Rosogollar Kofta Curry: লাগবে ৫ টি রসগোল্লা আর এই ম্যাজিক ফোঁড়ন! পুজোয় তৈরি করুন রসগোল্লা কোপ্তা কারি
Bengali Cooking Recipe: সাদা ধবধবে নরম তুলতুলে রসগোল্লা তো মিষ্টিমুখের শেষ পাতে আমরা হামেশাই খেয়ে থাকি, কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন এই মিষ্টি দিয়েই তৈরি হতে পারে এক অতুলনীয় সুস্বাদু ঝাল-মশলার পদ? হ্যাঁ, আজ আপনাদের জন্য রইল জিভে জল আনা ‘রসগোল্লার কোপ্তা কারি’-র রেসিপি, যা ট্রাই করলে চারপাশের সবাই আপনার রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে বাধ্য।

বাঙালির হেঁশেল মানেই নিত্যনতুন পরীক্ষানিরীক্ষা আর স্বাদের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। আর যদি উপলক্ষটা হয় কোনও বিশেষ পুজো-পার্বণ কিংবা ছুটির দুপুরের রাজকীয় লাঞ্চ, তবে পাতে একটু চমক থাকা চাই-ই চাই! সাদা ধবধবে নরম তুলতুলে রসগোল্লা তো মিষ্টিমুখের শেষ পাতে আমরা হামেশাই খেয়ে থাকি, কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন এই মিষ্টি দিয়েই তৈরি হতে পারে এক অতুলনীয় সুস্বাদু ঝাল-মশলার পদ? হ্যাঁ, আজ আপনাদের জন্য রইল জিভে জল আনা ‘রসগোল্লার কোপ্তা কারি’-র রেসিপি, যা ট্রাই করলে চারপাশের সবাই আপনার রান্নার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে বাধ্য।
এই লোভনীয় পদটি বানানোর জন্য প্রথমে গুছিয়ে নিতে হবে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ। লাগবে ৫টি রসগোল্লা, ফোঁড়নের জন্য ১ চা চামচ জিরে, ২টি শুকনোলঙ্কা ও ১টি তেজপাতা। গ্রেভির স্বাদ ও ঘনত্ব বাড়াতে প্রয়োজন পড়বে ৩-৪ টেবিল চামচ টম্যাটো বাটা, ১ চা চামচ আদা বাটা, ২ টেবিল চামচ কাঁচালঙ্কা বাটা, ১ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো এবং ১ টেবিল চামচ কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো। এর পাশাপাশি গ্রেভির রিচনেস আনতে লাগবে ২ টেবিল চামচ ধনে, জিরে, কাজুবাদাম, পোস্ত ও চারমগজ বাটা। সঙ্গে পরিমাণমতো দুধ, স্বাদমতো নুন-চিনি, আর রান্নার শেষ ছোঁয়া দেওয়ার জন্য ১ টেবিল চামচ খাঁটি ঘি ও ১ চা চামচ গরম মশলা গুঁড়ো।
শুরুতেই কড়াইতে পরিমিত তেল গরম করে নিন। তেল গরম হয়ে এলে তাতে জিরে, তেজপাতা ও শুকনোলঙ্কার মিষ্টি ফোঁড়ন দিতে হবে, যার সুবাস গোটা রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়তেই তৈরি হবে রান্নার আসল মুড। এরপর একে একে কড়াইতে মিশিয়ে দিতে হবে টম্যাটো বাটা, কাঁচালঙ্কা বাটা আর আদা বাটা। মশলাটি খুব ভালো করে কষিয়ে নিয়ে তার মধ্যে একে একে হলুদ গুঁড়ো ও কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ছড়িয়ে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে, যতক্ষণ না মশলা থেকে চমৎকার সুবাস বের হয়। এর পরেই গ্রেভির মূল সিক্রেট—ধনে, জিরে, কাজুবাদাম, পোস্ত এবং চালমগজের বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে মশলার সঙ্গে কষাতে শুরু করতে হবে। যখন দেখা যাবে মশলার চারপাশ থেকে তেল ছাড়তে শুরু করেছে, তখন বুঝবেন গ্রেভির বেস একেবারে তৈরি।
মশলার এই চমৎকার মিশ্রণে এ বার ধীরে ধীরে পরিমাণমতো দুধ ঢেলে দিতে হবে, যা গ্রেভিটিকে করে তুলবে আরও ক্রিমি ও সুস্বাদু। ঝোল ফুটে উঠলে স্বাদমতো নুন ও মিষ্টির ভারসাম্য বজায় রেখে ঝোলটিকে ফুটতে দিন। এই ফাঁকে মূল প্রস্তুতি—কড়াইতে নামানোর আগে রসগোল্লাগুলোকে সাধারণ জলে কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তাদের গায়ের অতিরিক্ত মিষ্টি ও রস নরম হাতে আলতোভাবে চিপে বের করে নিতে হবে। রস ঝরানো সেই নরম তুলতুলে রসগোল্লাগুলি এ বার ফুটন্ত ঝোলের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে মিনিট দুয়েক মৃদু আঁচে ফুটিয়ে নিতে হবে, যাতে গ্রেভির সমস্ত সুস্বাদু ফ্লেভার রসগোল্লার ভেতরে সমানভাবে ঢুকে যায়।
রান্না শেষের ঠিক আগে, নামানোর ঠিক আগের মুহূর্তে উপর থেকে ছড়িয়ে দিন এক চামচ খাঁটি ঘি আর সুবাসিত গরম মশলা গুঁড়ো। এর পর কড়াইয়ের ঢাকনা বন্ধ করে গ্যাস নিভিয়ে মিনিট দশেক সেটিকে ‘স্ট্যান্ডিং টাইম’-এ ঢাকা দিয়ে রাখুন। ব্যস, এই দশ মিনিটেই সমস্ত মশলার সুবাস রসগোল্লার কোপ্তার অন্দরে পুরোপুরি মিশে যাবে। এ বার আর দেরি কীসের? পুজোর ভোগের থালা হোক কিংবা রবিবারের গরমাগরম সুগন্ধী পোলাওয়ের সঙ্গে, পরিবেশন করুন এই রাজকীয় রসগোল্লার কোপ্তা কারি।
