নারী দিবসের সেরা অঙ্গীকার: সুস্থ থাকুন সহজ ৫ যোগাসন আর পুষ্টিকর ডায়েটে, জানুন সঠিক পদ্ধতি
প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে মাত্র ২০-৩০ মিনিট সময় বের করে নিলেই কেল্লাফতে। এই ব্যায়ামগুলো করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। বালাসন -সারা দিনের কাজের শেষে স্নায়ুকে শান্ত করতে এই আসরটি অতুলনীয়। এটি পিঠের নিচের অংশের ব্যথা কমায়।

সকাল থেকে রাত— ঘর আর বাইরে সমান তালে সামলাতে গিয়ে আজকের নারীরা নিজেদের কথা ভাবার সময় পান খুব কমই। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দাঁড়িয়ে তাই শুধু শুভেচ্ছা নয়, বরং প্রয়োজন এক নতুন সংকল্পের। শরীর ও মনের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ প্রতিদিন তৈরি হয়, তা থেকে মুক্তি পাওয়ার চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের প্রাচীন যোগচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মধ্যে। নামী ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগব্যায়াম কেবল শরীরের নমনীয়তা বাড়ায় না, বরং হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করতেও এর জুড়ি নেই। তাই এই নারী দিবসে অঙ্গীকার করুন কিভাবে নিজেকে সুস্থ রাখা যায়।
শরীরকে রিচার্জ করতে কী কী ব্যায়াম করবেন?
প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে মাত্র ২০-৩০ মিনিট সময় বের করে নিলেই কেল্লাফতে। এই ব্যায়ামগুলো করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।
বালাসন -সারা দিনের কাজের শেষে স্নায়ুকে শান্ত করতে এই আসরটি অতুলনীয়। এটি পিঠের নিচের অংশের ব্যথা কমায়।
পদ্ধতি: যোগ ম্যাটের ওপর দুই হাঁটু মুড়ে গোড়ালির ওপর বসুন। এবার গভীর শ্বাস নিয়ে শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন যাতে কপাল মাটি স্পর্শ করে। হাত দুটো সামনের দিকে ছড়িয়ে দিন অথবা শরীরের দু’পাশে রাখুন। এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট থাকুন।

মার্জারাসন – শিরদাঁড়ার নমনীয়তা বাড়াতে এবং পিরিয়ড চলাকালীন পেটে ব্যথার কষ্ট কমাতে এই আসনটি অবশ্যই রাখুন আপনার রোজের রুটিনে। পদ্ধতি: প্রথমে হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে ম্যাটের ওপর বসুন। হাতের তালু ও হাঁটুতে শরীরের ভর দিন। এবার শ্বাস নিতে নিতে পিঠ নিচের দিকে নামিয়ে মাথা ওপরের দিকে তুলুন (কাউ পোজ)। আবার শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে ওপরের দিকে তুলুন এবং চিবুক বুকের কাছে নিয়ে আসুন (ক্যাট পোজ)। এটি ৫-১০ বার করুন।

বীরভদ্রাসন – এটি আত্মবিশ্বাস ও শারীরিক শক্তি বাড়ায়। এটি পায়ের পেশি মজবুত করে এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে দেয়। পদ্ধতি: দু’পা ৩-৪ ফুট দূরত্বে ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। এবার ডান পা ৯০ ডিগ্রি কোণে ঘোরান এবং বাঁ পা সামান্য ভেতরের দিকে রাখুন। ডান হাঁটু ভাঁজ করুন। দুই হাত দুই পাশে প্রসারিত করে ডান হাতের দিকে তাকিয়ে থাকুন। ৩০ সেকেন্ড পর অন্য পায়ে এটি করুন।

বৃক্ষাসন (Tree Pose):- একাগ্রতা এবং শারীরিক ভারসাম্য রক্ষা করতে এই আসনের বিকল্প নেই। এটি আপনাকে মানসিকভাবে স্থির হতে সাহায্য করবে। পদ্ধতি: সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখুন। এবার ডান পা ভাঁজ করে তার পাতা বাঁ পায়ের উরুর ভেতরের দিকে শক্ত করে চেপে ধরুন। হাত দুটি বুকের কাছে নমস্কারের ভঙ্গিতে আনুন। অন্তত ৩০ সেকেন্ড স্থির থাকার চেষ্টা করুন।
ভুজঙ্গাসন – দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করার ফলে যে কুঁজো হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়, তা কাটাতে এই আসনটি করুন। এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে সচল রাখতেও সাহায্য করে।
পদ্ধতি: পেটের ওপর ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। হাতের তালু দুটি বুকের দু’পাশে মেঝেতে রাখুন। এবার হাতের ওপর হালকা ভর দিয়ে কোমর পর্যন্ত শরীরের ওপরের অংশটি সাপের মতো ওপরে তুলুন। আকাশের দিকে তাকানোর চেষ্টা করুন। ৩০ সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরুন।

শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক খাবার না খেলে পুরো পরিশ্রমই বৃথা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন সামুদ্রিক মাছ বা আখরোট দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ম্যাগনেসিয়ামের জন্য পালং শাক ও প্রোটিনের জন্য ডাল ডায়েটে রাখা মাস্ট।
মিষ্টির বদলে ডার্ক চকলেট ট্রাই করতে পারেন, যা এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ বাড়িয়ে আপনাকে হাসিখুশি রাখবে। রাতে ভালো ঘুমের জন্য অশ্বগন্ধা মেশানো গরম দুধ বা ‘মুন মিল্ক’ খাওয়ার অভ্যাস করুন। এটি আপনার স্ট্রেস লেভেল কমিয়ে গভীর ঘুমে সাহায্য করবে।
