বাচ্চাকে কতটা চিনি দেওয়া নিরাপদ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন…
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সব শিশু ২ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়তি চিনি থেকে দূরে থাকে, বড় বয়সে তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ কমে যায়। এমনকি তাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও ২০ শতাংশ হ্রাস পায়। তাই অন্তত প্রথম ২৪ মাস চিনির স্বাদ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বাচ্চা জেদ করছে বলে হাতে একটা লজেন্স বা বিস্কুট তুলে দিচ্ছেন? কিংবা টিফিনে চটজলদি চিনি দিয়ে ফ্রুট জুস বানিয়ে দিয়ে ভাবছেন পুষ্টি হচ্ছে? একটু সাবধান! আপনার এই ভালোবাসাই কিন্তু অজান্তে খুদের শরীরে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিনির মিষ্টি স্বাদ ছোটদের পছন্দ হলেও, অতিরিক্ত চিনি মানেই স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এমনকি উচ্চ রক্তচাপের হাতছানি। কিন্তু মুশকিল হল, আজকের দিনে চিনি থেকে বাচ্চাকে সরানো কঠিন। তাহলে উপায়? বাচ্চাদের জন্য কতটা চিনি নিরাপদ আর কোনটা এড়িয়ে চলবেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
সব মিষ্টি কিন্তু খারাপ নয়। পুষ্টিবিদদের মতে, গোটা ফল বা খেজুরে যে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তা বাচ্চার জন্য সবচেয়ে ভালো। এতে ভিটামিন, মিনারেল আর ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়তে দেয় না। সমস্যা হল ‘অ্যাডেড সুগার’ নিয়ে। কুকিজ, প্যাকেটজাত জুস বা কোল্ড ড্রিংকসে যে চিনি মেশানো থাকে, তার কোনও পুষ্টিগুণ নেই, কেবল ক্যালোরিই সার।
২ বছর বয়স পর্যন্ত চিনি নয় কেন?
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে সব শিশু ২ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়তি চিনি থেকে দূরে থাকে, বড় বয়সে তাদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ কমে যায়। এমনকি তাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও ২০ শতাংশ হ্রাস পায়। তাই অন্তত প্রথম ২৪ মাস চিনির স্বাদ থেকে বাচ্চাকে দূরে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
কতটা চিনি নিরাপদ?
আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশিকা বলছে, ২ বছরের ওপরের বাচ্চাদের জন্য দিনে বড়জোর ২৫ গ্রাম চিনি খেতে পারে। কিন্তু অবাক করা তথ্য হল, এক বোতল স্পোর্টস ড্রিংক বা প্যাকেটজাত জুসেই এর থেকে অনেক বেশি চিনি থাকে। তাই প্যাকেটজাত খাবার কেনার সময় লেবেল দেখে নিন। খেয়াল রাখবেন, প্রতি ১০০ গ্রাম খাবারে যেন ৪ গ্রামের বেশি চিনি না থাকে।
মিষ্টির ‘আড়ালে’ মেজাজ বিগড়োচ্ছে না তো?
খাওয়ার পরপরই বাচ্চা খুব ছটফটে হয়ে ওঠা বা অকারণে কান্নাকাটি করা—এগুলো কিন্তু অতিরিক্ত চিনির ফল হতে পারে। রক্তে সুগার লেভেল ওঠানামা করলে বাচ্চাদের মেজাজও খিটখিটে হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়ে তাদের দাঁত এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর।
কীভাবে লাগাম টানবেন?
চিনি একেবারে বন্ধ করা অসম্ভব। জন্মদিন বা উৎসবে মিষ্টি থাকবেই। তবে রোজকার অভ্যেসে বদল আনা জরুরি। প্যাকেটজাত জুসের বদলে দিন গোটা ফল। বাড়িতে কেক বানালে চিনির বদলে গুড় বা মধু ব্যবহার করুন। সবচেয়ে বড় কথা, বাচ্চাকে ছোট থেকেই বিভিন্ন স্বাদের খাবারের সঙ্গে পরিচয় করান, যাতে তার কেবল মিষ্টির প্রতিই আসক্তি তৈরি না হয়।
