ছোটবেলা থেকেই কি শিশুদের ধর্মীয় আচার শেখানো উচিত?
সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ধর্মীয় শিক্ষা, ভয়, শাস্তি বা বাধ্যবাধকতার রূপ নেয়। ইউনিসেফ ও বিভিন্ন শিশু অধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি ধর্মীয় অনুশাসনে বড় হওয়া কিছু শিশুদের মনের অসুখ দেখা যায়। এছাড়াও, একমুখী ধর্মীয় শিক্ষা যদি অন্য মত বা বিশ্বাসকে অস্বীকার করতে শেখায়, তাহলে শিশুর মধ্যে সহনশীলতার অভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খুব ছোটবেলায় কঠোর ধর্মীয় ছাঁচে বড় হওয়া কিছু শিশু বড় হয়ে নতুন ধারণা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে।

শিশু মানেই কৌতূহল,মনে প্রশ্নের সম্ভার আর শেখার অদম্য আগ্রহ। পরিবার, সমাজ ও সংস্কৃতির হাত ধরেই তার প্রথম পরিচয় হয় সমাজের সঙ্গে। এই পথচলায় ধর্মীয় আচার–অনুশীলনও অনেক পরিবারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা শিশুকে সঠিক মানুষ করে তোলে। আবার কারও আশঙ্কা অতিরিক্ত ধর্মীয় অনুশাসন শিশুর স্বাধীন চিন্তাকে যদি আটকে দেয়। শিশুদের ধর্মীয় আচার শেখানো কি সত্যিই ভাল, নাকি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে?
কী বলছেন মনোবিদরা?
মনোবিদদের মতে, ধর্মীয় আচার যদি সহজভাবে, আনন্দের সঙ্গে ও চাপহীনভাবে শেখানো হয়, তাহলে তা শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (APA)-এ প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় বলা হয়েছে—ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠা অনেক শিশুর মধ্যে সহানুভূতি, ধৈর্য, নিয়মানুবর্তিতা ও নৈতিক বোধ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রার্থনা, উৎসব বা ধর্মীয় গল্পের মধ্যে শিশুরা থাকলে তাঁদের পারিবারিক বন্ধন মজবুত হয়। একইসঙ্গে ‘আমি একা নই’—এই অনুভূতি ছোটদের আত্মবিশ্বাস গঠনে সাহায্য করে।
ক্ষতির আশঙ্কা কোথায়?
সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন ধর্মীয় শিক্ষা, ভয়, শাস্তি বা বাধ্যবাধকতার রূপ নেয়। ইউনিসেফ ও বিভিন্ন শিশু অধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি ধর্মীয় অনুশাসনে বড় হওয়া কিছু শিশুদের মনের অসুখ দেখা যায়। এছাড়াও, একমুখী ধর্মীয় শিক্ষা যদি অন্য মত বা বিশ্বাসকে অস্বীকার করতে শেখায়, তাহলে শিশুর মধ্যে সহনশীলতার অভাব তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খুব ছোটবেলায় কঠোর ধর্মীয় ছাঁচে বড় হওয়া কিছু শিশু বড় হয়ে নতুন ধারণা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে- ভারসাম্যই মূল চাবিকাঠি। ধর্মীয় আচার শেখানো যেতে পারে, কিন্তু তা যেন কখনও শিশুর উপর বোঝা না হয়, আচার শেখানোর পাশাপাশি নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ শেখানো জরুরি শিশুদের নিজে থেকে ধর্মীয় আচার শেখা ভাল,তবে বিষয়টি নির্ভর করে কীভাবে এবং কতটা শেখানো হচ্ছে তার উপর। চাপ, ভয় ও জোরাজুরি থাকলে শিশুমনে নীরব ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।
