Bangladeshi arrested Jalpaiguri: ভোটের মুখে আবারও বঙ্গে বাংলাদেশি গ্রেফতার, চরমে রাজনৈতিক চাপানউতোর
Illegal immigration Jalpaiguri: কংগ্রেসের জেলা কমিটির সদস্য নব্যেন্দু মৌলিক কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়কে দুষেছেন।তিনি বলেন, "কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য একদিকে রাজ্য জমি দিচ্ছে না।অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা BSF সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারছে না।এর সঙ্গে রাজ্যে অনুপ্রবেশ ত্বত্ত্ব খাঁড়া করে একশ্রেণির মানুষকে টার্গেট করে SIR করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে যাচ্ছে। আমরা এখনও আন্দোলন চালাচ্ছি।"

জলপাইগুড়ি: ১০ দিনে জলপাইগুড়িতে দু’দফায় ১৬ জন বাংলাদেশি গ্রেফতার হয়েছে। এই নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনে অভিযান চালায় RPF। শিশু-সহ মোট ১৪ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, এরা সকলেই বাংলাদেশ থেকে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। তাঁরা কাজের সন্ধানে দিল্লি হয়ে কাশ্মির যাচ্ছিলেন। ধৃতদের আদালতে তুলে হেফাজতে নেয় ময়নাগুড়ি GRP থানার পুলিশ।
কয়েকদিন পর জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার অধীনে থাকা মানিকগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকায় রাতের অন্ধকারে সন্দেহজনকভাবে দু’জনকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন, তাঁদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তাঁদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, তাঁরা বাংলাদেশি নাগরিক। পেটের টানে কাজের খোঁজে দালালের হাত ধরে উন্মুক্ত সীমান্ত ব্যবহার করে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। তাঁরা দিল্লি যাচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। ভোটের আবহে মাত্র দশ দিনে ১৬ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হওয়ায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশের অধীনে থাকা রাজগঞ্জ, কোতোয়ালি, ময়নাগুড়ি থানা কেবলমাত্র এই ৩ থানা এলাকার তথ্য। ২০২৫ সালে বেশ কয়েক দফায় মোট ২৪ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছে। ২০২৬ সালে বেশ কয়েক দফায় আজ পর্যন্ত ২১ জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছে।
বাংলাদেশি ইস্যুতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য জিয়াউল আলম বলেন, “যেইভাবে ঢাকঢোল পিটিয়ে কোটি কোটি বাংলাদেশির কথা বলা হয়েছিল, সেই তুলনায় এই সংখ্যা নগণ্য। তবে অনুপ্রবেশ হবে কেন? বিএসএফ সীমান্তে কী করছিল?”
কংগ্রেসের জেলা কমিটির সদস্য নব্যেন্দু মৌলিক কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়কে দুষেছেন।তিনি বলেন, “কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য একদিকে রাজ্য জমি দিচ্ছে না।অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে থাকা BSF সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে পারছে না।এর সঙ্গে রাজ্যে অনুপ্রবেশ ত্বত্ত্ব খাঁড়া করে একশ্রেণির মানুষকে টার্গেট করে SIR করা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে যাচ্ছে। আমরা এখনও আন্দোলন চালাচ্ছি।”
তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র শুভঙ্কর মিশ্র বলেন, “সিপিএমের আমল থেকে অনুপ্রবেশ সমস্যা শুরু হয়েছে। ‘১৪ সালে বিজেপি কেন্দ্রে বসার পর থেকে অনুপ্রবেশ সমস্যা বেড়েছে। বিএসএফ সীমান্ত দেখে। তারা কী করছে? যত বাংলাদেশি গ্রেফতার হয়েছে , তার বেশিরভাগকে রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করেছে।”
বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য জীবেশ দাস বলেন,”অতীতে কংগ্রেস ও সিপিএম এবং বর্তমানে তৃণমূল। এই ৩ রাজনৈতিক দলের বদান্যতায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে বাংলা। কংগ্রেস ও সিপিএম যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এদের ভোট ব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করেছে। বর্তমানে তৃণমূল এদের লালন পালন করে ভোটব্যাঙ্ক আরও বাড়িয়েছে। এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসলেই সবার আগে রাজ্যের উন্মুক্ত সীমান্ত সমস্যা মিটিয়ে সীমান্ত সুরক্ষিত করবে। তাই আমরা বলছি এবারের ভোট আপনার অস্তিত্ব রক্ষার ভোট।”
