পেট ব্যথার এই ৫ লক্ষণ দেখলেই সাবধান হন, নয়তো যেতে হতে পারে অপারেশন থিয়েটারে!
পেট পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া: যদি দেখেন ব্লোটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে পেটে অসহ্য মোচড় দিচ্ছে এবং পেট হাত দিলে অস্বাভাবিক শক্ত লাগছে, তবে এটি অন্ত্রে ছিদ্র হওয়া বা পেরিটোনাইটিস-এর লক্ষণ হতে পারে।

পেট ফাঁপা বা গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভোগেন না, এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দায়। অতিরিক্ত তেল-ঝাল খাওয়া কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে মাঝেমদ্ধেই পেট আইঢাই করে। আমরা ভাবি, একটা সাধারণ গ্যাসের ওষুধ খেলেই কেল্লাফতে! কিন্তু জানেন কি, আপনার এই সাধারণ ‘ব্লোটিং’ আসলে কোনো বড়সড় বিপদের হাতছানি হতে পারে? চিকিৎসকদের মতে, পেট ফোলা মানেই সবসময় গ্যাস নয়; অনেক সময় এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনও সমস্যার সংকেত যা দ্রুত চিকিৎসা না করালে প্রাণঘাতীও হতে পারে।
কখন সতর্ক হওয়া জরুরি?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, সাধারণ পেট ফাঁপা সাধারণত খাওয়ার কিছুক্ষণ পর শুরু হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর কমে যায়। কিন্তু যদি দেখেন পেট পাথরের মতো শক্ত হয়ে গিয়েছে এবং ব্যথার চোটে সোজা হয়ে দাঁড়ানো যাচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক নয়। ব্রিটিশ লিভার ট্রাস্ট (British Liver Trust)-এর একটি গবেষণা বলছে, অনেক সময় লিভারের সমস্যার কারণে পেটে জল জমলে (Ascites) পেট ফুলে যায়, যা মানুষ সাধারণ গ্যাস ভেবে ভুল করে।
বিপজ্জনক যে ৫টি লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যাবেন না:
পেট পাথরের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া: যদি দেখেন ব্লোটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গে পেটে অসহ্য মোচড় দিচ্ছে এবং পেট হাত দিলে অস্বাভাবিক শক্ত লাগছে, তবে এটি অন্ত্রে ছিদ্র হওয়া বা পেরিটোনাইটিস-এর লক্ষণ হতে পারে।
মলত্যাগ ও বায়ু নিঃসরণ বন্ধ হওয়া: এটি অন্ত্রের ব্লকেজের (Bowel Obstruction) ধ্রুপদী লক্ষণ। যদি অন্ত্রের কোনো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় (Strangulated Hernia), তবে দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে পচন ধরতে পারে।
সবুজাভ বমি ও জ্বর: পেটের সমস্যার সঙ্গে যদি বারবার সবুজ রঙের পিত্ত বমি হয় এবং শরীরে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, তবে বুঝতে হবে পেটের ভেতরে কোনও গভীর সংক্রমণ বা ‘সেপসিস’ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
শরীরের ওজন অস্বাভাবিক কমে যাওয়া: পেট ফোলাভাবের সঙ্গে যদি হুট করে অনেকটা ওজন কমে যায়, তবে সেটি অনেক ক্ষেত্রে ডিম্বাশয় বা কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও মাথা ঘোরা: পেট ফোলার সঙ্গে যদি বুক ধড়ফড় করে, তবে বুঝতে হবে শরীর শকের (Shock) দিকে যাচ্ছে। এটি অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের সংকেত হতে পারে। অপারেশন কি অবধারিত?
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসা পেটের রোগীদের রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা গিয়েছে, সময়মতো চিকিৎসা না করার ফলে অনেকেরই অন্ত্রের একটি অংশ কেটে বাদ দিতে হয়। হার্নিয়া আটকে গেলে বা অন্ত্র পেঁচিয়ে গেলে (Volvulus) জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচারই একমাত্র পথ। আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড এবং সিটি স্ক্যান এখন মুহূর্তের মধ্যেই বলে দিতে পারে সমস্যাটি সাধারণ গ্যাস নাকি সার্জিক্যাল ইমারজেন্সি। তাই এরপর থেকে পেট ফুলে উঠলে শুধু ঘরোয়া টোটকায় ভরসা না করে নিজের শরীরের সংকেত বোঝার চেষ্টা করুন। বেগতিক বুঝলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
