AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

মাঝরাতে খিদে? হতে পারে ভয়ঙ্কর সমস্যার লক্ষণ!

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাঝরাতে যারা খেতে ওঠেন, তারা সাধারণত প্রোটিন বা সবজি নয়, বরং কার্বোহাইড্রেট বা চিনিযুক্ত খাবারের দিকেই বেশি ঝোঁকেন। এর পিছনে রয়েছে এক অদ্ভুত কারণ। আমাদের শরীরে সেরোটোনিন (Serotonin) নামক একটি ‘ফিল গুড’ হরমোন থাকে।

মাঝরাতে খিদে? হতে পারে ভয়ঙ্কর সমস্যার লক্ষণ!
| Updated on: Mar 10, 2026 | 5:35 PM
Share

রাত বারোটা কি একটা। বাড়ির সবাই ঘুমে কাদা। অথচ আপনার চোখের পাতা কিছুতেই এক হচ্ছে না। খিদের চোটে পেটে হচ্ছে এক অদ্ভুত অস্বস্তি। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে একবাটি আইসক্রিম বা এক প্যাকেট চিপস না খেলে শান্তির ঘুম কিছুতেই আসবে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, এটা আপনার পেটের খিদে নয়, বরং আপনার ‘মস্তিষ্কের খিদে’। গবেষকদের মতে, এটি এক ধরণের ইটিং ডিসঅর্ডার, যা অনেক সময় ডিপ্রেশন বা উদ্বেগের কারণে হয়।

কেন রাতে ‘কার্বোহাইড্রেট’ বা মিষ্টিই খেতে ইচ্ছে করে?

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাঝরাতে যারা খেতে ওঠেন, তারা সাধারণত প্রোটিন বা সবজি নয়, বরং কার্বোহাইড্রেট বা চিনিযুক্ত খাবারের দিকেই বেশি ঝোঁকেন। এর পিছনে রয়েছে এক অদ্ভুত কারণ। আমাদের শরীরে সেরোটোনিন (Serotonin) নামক একটি ‘ফিল গুড’ হরমোন থাকে। চিনি বা কার্বোহাইড্রেট খেলে এই হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা সাময়িকভাবে মনকে শান্ত করে এবং ঘুম আসতে সাহায্য করে। অর্থাৎ, শরীর আসলে খাবারের মাধ্যমে নিজেকে ‘সেলফ-মেডিকেট’ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই সাময়িক শান্তি ডেকে আনছে দীর্ঘমেয়াদী বিপদ।

শরীরের প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব ‘ডিউটি টাইম’ আছে। লিভার এবং প্যানক্রিয়াস রাতে বিশ্রামের প্রস্তুতি নেয়। হার্ভার্ডের এক গবেষণা জানাচ্ছে, মাঝরাতে খাবার খেলে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। প্যানক্রিয়াস যখন বিশ্রামের বদলে কাজ করতে বাধ্য হয়, তখন শরীরের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমতে থাকে। ফলস্বরূপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার তীব্র সম্ভাবনা থাকে। শুধু তাই নয়, এর ফলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে ‘ফ্যাটি লিভার’-এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন হল মেলাটোনিন। এটি আমাদের ঘুমের জন্য দায়ী। সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বলছে, যাদের শরীরে মেলাটোনিনের অভাব থাকে, তাদের রাত জাগার প্রবণতা বেশি এবং রাত জাগলেই ঘেরলিন (খিদের হরমোন) সক্রিয় হয়ে ওঠে।

কী করবেন? কীভাবে পাবেন মুক্তি?

প্রোটিন-যুক্ত ডিনার: ডিনারে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার থাকলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং মাঝরাতে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ: মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো মেলাটোনিন কমিয়ে দেয়। ফলে ঘুম আসে না এবং খিদে বাড়ে। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে গ্যাজেট থেকে দূরে থাকুন।

জল পান: অনেক সময় শরীর জলতেষ্টাকে খিদের সংকেত হিসেবে ভুল করে। মাঝরাতে খিদে পেলে আগে এক গ্লাস জল খেয়ে দেখুন, ১৫ মিনিট পর খিদে চলে যাবে।

Follow Us