Protein sources: বিউলি, মুসুর, মুগ না অড়হর, কোন ডালের পুষ্টিগুণ বেশি?
Best dal for protein: বাঙালি আর ডাল-ভাত সমার্থক! কিন্তু প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে কোন ডাল সবচেয়ে বেশি কার্যকরী? রোজকার ডায়েটে মুগ, মুসুর নাকি বিউলি-কোনটা রাখবেন, জানুন পুষ্টিবিদের সহজ টিপস। কোনটা রোজ খাবেন?

ডাল (Dal) বা নিরামিষ প্রোটিনের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত আর এক বাটি ডাল। বাঙালি বাড়ির রোজকার মেনুতে ডাল থাকবে না, এমনটা কখনও হয় না। যাঁরা নিরামিষ খান, তাঁদের প্রোটিনের সবচেয়ে বড় ভরসা হল এই ডাল। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, রোজ যে ডালটা তৃপ্তি করে খাচ্ছেন, সেটা থেকে আপনার শরীর কতটা প্রোটিন পাচ্ছে? মুগ, মুসুর, অড়হর নাকি বিউলি, প্রোটিনের এই মহা-লড়াইয়ে কে কাকে টেক্কা দিচ্ছে?
বিউলির ডাল ইডলি, ধোসা বা ডাল মাখানির মতো খাবারের প্রাণ হল এই ডাল। পুষ্টির দিক থেকে বিউলির ডাল হল প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের এক দুর্দান্ত উৎস। যাঁরা নিরামিষ খেয়ে পেশি মজবুত করতে চান, তাঁদের জন্য এটি দারুণ উপকারী। পাশাপাশি এটি শরীরে শক্তি জোগায়। তবে রান্নার পর এই ডাল ফুলে ডবল হয়ে যায়, তাই শুকনো অবস্থায় যতটা প্রোটিন থাকে বলে মনে হয়, রান্নার পর তার হিসেবে কিছুটা ফারাক আসে।
মুসুর ডাল হাতে সময় কম থাকলে চটজলদি রান্নার জন্য মুসুর ডাল হল সেরা। এতে শুধু প্রোটিনই নয়, রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যাঁরা রক্তাল্পতায় ভুগছেন বা শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের জন্য মুসুর ডাল খুব উপকারী। এটি হজমও তুলনামূলকভাবে দ্রুত হয় এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।
অড়হর ডাল গরম ভাতের সঙ্গে এক বাটি অড়হর ডাল আর একটু ঘি— ব্যস, দিনটা একেবারে জমে যায়! প্রোটিনের পাশাপাশি এই ডালে রয়েছে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং ফলিক অ্যাসিড। এর সবচেয়ে বড় গুণ হল, এই ডাল খাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং শরীরে সারাদিন একটা স্টেডি এনার্জি বা শক্তি বজায় থাকে।
মুগ ডাল শরীরটা একটু খারাপ বা পেট ভার? চোখ বুজে ভরসা রাখুন মুগ ডালে। এটি সব ডালের মধ্যে হজম করা সবচেয়ে সহজ। পেটের কোনও সমস্যা থাকলে মুগ ডাল একেবারে ওষুধের মতো কাজ করে। এতে ক্যালোরি কম, কিন্তু প্রোটিন ভরপুর, তাই ওজন কমাতেও এটি দারুণ কাজ দেয়।
কোন ডাল সেরা? পুষ্টিবিদদের মতে, কোনও একটি নির্দিষ্ট ডালকে ‘সেরা’ বলা যায় না, কারণ সব ডালেরই নিজস্ব কিছু বিশেষ পুষ্টিগুণ রয়েছে। তাই রোজ একঘেয়ে একই ডাল না খেয়ে, ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা রকম ডাল খাওয়া উচিত। মুগ ও মুসুর, কিংবা অড়হর ও মুসুর একসঙ্গে মিশিয়ে রান্না করলে শরীর সব রকমের পুষ্টি একসঙ্গে পায়।
শেষে একটা ছোট্ট সিক্রেট! শুধু এক বাটি ডাল খেলেই কিন্তু প্রোটিনের ষোলো আনা লাভ মেলে না। শরীরে সব কটি অ্যামিনো অ্যাসিড ঠিকমতো পৌঁছনোর জন্য ডালের সঙ্গে ভাত, রুটি বা বাজরার মতো কোনও না কোনও শস্য খাওয়া খুব জরুরি। তবেই ডাল আর শস্যের এই সুপারহিট জুটিতে আপনার শরীর সম্পূর্ণ প্রোটিন পাবে!
