Side Effects of eating Wheat: রোজ আটার রুটি খাচ্ছেন? বিপদ ডাকছেন না তো!
বহু ডায়েটিশিয়ান ও ফিটনেস ফ্রিক এখন আটাকে ডায়েট থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, গমের আটা খেলে ওজনের পাশাপাশি শরীরে মেদ বাড়ে এবং নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সত্যিই কি আটার রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এটি কি সত্যিই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

ভারতীয়দের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গমের আটার ভূমিকা অনস্বীকার্য। সকালের জলখাবারের নরম রুটি থেকে শুরু করে রাতের গরম পরোটা—আটা ছাড়া আমাদের একদিনও চলে না। তবে ইদানীং সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিটনেসপ্রেমীদের মধ্যে একটি নতুন ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে, যার নাম ‘নো হুইট ফ্লাওয়ার’ (No Wheat Flour) বা আটা বর্জন। বহু ডায়েটিশিয়ান ও ফিটনেস ফ্রিক এখন আটাকে ডায়েট থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, গমের আটা খেলে ওজনের পাশাপাশি শরীরে মেদ বাড়ে এবং নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু সত্যিই কি আটার রুটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? এটি কি সত্যিই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়?
আপনিও যদি এই দ্বিধায় ভুগে থাকেন, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য। এই বিষয়ে ফোর্টিস হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ শুভম বৎসল জানিয়েছেন, গমের আটা স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি ক্ষতিকর নয়। তবে এটি ভুল পরিমাণে এবং ভুল উপায়ে খেলে শরীরে একাধিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা সাইড ইফেক্ট দেখা দিতে পারে।
ঠিক কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?
ডাঃ শুভম বৎসল জানান, গম সবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে হ্যাঁ, যদি এটি ভুল উপায়ে এবং অতিরিক্ত মাত্রায় খাওয়া হয়, তবে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। প্রথমত মনে রাখা দরকার, গম হল একটি ‘কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট’ (Complex Carbohydrate), যার মধ্যে গ্লুটেন (Gluten)-এর মাত্রা অনেক বেশি থাকে। তাই যাঁরা গ্লুটেন-অ্যালার্জি বা সিলিয়াক ডিজিজে ভুগছেন, তাঁদের আটা এড়িয়ে চলাই উচিত।
আটার রুটি কেন ক্ষতিকর হতে পারে?
বিশেষজ্ঞের মতে, আপনি যদি প্রতিদিন তিন বেলা বা অতিরিক্ত মাত্রায় আটার রুটি খান, তবে তা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক প্রমাণিত হতে পারে। কারণ,আটার রুটি খাওয়ার পর রক্তে হঠাৎ করে শর্করার মাত্রা বা সুগার স্পাইক (Sugar Spike) হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে একটানা এমনটা চলতে থাকলে তা ওজন বৃদ্ধি এবং ‘ফ্যাটি লিভার’ (Fatty Liver)-এর অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তাহলে আটা খাওয়ার সঠিক নিয়ম কী?
তার মানে এই নয় যে, আজ থেকেই ডায়েট থেকে আটাকে পুরোপুরি ছেঁটে ফেলতে হবে। এর জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। আটার পরিমাণ কমিয়ে তার সঙ্গে অন্য কোনও পুষ্টিকর শস্যের আটা মিশিয়ে নিলে এর ‘গ্লাইসেমিক ইনডেক্স’ (Glycemic Index) অনেকটাই কমে যায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: আপনি যদি সুগারের রোগী হন, তবে গমের আটার সঙ্গে জোয়ারের (Jowar) আটা মিশিয়ে রুটি তৈরি করুন। এতে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
প্রোটিনের ঘাটতি মেটাতে: শরীরে প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে চাইলে গমের আটার সঙ্গে বাজরার (Bajra) আটা মেশানো অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।
অ্যানিমিয়া বা আয়রনের ঘাটতি দূর করতে: শরীরে রক্তের বা আয়রনের অভাব থাকলে রাগির (Ragi) আটা মেশানো সবচেয়ে সেরা বিকল্প।
জোয়ার, বাজরা এবং রাগি—এই তিনটি শস্যই অত্যন্ত পুষ্টিগুণে ভরপুর। এগুলো গমের আটার সঙ্গে মিশিয়ে ‘মাল্টিগ্রেন’ বানিয়ে খেলে ওজন যেমন দ্রুত কমবে, তেমনই প্রোটিন ও আয়রনের ঘাটতিও দূর হবে। তাই অন্ধভাবে আটা খাওয়া বন্ধ না করে, খাওয়ার অভ্যাসে একটু বদল আনুন—তাতেই সুস্থ থাকবে শরীর!
