জন্মের পরেই ডায়াবেটিস? ভরসা মায়ের দুধ-বলছে চিকিৎসাবিজ্ঞান
উপসর্গ অনেক সময় অস্পষ্ট হয়,যেমন-ওজন না বাড়া, অতিরিক্ত প্রস্রাব, জলশূন্যতা, অস্বাভাবিক কান্নাকাটি। এগুলো সাধারণ নবজাতক সমস্যার সঙ্গেও মিলে যায়। ফলে রক্তে শর্করা পরীক্ষা না করলে বিষয়টি জানা নাও যেতে পারে। শিশুর রক্তে বারবার উচ্চ শর্করা ধরা পড়লে জেনেটিক টেস্ট করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

নবজাতক কোলে আসার আনন্দ তখনও ফিকে হয়নি। তার মধ্যেই ডাক্তার জানালেন, শিশুর রক্তে শর্করা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি! পরিবারে নেমে এল আতঙ্ক। এত ছোট্ট বাচ্চার আবার ডায়াবেটিস হয় নাকি? চিকিৎসকরা বলছেন, হয়—তবে সেটি সাধারণ ডায়াবেটিস নয়, বিরল। নাম ‘নিওনেটাল ডায়াবেটিস’। তবে বিরল হলেও এই অসুখ জিনগত।
কী বলছে বৈজ্ঞানিক গবেষণা?
The New England Journal of Medicine এবং International Society for Pediatric and Adolescent Diabetes (ISPAD)-এর গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, নিওনেটাল ডায়াবেটিস প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ–২ ডায়াবেটিসের মতো নয়। এর প্রধান কারণ জিনগত পরিবর্তন। বিশেষ করে KCNJ11, ABCC8, INS জিনে ত্রুটি থাকলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে সমস্যা হয়। চিকিৎসা গবেষণা বলছে, এই রোগের দু’টি ধরন রয়েছে Transient Neonatal Diabetes (সাময়িক) Permanent Neonatal Diabetes (স্থায়ী) ২০০৬ সালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, KCNJ11 জিনে ত্রুটি থাকা বহু শিশুকে ইনসুলিনের পরিবর্তে ওরাল সালফোনাইলইউরিয়া ওষুধে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
কেন দেরিতে ধরা পড়ে?
উপসর্গ অনেক সময় অস্পষ্ট হয়,যেমন-ওজন না বাড়া, অতিরিক্ত প্রস্রাব, জলশূন্যতা, অস্বাভাবিক কান্নাকাটি। এগুলো সাধারণ নবজাতক সমস্যার সঙ্গেও মিলে যায়। ফলে রক্তে শর্করা পরীক্ষা না করলে বিষয়টি জানা নাও যেতে পারে। শিশুর রক্তে বারবার উচ্চ শর্করা ধরা পড়লে জেনেটিক টেস্ট করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
মায়ের দুধ—কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ইউনিসেফের সুপারিশ অনুযায়ী, জন্মের পর প্রথম ছ’মাস শুধুই মায়ের দুধই আসল পুষ্টি। নিওনেটাল ডায়াবেটিস থাকলেও এর ব্যতিক্রম নয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মায়ের দুধে থাকা ইমিউনোগ্লোবুলিন, ল্যাকটোফেরিন এবং সঠিক অনুপাতে শর্করা ও চর্বি শিশুর বিপাকক্রিয়াকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। একাধিক পেডিয়াট্রিক গবেষণায় উল্লেখ আছে, মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো শিশুদের গ্লুকোজ ওঠানামা তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই রোগ মায়ের খাদ্যাভ্যাস বা গর্ভাবস্থার কোনও ‘ভুল’-এর কারণে হয় না। এটি সম্পূর্ণ জিনগত সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা হলে শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
