AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

শেয়ার বাজার না মিউচুয়াল ফান্ড: সাধারণ মানুষের জন্য পকেট বাঁচানোর সেরা রাস্তা কোনটি?

সরাসরি কোনও কোম্পানির শেয়ার কেনা মানে আপনি সেই ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। তাই সেই কোম্পানিটি লাভ করছে না লোকসান, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী- এসব খুঁটিনাটি খবর আপনাকে রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যালেন্স শিট বা অর্থনীতির জটিল অঙ্ক বোঝা সব সময় সম্ভব হয় না।

শেয়ার বাজার না মিউচুয়াল ফান্ড: সাধারণ মানুষের জন্য পকেট বাঁচানোর সেরা রাস্তা কোনটি?
| Updated on: Mar 10, 2026 | 5:48 PM
Share

শেয়ার বাজার থেকে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু সেই পথে পা বাড়াতে গিয়েই বাধে বিপত্তি। কেউ সরাসরি শেয়ার কেনেন, কেউ আবার মিউচুয়াল ফান্ডের ওপর ভরসা রাখেন। কিন্তু আপনার জন্য কোনটি সেরা জানেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি শেয়ার বাজারে নামার আগে নিজের কাছে তিনটি প্রশ্ন করা জরুরি— আপনার কি যথেষ্ট জ্ঞান  আছে? আপনার হাতে কি সময় আছে? আর আপনার কাছে কি পর্যাপ্ত পুঁজি  আছে?

যদি এই তিনটির অভাব থাকে, তবে সরাসরি শেয়ার বাজারে না গিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের হাত ধরাই সবচেয়ে নিরাপদ। কেন? আসুন সহজ ভাবে বুঝে নেওয়া যাক।

আপনি কি ব্যবসা বোঝেন?

সরাসরি কোনও কোম্পানির শেয়ার কেনা মানে আপনি সেই ব্যবসার অংশীদার হচ্ছেন। তাই সেই কোম্পানিটি লাভ করছে না লোকসান, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী— এসব খুঁটিনাটি খবর আপনাকে রাখতে হবে। সাধারণ মানুষের পক্ষে ব্যালেন্স শিট বা অর্থনীতির জটিল অঙ্ক বোঝা সব সময় সম্ভব হয় না।

মিউচুয়াল ফান্ডের সুবিধা: এখানে আপনাকে মাথা ঘামাতে হয় না। আপনার হয়ে অভিজ্ঞ এক জন ‘ফান্ড ম্যানেজার’ ঠিক করেন কোন কোম্পানির শেয়ার কেনা উচিত আর কোনটা নয়। তাঁর কাজই হল আপনার টাকাকে সুরক্ষিত রেখে বাড়ানো।

সারাদিন স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা কি সম্ভব?

শেয়ার বাজারের দর প্রতি মিনিটে বদলায়। আজ যে শেয়ারের দাম ১০০ টাকা, কাল তা ৮০ টাকা হয়ে যেতে পারে। সরাসরি বিনিয়োগ করলে আপনাকে সারাক্ষণ খবরের দিকে নজর রাখতে হবে।

মিউচুয়াল ফান্ডের সুবিধা: আপনি একবার এসআইপি (SIP) বা এককালীন টাকা জমা দিয়ে দিলে আপনার কাজ শেষ। আপনাকে রোজ রোজ বাজার দেখার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার চাকরি বা ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে পারেন, আর আপনার টাকা নিজের ছন্দে বাড়তে থাকবে।

অল্প টাকায় কি বড় কোম্পানির মালিক হওয়া যায়?

ভাল মানের একটি কোম্পানির একটি শেয়ার কিনতেই কয়েক হাজার টাকা লেগে যায়। ফলে হাতে অল্প টাকা থাকলে আপনি খুব বেশি কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন না। এতে ঝুঁকি বেড়ে যায়— ওই একটি কোম্পানি ডুবলে আপনার সব টাকা শেষ। মিউচুয়াল ফান্ডের সুবিধা: এখানে মাত্র ৫০০ টাকা দিয়েও আপনি শুরু করতে পারেন। আপনার সেই সামান্য টাকাটিই টাটা, রিল্যায়েন্স বা ইনফোসিসের মতো ৫০-৬০টি বড় কোম্পানিতে ভাগ করে বিনিয়োগ করা হয়। ফলে একটি কোম্পানি খারাপ করলেও অন্যটির লাভে আপনার টাকা সুরক্ষিত থাকে। একেই বলে ‘ডাইভারসিফিকেশন’।

পরিসংখ্যান কী বলছে? তথ্য বলছে, গত ১০ বছরে ভারতের বড় বড় মিউচুয়াল ফান্ডগুলি গড়ে ১২% থেকে ১৫% পর্যন্ত রিটার্ন দিয়েছে। অন্যদিকে, সেবি (SEBI)-র এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সঠিক পরিকল্পনা ও জ্ঞানের অভাবে সরাসরি শেয়ার বাজারে নেমে ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই লোকসান করেছেন। তাই টাকা বিনিয়োগ করুন জেনে বুঝে। যদি আপনি শেয়ার বাজার নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেন এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা থাকে, তবেই সরাসরি শেয়ার কিনুন। কিন্তু আপনি যদি একজন সাধারণ মানুষ হন, যিনি ঝুঁকি এড়িয়ে শান্তিতে নিজের সঞ্চয় বাড়াতে চান, তবে মিউচুয়াল ফান্ডই আপনার জন্য সেরা ঠিকানা। মনে রাখবেন, হুজুগে গা ভাসানোর চেয়ে ধীরস্থির ভাবে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করাই হল আসল বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।

Follow Us