AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

গ্যাসের অগ্নিমূল্যে কাঠের উনুনে রান্না করবেন ভাবছেন? জানুন সুবিধা অসুবিধা

মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে অনেকেই এখন সাবেকি কাঠের উনুনের কথা ভাবছেন। কিন্তু একুশ শতকের ব্যস্ত জীবনে এই ফিরে দেখা কতটা যুক্তিযুক্ত? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কাঠের জালে ধীর আঁচে মাটির বাসনে রান্না করলে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই-ই অটুট থাকে। বিশেষ করে মাংসে বা মাছে সেই 'স্মোকি ফ্লেভার' বা পোড়া গন্ধের স্বাদ আধুনিক গ্যাসে পাওয়া অসম্ভব। গ্রামের দিকে যেখানে জ্বালানি কাঠ সহজলভ্য, সেখানে মাসের শেষে মোটা টাকার গ্যাস বিলের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি মেলে ঠিকই, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও বেশ ভয়ঙ্কর।

গ্যাসের অগ্নিমূল্যে কাঠের উনুনে রান্না করবেন ভাবছেন? জানুন সুবিধা অসুবিধা
| Updated on: Mar 10, 2026 | 5:29 PM
Share

সকালবেলা চায়ের জল চাপাতে গিয়েই ছ্যাঁকা! না, আগুনের নয়, ছ্যাঁকাটা আসলে পকেটের। রান্নার গ্যাসের দাম যে হারে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে এখন রীতিমতো কান্নাকাটি পড়ে গিয়েছে। ডাল-ভাতের চাল জোগাড় করতে গিয়ে যখন হিমশিম অবস্থা, তখন হাজার টাকার ওপর সিলিন্ডারের দাম মেটানো যেন গোদের ওপর বিষফোঁড়া। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- তবে কি গ্যাসের মায়া ত্যাগ করে আবার সেই দিদিমা-ঠাকুমাদের আমলের কাঠের জালে রান্নার দিনেই ফিরে যেতে হবে?

মূল্যবৃদ্ধির এই বাজারে অনেকেই এখন সাবেকি কাঠের উনুনের কথা ভাবছেন। কিন্তু একুশ শতকের ব্যস্ত জীবনে এই ফিরে দেখা কতটা যুক্তিযুক্ত? গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কাঠের জালে ধীর আঁচে মাটির বাসনে রান্না করলে খাবারের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুই-ই অটুট থাকে। বিশেষ করে মাংসে বা মাছে সেই ‘স্মোকি ফ্লেভার’ বা পোড়া গন্ধের স্বাদ আধুনিক গ্যাসে পাওয়া অসম্ভব। গ্রামের দিকে যেখানে জ্বালানি কাঠ সহজলভ্য, সেখানে মাসের শেষে মোটা টাকার গ্যাস বিলের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি মেলে ঠিকই, কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও বেশ ভয়ঙ্কর।

বিশেষজ্ঞরা সাবধান করছেন, কাঠের উনুনের বিষাক্ত ধোঁয়া ফুসফুসের জন্য চরম ক্ষতিকর। বদ্ধ ঘরে এই ধোঁয়া প্রবেশ করলে তা কয়েকশো সিগারেটের সমান বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড তৈরি করে, যা গৃহিণীদের শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির অন্যতম কারণ। এছাড়া শহরের ছোট ফ্ল্যাটে এই ধোঁয়া সামলানো বা ছাই পরিষ্কার করা এক প্রকার অসম্ভব। আগুনের আঁচ নিয়ন্ত্রণ করা এবং কাঠ জোগাড় করার পেছনে যে পরিমাণ সময় ব্যয় হয়, তা আজকের দ্রুতগতির জীবনের সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না।

তবুও পকেটের টানে অনেকেই এখন বিকল্প খুঁজছেন। কেউ ঝুঁকছেন ইলেকট্রিক ইন্ডাকশনে, কেউ আবার চেষ্টা করছেন রান্নার অভ্যাসে বদল ঘটিয়ে গ্যাসের খরচ কমাতে। তবে সাবেকি কাঠের উনুন কোনও নস্টালজিয়া বা শখের রান্নার জন্য সেরা হলেও, প্রাত্যহিক জীবনের লড়াইয়ে তা সমাধান হতে পারে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত কি সরকার ভর্তুকি বাড়িয়ে সাধারণের কষ্ট লাঘব করবে, নাকি আগুনের শিখার বদলে পকেটের আগুন নিয়েই লড়ে যেতে হবে আমজনতাকে— উত্তরটা সময় বলবে।

Follow Us