Kidney damage: পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরেও ক্লান্তি? কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে এই ৮ লক্ষণ
৪. মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ: পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও মুখ শুকিয়ে থাকলে তার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমার ফলে মুখে ধাতব স্বাদ বা নিঃশ্বাসে অস্বাভাবিক গন্ধ হতে পারে। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অন্যান্য কারণও রয়েছে।

কিডনির সমস্যা অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনও উপসর্গ তৈরি করে না। বরং শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণের সঙ্গে কিডনির সমস্যার কিছু উপসর্গের মিল থাকায় অনেকেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না। ক্লান্তি, পেশিতে টান, বমি বমি ভাব কিংবা প্রস্রাবের রং পরিবর্তনের মতো লক্ষণকে অনেকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও যদি এই উপসর্গগুলি থেকে যায়, তা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
১. পর্যাপ্ত জল খেয়েও ক্লান্তি: পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও যদি সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে, তা হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমতে পারে, যার প্রভাব শরীরের সামগ্রিক কর্মক্ষমতার উপর পড়ে। তবে ক্লান্তির পিছনে রক্তাল্পতা-সহ একাধিক কারণও থাকতে পারে।
২. পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প: ডিহাইড্রেশনের কারণে যেমন পেশিতে টান ধরতে পারে, তেমনই কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিডনি শরীরে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম-সহ বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। সেই ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে পেশিতে টান ধরতে পারে।
৩. বমি বমি ভাব: গরমে জলশূন্যতার কারণে অসুস্থ বোধ করা বা বমি বমি ভাব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করতে না পারলে শরীরে সেই পদার্থ জমে একই ধরনের উপসর্গ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৪. মুখ শুকিয়ে যাওয়া ও নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ: পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও মুখ শুকিয়ে থাকলে তার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমার ফলে মুখে ধাতব স্বাদ বা নিঃশ্বাসে অস্বাভাবিক গন্ধ হতে পারে। তবে মুখ শুকিয়ে যাওয়ার অন্যান্য কারণও রয়েছে।
৫. প্রস্রাবের রং ও গঠনে পরিবর্তন: গাঢ় রঙের প্রস্রাব অনেক সময় শরীরে জলের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। অন্য দিকে, প্রস্রাবে বারবার অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে তা প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। কিডনির ছাঁকনির কাজ ব্যাহত হলে এমনটা ঘটে। তবে শুধু ফেনা দেখেই কিডনির রোগ নিশ্চিত করা যায় না। সমস্যা নিয়মিত হলে প্রস্রাব পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
৬. চোখের চারপাশে ফোলাভাব: ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে সাধারণত শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও সোডিয়াম বেরিয়ে যেতে সমস্যা হতে পারে। পাশাপাশি প্রস্রাবের সঙ্গে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সকালে চোখের চারপাশ ফুলে থাকা কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ।
৭. মনোযোগের অভাব ও চিন্তাভাবনায় সমস্যা: পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা হয় বা মাথা ঝিমঝিম করে, তা হলে তার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কিডনির কার্যক্ষমতা গুরুতরভাবে কমে গেলে রক্তে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই ধরনের সমস্যার পিছনে ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ-সহ অন্যান্য কারণও থাকতে পারে।
৮. সারা শরীরে চুলকানি ও কোমরের কাছে ব্যথা: ডিহাইড্রেশনের কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি হতে পারে। আবার কিডনির দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় খনিজের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়া এবং শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমার কারণেও চুলকানি দেখা দিতে পারে। অন্য দিকে, কোমরের পিছনে বা পাঁজরের নীচে একটানা ব্যথা হলে কিডনিতে পাথর বা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে সব ধরনের কোমরব্যথার সঙ্গে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক নেই।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও যদি ক্লান্তি, পেশিতে টান, প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা, চোখের চারপাশে ফোলাভাব কিংবা কোমরের কাছে স্থায়ী ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা যায়, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাই করা যেতে পারে।
