ফিল্টার থেকে নোংরা জল পড়ছে? মিস্ত্রিকে টাকা না দিয়ে নিজে নিজেই পরিষ্কার করার সহজ কায়দা জেনে নিন
নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ফিল্টারের ক্যান্ডেল বা কার্টিজে আয়রন, শ্যাওলা এবং নোংরা জমে জল পড়ার গতি কমে যায়। অনেক সময় জলের স্বাদও বদলে যায়। তখন ডেস্কেলিং বা সার্ভিসিংয়ের জন্য টেকনিশিয়ানকে ডেকে পকেট থেকে বেশ কিছু টাকা খসাতে হয়।

গরম হোক কিংবা বর্ষা, সুস্থ থাকতে পরিচ্ছন্ন পানীয় জলের কোনও বিকল্প নেই। আর সেই কারণেই আজকাল প্রায় প্রতি ঘরেই শোভা পায় ওয়াটার পিউরিফায়ার বা ওয়াটার ফিল্টার। কিন্তু মুশকিল হল, নিয়মিত ব্যবহারের ফলে ফিল্টারের ক্যান্ডেল বা কার্টিজে আয়রন, শ্যাওলা এবং নোংরা জমে জল পড়ার গতি কমে যায়। অনেক সময় জলের স্বাদও বদলে যায়। তখন ডেস্কেলিং বা সার্ভিসিংয়ের জন্য টেকনিশিয়ানকে ডেকে পকেট থেকে বেশ কিছু টাকা খসাতে হয়।
ব্যস্ত শিডিউলে ফিল্টার পরিষ্কার করার ঝক্কি এড়াতে চান? কোনো রকম বাড়তি খাটনি বা ঘষাঘষি ছাড়াই ঘরের কিছু সাধারণ জিনিস দিয়ে কীভাবে আপনার ওয়াটার ফিল্টার একদম নতুনের মতো ঝকঝকে করে তুলবেন, জেনে নিন সেই সহজ ট্রিক।
এই পদ্ধতিতে আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রাবার দিয়ে ফিল্টারের ক্যান্ডেল ঘষতে হবে না। সামান্য কিছু উপাদানের মিশ্রণই আপনার কাজ করে দেবে।
১. প্রয়োজনীয় উপকরণ:
সাদা ভিনেগার (White Vinegar) অথবা লেবুর রস।
বেকিং সোডা (Baking Soda)।
হালকা গরম জল।
পাওয়ার অফ করুন: শুরু করার আগে বৈদ্যুতিক ওয়াটার পিউরিফায়ার হলে অবশ্যই প্লাগ খুলে মেইন সুইচ বন্ধ করুন এবং ভেতরের সমস্ত জল বের করে দিন।
পার্টসগুলো আলাদা করুন: ফিল্টারের ভেতরের ক্যান্ডেল বা কার্টিজ এবং প্লাস্টিকের জলের ট্যাঙ্কটি সাবধানে খুলে আলাদা করে নিন।
ম্যাজিক মিশ্রণ তৈরি: একটি বড় বালতি বা গামলায় হালকা গরম জল নিন। এবার তাতে ১ কাপ ভিনেগার এবং ২ চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে দিন। (ভিনেগার ও বেকিং সোডার বিক্রিয়ায় যে ফেনা তৈরি হবে, তা নোংরা ও ব্যাকটেরিয়া আলগা করতে ওস্তাদ)।
কোনও খাটনি ছাড়াই অপেক্ষা: এবার খুলে রাখা ফিল্টারের ক্যান্ডেল এবং নোংরা পার্টসগুলো ওই মিশ্রণে ডুবিয়ে রেখে দিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট। আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না, ভিনেগারের অ্যাসিডিক গুণ ক্যান্ডেলের গায়ে জমে থাকা সমস্ত জেদি আয়রন, ক্যালসিয়ামের স্তর আর শ্যাওলাকে নিজে থেকেই গলিয়ে সম্পূর্ণ আলগা করে দেবে।
জলের ট্যাঙ্কের যত্ন: পার্টসগুলো যখন ভিজছে, তখন ফিল্টারের ভেতরের প্লাস্টিকের বডি বা ট্যাঙ্কটিতে সামান্য বেকিং সোডা ও জলের স্প্রে করে ১০ মিনিট রাখুন, তারপর নরম সুতির কাপড় দিয়ে মুছে নিলেই ভেতরের চটচটে ভাব ও গন্ধ উধাও হয়ে যাবে।
সবশেষে ধুয়ে নেওয়া: ৪৫ মিনিট পর বালতি থেকে ক্যান্ডেলগুলো বের করে সাধারণ পরিষ্কার রানিং ওয়াটারে জাস্ট একবার ধুয়ে নিন। দেখবেন, কোনও রকম ঘষাঘষি ছাড়াই সব নোংরা ধুয়ে সাফ হয়ে গেছে এবং ক্যান্ডেল একদম নতুনের মতো সাদা হয়ে উঠেছে।
কেন এই পদ্ধতি সেরা? সাধারণত স্ক্রাবার বা শক্ত ব্রাশ দিয়ে ফিল্টারের ক্যান্ডেল ঘষলে তার গায়ে থাকা সূক্ষ্ম ছিদ্রগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু এই ঘরোয়া লিকুইড পদ্ধতিতে ক্যান্ডেলের ভেতরের কোনও ক্ষতি ছাড়াই ১০০ শতাংশ ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু দূর হয়।
জরুরি টিপস: জলের স্বাদ ও গুণমান বজায় রাখতে প্রতি ১৫ দিন বা ১ মাসে অন্তত একবার এই সহজ উপায়ে ফিল্টার পরিষ্কার করে নিন। এতে ফিল্টারের আয়ু যেমন বাড়বে, তেমনই ঘন ঘন টেকনিশিয়ান ডাকার খরচও বেঁচে যাবে এক লহমায়!
