাইনড কার্বস শরীরে প্রদাহ (Inflammation) তৈরি করে আর তার ফলেই মেদ ঝরতে সময় লাগে।
মিষ্টি পানীয়: ব্যায়ামের পর তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই এনার্জি ড্রিংকস, কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত ফলের রস বেছে নেন। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ চিনি আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেক কষ্টে যে ক্যালরি পুড়িয়েছেন, তা এক নিমেষেই শরীরে ফিরে আসে।
প্রোটিনকে অবহেলা: শুধু ভাত বা কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর করলে হবে না। শরীরচর্চার পর পেশির ক্ষয় রোধ করতে এবং মেটাবলিজম চাঙ্গা রাখতে ডাল, পনির, মাছ বা ডিমের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার পাতে রাখা আবশ্যিক। প্রোটিন না থাকলে শরীর উল্টে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
রিওয়ার্ড ইটিং: ‘আজ তো এক ঘণ্টা ব্যায়াম করেছি, তাই একটু বিরিয়ানি বা পিৎজা খেতেই পারি’—এই মানসিকতাই ওজন কিছুতেই কমতে দেয় না। মনে রাখবেন, ব্যায়ামে যে পরিমাণ ক্যালরি পোড়ে, এক বেলার ভারী জঙ্ক ফুড তার চেয়ে অনেক বেশি ক্যালরি শরীরে ঢুকিয়ে দেয়।
সুস্থ থাকতে কী কী করবেন?
চিক্ৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শরীরচর্চার পাশাপাশি নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত জল পানের পাশাপাশি ডাবের জল বা লেবুর জল খেতে পারেন। এছাড়া সারাদিনের খাবার একবারে গোগ্রাসে না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। যখন আপনার সঠিক জীবনযাপন আর সঠিক পুষ্টির মিলন ঘটবে, তখনই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের পরিবর্তনটা অনুভব করতে পারবেন।
