প্রেমের মরসুমে নিজেকে ভালোবাসতে ভুলছেন না তো?
নিজেকে ভালো রাখার জন্য মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে “মানসিক চাপ কমাতে গেলে নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে। একটা রুটিন ফলো করতে হবে—নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠবো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাবো।” মন ভালো থাকাও ডায়েটের অংশ

ফেব্রুয়ারি এলেই শহরের হাওয়ায় বদল আসে। রেস্তরাঁয় বুকিং বাড়ে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসার পোস্টের ভিড় জমে, উপহারের তালিকা তৈরি হয়। কিন্তু এই ভালোবাসার মরশুমে নিজেকে একটা প্রশ্ন করেছেন? নিজে ভালো আছেন তো? নিজেকে ভালোবাসছেন তো?
ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে প্রিয়জনের জন্য কেক, চকলেট,উপহার সবই থাকে। কিন্তু নিজের জন্য? অনিয়মিত খাওয়া, কম জল, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব এসবের মাঝেই ধীরে ধীরে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। মন খারাপ, শক্তির অভাব, ওজনের ওঠানামা সবই তখন নীরবে জানান দেয়, যত্নের অভাব হয়েছে কোথাও।
এই ভালবাসার মরশুমে নিজেকে ভালোবাসার প্রথম ধাপ সুস্থ থাকা। আর সুস্থ থাকতে হলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কীভাবে করবেন? সেই বিষয়ে টিভি ৯ বাংলা যোগাযোগ করেছিল ক্লিনিকাল ডায়েটিশিয়ান, নিউট্রিশানিস্ট, ডায়াবেটিস কাউন্সিলর পম্পা রায়ের সঙ্গে।
তিনি বলছেন, ভালোবাসার শুরুটা নিজের যত্ন থেকেই। তাঁর মতে “ভালোবাসার মৌসুমে নিজেকে ভালোবাসা ভীষণভাবে জরুরি। সুস্থ থাকতে হলে সঠিক ডায়েট প্ল্যান করা খুব দরকার।”
সুষম খাবারই ভিত্তি
তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনও এক ধরনের খাবার নয় বরং খাবারের তালিকায় ভারসাম্যটাই আসল। “একটা ব্যালেন্সড ডায়েট বা সুষম খাবার হওয়া উচিত খাদ্য তালিকাটা। যার মধ্যে প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ, ফাইবার, জল—এই সবকটা খাবার যেন রোজের খাদ্য তালিকায় থাকে। এই ভারসাম্যই শরীরকে ভেতর থেকে শক্ত করে। “এই খাবারগুলো শরীরকে শক্তি দেবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে, হাড়ের গঠনে সাহায্য করবে এবং ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ কমাবে।”
নিয়মিত পর্যাপ্ত জলপান
খাবারের পাশাপাশি জল খাওয়ার অভ্যাস নিয়ে তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করেন। “নিয়ম করে জল খেতে হবে। দু থেকে আড়াই লিটার জল তো খেতেই হবে। গরমের সময় যদি মনে হয় তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার জলও খেতে হচ্ছে, তাতে কোনও সমস্যা হবে না। শরবত, দইয়ের ঘোল বা পাতিলেবুর জল—সবকিছুই বিশেষত গরমে খাওয়া জরুরি।” সঠিক সময়ে সঠিক খাবার
শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন ও কতটা খাচ্ছেন সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। “ফল, শাকসবজি সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণে সঠিক খাবার খাওয়া—এইটাই হচ্ছে একদম সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।”
শরীরচর্চা ও ঘুম—ডায়েটের সঙ্গী
ডায়েট মানে শুধু প্লেট নয়, লাইফস্টাইলও। “প্রতিদিন নিয়ম করে তিরিশ মিনিট হাঁটা বা নিজের সুবিধামতো এক্সারসাইজ করতেই হবে। আধ ঘন্টা সাঁতার, সাইক্লিং, দৌড়ানো বা জিমে গিয়েও হাঁটা যেতে পারে, কিন্তু শরীরচর্চা অবশ্যই করতে হবে।”
মানসিক চাপ কমানো এবং ঘুম
নিজেকে ভালো রাখার জন্য মানসিক চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তাঁর মতে “মানসিক চাপ কমাতে গেলে নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমোতেই হবে। একটা রুটিন ফলো করতে হবে—নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠবো, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাবো।”
মন ভালো থাকাও ডায়েটের অংশ
তিনি মনে করিয়ে দেন, মন ভালো না থাকলে শরীরও ভালো থাকে না। তিনি বলেন “ মন ভালো থাকলে তবেই তো আমরা কাজ করতে পারব। ডোপামিন, অক্সিটোসিন, সেরোটোনিন—এই হরমোনগুলো শরীরে ক্ষরণ হওয়াটা খুব জরুরি।” কীভাবে বাড়ে এই হরমোন? “পোষ্য, প্রিয় বন্ধু, মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে বা স্ত্রী-স্বামীর সঙ্গে থাকলে অক্সিটোসিন সেক্রিশন হয়। ভালো গান শুনলে বা পছন্দের খাবার দেখলে ডোপামিন ক্ষরণ হয়।”
ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে বাড়তি খাওয়া?
ভালোবাসার মরশুমে একটু বাড়তি খাওয়া তো হবেই। পছন্দের খাবার না খেলে কি আর মন ভালো থাকে? সেই বিষয়ে পম্পা রায় বলেছেন “একদিন অন্য খাবার চলতেই পারে। কিন্তু তিন চার রকম খাবার খেয়ে ফেলা যাবে না। একদিন একটু বেশি খেয়েও ফেললে নিয়মিত হাঁটা বা এক্সারসাইজ বন্ধ করা চলবে না। সময় না পেলে অন্তত রাত্রির বেলা শোয়ার আগে আধ ঘন্টা এক্সারসাইজ করে নিতে হবে।”
