সিলিন্ডার নিয়ে চিন্তা? গ্যাস বাঁচাতে ট্রাই করুন এই রেসিপিগুলো
চিড়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন যাতে ঝরঝরে থাকে। কড়াইতে সামান্য তেলে বাদাম ও সবজিগুলো ভেজে নিন। এবার নুন ও সামান্য চিনি মিশিয়ে চিড়ে দিয়ে দিন। আঁচ বন্ধ করে মিনিট পাঁচেক ঢাকা দিয়ে রাখুন। ভাপেই চিড়ে নরম হয়ে যাবে, বাড়তি আগুনের দরকার নেই।

মাসকাবারি বাজারের ফর্দ করতে গিয়ে মধ্যবিত্তের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। যে হারে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের দাম বাড়ছে, তাতে রান্নাঘরে রাশ টানা ছাড়া উপায় নেই। আবার অনেকে এখনও রান্নার গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাস বাঁচাতে গিয়ে কি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দেবেন? একদমই নয়। বরং বুদ্ধি করে রান্নার ধরণ বদলে ফেললেই কেল্লাফতে। আলাদা করে ডাল, ভাত কিংবা তরকারি রেঁধে বারংবার ওভেন না জ্বালিয়ে ঝটপট বানান এই রেসিপি গুলো। এতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাঁচবে অমূল্য জ্বালানিও। আপনার হেঁশেলে থাকা সাধারণ উপকরণ দিয়েই কীভাবে বানাবেন পুষ্টিকর সব পদ? দেখে নিন।
গবেষণা বলছে, রান্নায় বারংবার ঢাকনা খোলা এবং আলাদা আলাদা পদ রান্না করায় প্রায় ৩০ শতাংশ গ্যাস বেশি খরচ হয়। এর পরিবর্তে প্রেসার কুকার কিংবা ঢাকা দেওয়া পাত্রে সব উপকরণ একসঙ্গে রান্না করলে তাপের অপচয় হয় না। ফলে রান্না যেমন দ্রুত হয়, তেমনই খাবারের পুষ্টিগুণও বজায় থাকে।
গ্যাস বাঁচাতে কী কী বানাবেন?
ডিম-আলুর তেহরি
যাঁরা একটু মশলাদার খাবার পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এটি দুর্দান্ত।

উপকরণ: চাল, সেদ্ধ ডিম, বড় করে কাটা আলু, পেঁয়াজ কুচি, গরম মশলা ও সামান্য বিরিয়ানি মশলা (ঐচ্ছিক)।
প্রণালী: হাঁড়িতে তেল দিয়ে গরম মশলা ও পেঁয়াজ লাল করে ভাজুন। তাতে আলু ও চাল দিয়ে খানিকক্ষণ কষিয়ে নিন। এবার পরিমাণমতো গরম জল ও নুন দিন। জল ফুটে উঠলে সেদ্ধ ডিমগুলো ছেড়ে দিয়ে ঢাকা দিন। দমে রান্না হওয়ায় গ্যাসের আঁচ খুব কম লাগে এবং রান্নার স্বাদও বাড়ে।
মুগ ডাল ও আতপ চালের ভুনা খিচুড়ি
ভাজা মুগ ডালের সুগন্ধ এই রান্নায় আলাদা মাত্রা যোগ করে।

উপকরণ: সোনা মুগ ডাল, আতপ চাল, তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও ঘি।
প্রণালী: প্রথমে ডালটা শুকনো খোলায় হালকা ভেজে নিন। এবার চাল ও ডাল একসঙ্গে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। কুকারে সামান্য তেল বা ঘি দিয়ে ফোড়ন দিন। চাল-ডাল দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে জল ঢেলে দিন। চাল ও ডাল একসঙ্গে সেদ্ধ হওয়ার কারণে রান্নার সময় প্রায় অর্ধেক কমে যায়।
চিড়ের পোলাও
সকাল বা বিকেলের জলখাবারে এর চেয়ে সাশ্রয়ী আর ভালো খাবার কিছু হয় না।

উপকরণ: মোটা চিড়ে, চিনেবাদাম, পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা ও কুচানো সবজি।
প্রণালী: চিড়ে ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন যাতে ঝরঝরে থাকে। কড়াইতে সামান্য তেলে বাদাম ও সবজিগুলো ভেজে নিন। এবার নুন ও সামান্য চিনি মিশিয়ে চিড়ে দিয়ে দিন। আঁচ বন্ধ করে মিনিট পাঁচেক ঢাকা দিয়ে রাখুন। ভাপেই চিড়ে নরম হয়ে যাবে, বাড়তি আগুনের দরকার নেই।
সবজি দিয়ে ওয়ান-পট পাস্তা
জল ঝরানো বা পাস্তা আলাদা করে সেদ্ধ করার ঝামেলা ছাড়াই এটি বানানো যায়।

উপকরণ: পাস্তা, টমেটো কুচি, রসুন, লঙ্কা ও ঘরে থাকা যেকোনো সবজি।
প্রণালী: একটি পাত্রে পাস্তা, কুচানো সবজি, মশলা ও পরিমাণমতো জল (যাতে পাস্তা ডুবে থাকে) একসাথে দিয়ে দিন। এবার মাঝারি আঁচে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। পাস্তা সেদ্ধ হওয়ার সাথে সাথেই জল শুকিয়ে সসের মতো হয়ে যাবে। এতে জলের অপচয় যেমন কমে, তেমনই গ্যাসও সাশ্রয় হয়।
গ্যাস বাঁচানোর কিছু জরুরি টিপস
- চাল, ডাল বা সোয়াবিন রান্নার আগে গরম জলে ভিজিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেদ্ধ হয়।
- সবজি সবসময় ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন, এতে তা দ্রুত সুসিদ্ধ হয়।
- ভাত রান্নার সময় চালের সমপরিমাণ জল (১:২ অনুপাতে) দিলে জল ঝরানোর প্রয়োজন হয় না, ভাপেই রান্না শেষ হয়।
