AC short circuit: শর্ট সার্কিটে মৃত্যু তারাপীঠের হোটেলে! এমন পরিস্থিতি হওয়ার হাত থেকে কীভাবে বাঁচবেন জেনে নিন
Tarapith fire accident: তারাপীঠের হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে কমপক্ষে আটজনের। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। কিন্তু আপনার বাড়ি বা অফিসের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও কি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত? একটু অবহেলা বা সামান্য গাফিলতি ডেকে আনতে পারে না তো বড় কোনও বিপদ? এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ঠিক কী কী সতর্কতা নেওয়া জরুরি?

ভোররাত। সকলে তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। শ্রাবণের শেষ সোমবারে পুজো দিতে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। চারদিকে হঠাৎ বিকট শব্দ, কালো ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। সোমবার ভোরে ঠিক এমনই এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে তারাপীঠ। অভিযোগ, বিপদের সময় ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি, এমনকি আপৎকালীন দরজাও বন্ধ ছিল। প্রাণ বাঁচাতে আবাসিকদের অনেককে পাইপ বেয়ে নীচে নামতে দেখা গিয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুন লেগেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এই শর্ট সার্কিট হয় কীভাবে? শুধু হোটেল নয়, বাড়িতে বা অফিসেও এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে অনেক সময়ই মূল ভিলেন হয়ে দাঁড়ায় রোজকার বৈদ্যুতিক গোলযোগ। একটু অবহেলা বা সামান্য কিছু গাফিলতি আস্ত বাড়ি বা হোটেলকে টাইম বোমায় পরিণত করতে পারে।
জেনে নিন ঠিক কোন কোন ত্রুটি থেকে আগুন লাগার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি:
পুরনো ও দুর্বল ওয়্যারিং: বাড়ির বা হোটেলের ওয়্যারিং পুরনো হয়ে গেলে বিপদের ঝুঁকি বাড়ে। ইঁদুরে তার কাটলে বা ইনসুলেশন নষ্ট হলে শর্ট সার্কিট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
অতিরিক্ত লোড: একটি মাত্র সকেটে এসি, গিজার বা মাইক্রোওভেনের মতো একাধিক ভারী যন্ত্র টানা চালালে ওভারলোডিং হয়। এর থেকে তার গলে গিয়ে আগুন ধরে যেতে পারে।
নিম্নমানের যন্ত্রাংশ: অনেক সময় খরচ বাঁচাতে সস্তা তার, প্লাগ বা সুইচ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুতের ওঠানামা হলে এই ধরনের যন্ত্রাংশ দ্রুত পুড়ে যায়। এর সঙ্গে ঘরে থাকা দাহ্য বস্তু সংস্পর্শে এলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
লুজ কানেকশন: প্লাগ বা সকেটে লুজ কানেকশন থাকলে সেখান থেকে ক্রমাগত স্ফুলিঙ্গ তৈরি হতে থাকে, যা বড় অগ্নিকাণ্ডের রূপ নিতে পারে।
জল ও ড্যাম্পের সমস্যা: বর্ষায় বা স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালে বৈদ্যুতিক লাইনের কাছে জল পৌঁছলে শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
কীভাবে সুরক্ষিত থাকবেন?
সঠিক এমসিবি (MCB): বাড়ির প্রতিটি সার্কিটে সঠিক ক্ষমতার এমসিবি বা সার্কিট ব্রেকার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। শর্ট সার্কিট হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বড় বিপদ রুখে দেয়।
নিয়মিত অডিট: অন্তত পাঁচ বছর অন্তর বাড়ির বা অফিসের বৈদ্যুতিক তার এবং সুইচবোর্ড কোনও দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ানের সাহায্যে পরীক্ষা করানো উচিত।
সতর্কতা: প্লাগ পয়েন্ট অতিরিক্ত গরম হয়ে যাচ্ছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখুন। পোড়া গন্ধ পেলে বা স্ফুলিঙ্গ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন।
জরুরি ব্যবস্থা: বাড়িতে বা অফিসে হাতের কাছে অবশ্যই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র বা ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখুন। নিজের বাড়ি হোক বা অফিস, সামান্য সচেতনতা এবং নিয়মিত বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার সঠিক রক্ষণাবেক্ষণই পারে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে।
