Electric shock first aid: কারেন্ট শক লাগলে সঙ্গে সঙ্গে করুন এই কাজ
Essential monsoon electric shock first aid advice: বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে দেওয়াল বা জমা জল থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এমন জরুরি অবস্থায় কী করবেন আর কী করবেন না, তা পয়েন্ট আকারে জানালেন চিকিৎসক। ভুলেও করবেন না এই কাজ।

বর্ষাকাল (Monsoon) এলেই চারপাশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে ওঠে, অলিগলিতে জল জমে আর তার সঙ্গেই দ্বিগুণ বাড়ে ইলেকট্রিক শক (Electric Shock) লাগার ঝুঁকি। ভেজা হাত, খোলা তার কিংবা ভিজে থাকা দেওয়ালে হাত লেগেই ঘটে যায় নানা দুর্ঘটনা। কিন্তু চোখের সামনে কাউকে কারেন্ট খেতে দেখলে আপনি ঠিক কী করবেন? বেশিরভাগ মানুষই আচমকা এই বিপদে পড়ে ভয় পেয়ে যান, ফলে দেরি হয়ে যায় মূল চিকিৎসায়। তবে এই চরম মুহূর্তে ঘাবড়ে না গিয়ে মাথা ঠান্ডা রাখা সবথেকে জরুরি বলে সতর্ক করছেন জয়পুরের রুংটা হাসপাতালের (Rungta Hospital) চিকিৎসক ড: রাজীব শর্মা। তিনি তাঁর নিজস্ব সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে বলেছেন,, “বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম ৫ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে অবলীলায় একটা প্রাণ বাঁচানো যায়।”
কারেন্ট লাগলে সঙ্গে সঙ্গে কী কী পদক্ষেপ করা জরুরি?
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা: আক্রান্তকে ছোঁয়ার আগে মেন সুইচ বন্ধ করুন। জল জমে থাকলে বা সুইচ বন্ধ করা না গেলে শুকনো কাঠ, প্লাস্টিক বা শুকনো কাপড় দিয়ে তাঁকে কারেন্টের উৎস থেকে দূরে সরিয়ে আনুন। খালি হাতে বা ভেজা অবস্থায় ছোঁবেন না।
জ্ঞান ও শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা: কারেন্ট থেকে ছাড়ানোর পর রোগী কথা বলছেন কিনা দেখুন। ড: শর্মা বলছেন, “রোগী যদি সাড়া না দেন এবং বুকের স্পন্দন বন্ধ থাকে, তবে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্সে ফোন করুন এবং অবিলম্বে সিপিআর (CPR) অর্থাৎ বুকে চাপ দিয়ে শ্বাস ফেরানোর চেষ্টা শুরু করুন।”
সুস্থ মনে হলেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া: অনেক সময় কারেন্ট লাগার পর মানুষ জ্ঞান হারান না। তবে ডাক্তারদের স্পষ্ট বার্তা, বাইরে থেকে সুস্থ দেখলেও কারেন্টের শকে ভেতরের ‘হার্ট রিদম’ বিগড়ে যেতে পারে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে ইসিজি করিয়ে নেওয়া জরুরি।
পোড়া জায়গায় জলের ব্যবহার: শরীর পুড়ে গেলে ভুলেও বরফ, তেল বা মলম লাগাবেন না। কেবল সাধারণ ঘরের তাপমাত্রার জল ঢালুন।
অঙ্গ স্থির রাখা: শক খেয়ে ছিটকে পড়ে হাড় ভেঙেছে মনে হলে সেই অংশটি না নাড়িয়ে কাঠ বা কাপড় দিয়ে সোজা রেখে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
বর্ষার এই মরসুমে সামান্য একটু সচেতনতা আর এই সহজ নিয়মগুলি মাথায় রাখলেই এড়ানো সম্ভব বড়সড় অঘটন।
