Neck pain relief: কথায় কথায় ঘাড় ফাটান? অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে আনছেন না তো!
Cracking joints side effects: ক্লান্তি কাটাতে বা কাজ করতে করতে অনেকেই ঘাড় ফাটিয়ে নেন। তবে ঘনঘন জোর করে ঘাড় ফাটানোর এই অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা খোলসা করে জানালেন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। কী কী একেবারেই করা উচিত নয়?

ঘাড় ফাটানো (Neck Cracking) অনেকের কাছেই ক্লান্তি কাটানোর এক চটজলদি উপায়। বাসে-ট্রেনে যাতায়াতের ভিড়, একটানা কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা কিংবা মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে ঘাড়ে টান লাগলেই অনেকে সটান ঘাড় ডান-বাঁয়ে ঝুঁকিয়ে ‘মট’ করে শব্দ করে নেন। আঙুল ফাটানোর মতোই এই শব্দ কানে এলে মনে হয়, যেন নিমেষেই অনেকটা হালকা লাগল। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাস কি আদৌ শরীরের জন্য নিরাপদ? নাকি নিজের অজান্তেই আপনি বড় কোনও বিপদ ডেকে আনছেন?
অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল রূপেশ প্রসাদ (সিনিয়র কনসালট্যান্ট, পারস হেলথ, পঞ্চকুলা) এই বিষয়ে বিশদ তথ্য দিয়েছেন। তাঁর মতে, আমাদের অস্থিসন্ধি বা জয়েন্টের ভেতরে থাকা তরলে তৈরি হওয়া ছোট ছোট গ্যাসের বুদবুদ ফেটে গেলে কিংবা ভেতরের চাপে বদল এলে এই শব্দ তৈরি হয়। যদি কাজ করার সময় বা স্বাভাবিক নড়াচড়ায় নিজে থেকেই কখনও-সখনও এই শব্দ হয় এবং তার সঙ্গে ব্যথা, ফোলা ভাব বা হাত অবশ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা না থাকে, তবে তা নিয়ে ভয় পাওয়ার বিশেষ কোনও কারণ নেই।
তবে সমস্যা তখনই বাড়ে, যখন কেউ অভ্যাসবশত বারবার জোর করে ঘাড় মুচড়ে শব্দ বের করতে যান। চিকিৎসকের কড়া সতর্কতা, হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে ঘাড় ফাটানো একেবারেই উচিত নয়। এমনটা নিয়মিত করলে ঘাড়ের চারপাশের নরম মাংসপেশি, সূক্ষ্ম লিগামেন্ট ও অস্থিসন্ধির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এর ফলে মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ঘাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, ঘনঘন ঘাড় ফাটানোর প্রবণতার পিছনে ভুল ভঙ্গিতে বসা, দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের মতো কারণ থাকতে পারে।
সব সময় এই সমস্যা অবহেলা করাও ঠিক নয়। যদি ঘাড়ে একটানা তীব্র ব্যথা থাকে, হাতের দিকে ঝিঁঝি ধরা বা অবশ লাগার অনুভূতি ছড়ায়, দুর্বলতা আসে, ঘনঘন মাথা ঘোরে কিংবা কোনও চোট পাওয়ার পর এমন হয়, তবে দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘনঘন ঘাড়ের ওপর অত্যাচার না করে কাজের ফাঁকে হালকা স্ট্রেচিং করা, সোজা হয়ে বসার অভ্যাস তৈরি করা এবং একটানা এক ভঙ্গিতে বসে না থাকাই শরীর সুস্থ রাখার ভালো উপায়।
