Ramadan Eid 2026: ইদ স্পেশাল শাহী হালিম! বাড়ির রান্নাঘরেই তৈরি করুন রেস্তোরাঁর মতো সুস্বাদু এই পদ
দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর শরীরের প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা মেটাতে হালিমের কোনও বিকল্প নেই। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই শরীরের জন্য বেশ পুষ্টিকর। তবে দোকানের হালিমে অনেক সময় অতিরিক্ত তেল বা মশলা থাকে। তাই ইদ উপলক্ষে বাড়িতে বানানো স্বাস্থ্যকর হালিমই আপনার বিশেষ দিনকে আরও বিশেষ করে তুলতে পারে।

রমজান মাসের শেষে খুশির ইদ মানেই কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া আর প্রিয়জনদের সঙ্গে আড্ডা। ইদের সকালে সেমাই আর বিকেলের আড্ডায় যদি এক বাটি ধোঁয়া ওঠা ‘শাহী হালিম’ থাকে, তবে উৎসবের আমেজটাই বদলে যায়। অনেকে মনে করেন, বাড়িতে দোকানের মতো পারফেক্ট হালিম বানানো বোধহয় খুব কঠিন কাজ! আসলে কিন্তু তা নয়। সঠিক উপকরণ আর একটু ধৈর্য নিয়ে রাঁধলে নিজের রান্নাঘরেই তৈরি করে ফেলা যায় জিভে জল আনা এই রাজকীয় পদ।
কেন এই হালিম স্পেশাল?
হালিম মূলত ডাল, গম এবং মাংসের মেলবন্ধনে তৈরি খাবার। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর শরীরের প্রোটিন এবং কার্বোহাইড্রেটের যে ঘাটতি তৈরি হয়, তা মেটাতে হালিমের কোনও বিকল্প নেই। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনই শরীরের জন্য বেশ পুষ্টিকর। তবে দোকানের হালিমে অনেক সময় অতিরিক্ত তেল বা মশলা থাকে। তাই ইদ উপলক্ষে বাড়িতে বানানো স্বাস্থ্যকর হালিমই আপনার বিশেষ দিনকে আরও বিশেষ করে তুলতে পারে।
উপকরণ যা যা লাগবে
প্রথমে ডাল ও শস্যের মিশ্রণটি তৈরি করে নিন। এর জন্য প্রয়োজন: মুগ, মুসুর, ছোলার ডাল এবং মাষকলাই ডাল (সব মিলিয়ে আধ কাপ)। আধ কাপ ভাঙা গম বা ডালিয়া।
মাংস (৫০০ গ্রাম, ছোট ছোট টুকরো করা)।
পেঁয়াজ কুচি, আদা-রসুন বাটা, কাঁচালঙ্কা। গরম মশলা গুঁড়ো, ধনে ও জিরে গুঁড়ো, লঙ্কার গুঁড়ো।
পরিমাণমতো নুন ও সরষের তেল বা ঘি।
প্রস্তুত প্রণালী: ধাপে ধাপে
ডাল এবং গম অন্তত ৪-৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এরপর সামান্য নুন ও হলুদ দিয়ে প্রেসার কুকারে সিটি দিয়ে একদম নরম করে সেদ্ধ করে নিন। সেদ্ধ হয়ে গেলে ডাল ঘুটনি দিয়ে একটু ম্যাশ করে রাখুন।
কড়াইতে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিন। লালচে হয়ে এলে আদা-রসুন বাটা ও সব গুঁড়ো মশলা দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন। এবার মাংসের টুকরোগুলো দিয়ে দিন। মনে রাখবেন, মাংস যত কষাবেন, স্বাদ তত খুলবে। মাংস নরম হয়ে তেল ছাড়লে তাতে সামান্য জল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন।
এবার সেই সেদ্ধ করে রাখা ডালের মিশ্রণটি মাংসের মধ্যে ঢেলে দিন। আঁচ কমিয়ে ঘন ঘন নাড়তে থাকুন যাতে তলায় লেগে না যায়। ডাল আর মাংস যখন মিলেমিশে একাকার হয়ে ঘন থকথকে হয়ে আসবে, বুঝবেন আপনার হালিম প্রায় তৈরি।
হালিমের আসল স্বাদ কিন্তু লুকানো থাকে তার সাজানোয়। বাটিতে ঢেলে ওপর থেকে পেঁয়াজ বেরেস্তা (ভাজা পেঁয়াজ), কুচোনো আদা, ধনেপাতা, কাঁচালঙ্কা কুচি আর এক টুকরো পাতিলেবুর রস ছড়িয়ে দিন। ব্যস! তৈরি আপনার ঘরোয়া শাহী হালিম। এবারের ইদ উৎসবে ইফতার বা ডিনারের টেবিলে এই পদটি দিয়ে সবাইকে চমকে দিন।
