Chandrapuli recipe: লক্ষ্মীপুজোয় মাত্র ১০ মিনিটেই বানিয়ে ফেলুন সাবেকি মিষ্টি চন্দ্রপুলি
Kojagari Lakshmi Puja sweets: উৎসবের আনন্দে মিষ্টিমুখ ছাড়া বাঙালির উদ্যাপন একেবারেই অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে মায়ের ভোগে সাবেকি মিষ্টি না থাকলে ঠিক যেন জমে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দিদিমাদের হাতের সেই চন্দ্রপুলির স্বাদ আজকাল প্রায় হারিয়ে গিয়েছে বললেই চলে। তবে মাত্র ১০ মিনিটে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন দারুণ লোভনীয় এই মিষ্টি। রইল রেসিপি।

সামনেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। আগামী ২৫ অক্টোবর রাত জেগে মায়ের আরাধনার প্রস্তুতির পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গিয়েছে ঘরে ঘরে। একটা সময় ছিল যখন পুজোর আগে থেকেই বাড়িতে নারকেল কোরানো, ক্ষীর জ্বাল দেওয়ার ধুম পড়ে যেত। দিদিমা-ঠাকুমাদের হাতের সেই চন্দ্রপুলির স্বাদ আজও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। কিন্তু আজকাল ব্যস্ততার কারণে দোকানের কেনা মিষ্টিতেই কাজ সারতে হয়। তবে একটু সময় বের করলেই বাড়িতেই পুরনো সেই স্বাদ ফিরিয়ে আনতে পারবেন। চন্দ্রপুলি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন অপূর্ব। অর্ধেক চাঁদের মতো গড়নের এই মিষ্টির বাইরেটা নরম, আর ভেতরে থাকে নারকেল ও খোয়া ক্ষীরের পুর। খুব বেশি ঝক্কি ছাড়াই রান্নাঘরের সাধারণ কয়েকটি উপকরণ দিয়ে চটজলদি বানিয়ে নিতে পারবেন এই মিষ্টি।
উপকরণ:
- নারকেল: ২টি
- খোয়া ক্ষীর: ২৫০ গ্রাম
- চিনি: ৮ টেবিল চামচ
- কর্পূর: ১/২ চা চামচ
- ছোট এলাচ: ৫-৬টি (গুঁড়ো করা)
- ঘি: ১ চা চামচ
প্রণালী:
- মিষ্টি তৈরির শুরুতেই একটি থালায় খোয়া ক্ষীর নিয়ে খুব ভালো করে মেখে নরম করে নিন। এরপর একটা ননস্টিক পাত্রে কম আঁচে সেই মাখা ক্ষীর বেশ কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। দেখবেন ক্ষীরটা বেশ সুন্দরভাবে গলে আসছে। ঠিক এই সময়েই পরিমাণমতো চিনি মিশিয়ে দিন।
- অন্যদিকে, আগে থেকে কুরিয়ে রাখা নারকেল মিক্সিতে ভালো করে বেটে মিহি করে নিন। এবার প্যানের সেই গলানো খোয়া ক্ষীরের মধ্যে বেটে রাখা নারকেল আর সুগন্ধের জন্য এলাচ গুঁড়ো ছড়িয়ে খুব ভালো করে পাক দিন।
- মিনিট পাঁচেক একটানা নাড়াচাড়া করার পর সামান্য কর্পূরের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। দেখবেন একেবারে সাবেকি একটা গন্ধ বেরিয়ে আসবে। তখন আঁচ কমিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন। একটু পরেই দেখবেন, পুরো মিশ্রণটি থেকে হালকা তেল ছেড়ে আসছে এবং সুন্দর একটা মণ্ড তৈরি হয়েছে। তখন আর দেরি না করে সেটি একটি থালায় ঢেলে ঠান্ডা করে নিন।
- এবার মিষ্টির আসল রূপ দেওয়ার পালা। চন্দ্রপুলির ছাঁচে সামান্য ঘি মাখিয়ে নিয়ে ঠান্ডা হওয়া মিশ্রণটি পরিমাণমতো দিন। এরপর আঙুল দিয়ে ভালো করে চেপে ধরুন। দেখবেন ম্যাজিকের মতো তৈরি হয়ে গিয়েছে দারুণ স্বাদের চন্দ্রপুলি!
- বাড়িতে ছাঁচ নেই? চিন্তার কোনও কারণ নেই। ছাঁচ না থাকলে ওই একই মিশ্রণ একটি সমান পাত্রে ঢেলে ছুরি দিয়ে অনায়াসেই বরফির আকারে কেটে নিন। সামান্য একটু উদ্যোগ নিলেই দেখবেন এবারের লক্ষ্মীপুজোর আনন্দ হয়ে উঠেছে আরও দ্বিগুণ।
বিশেষ টিপস:
- নারকেল বাটার সময় খেয়াল রাখবেন যেন একটুও জল না থাকে। মিশ্রণে জল থাকলে পাক দিতে অনেক বেশি সময় লাগবে এবং মিষ্টির স্বাদও বদলে যেতে পারে।
- ক্ষীর ও নারকেল জ্বাল দেওয়ার সময় আঁচ সবসময় কম রাখুন এবং ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। আঁচ বেশি থাকলে নিচ থেকে ধরে যেতে পারে, আর তখন পোড়া গন্ধে মিষ্টির স্বাদ একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।
- ছাঁচে বা থালায় মিশ্রণটি ঢালার আগে অবশ্যই সামান্য ঘি মাখিয়ে নিন। এতে মিষ্টিগুলো খুব সহজেই ছাঁচ থেকে উঠে আসবে এবং ভেঙে যাওয়ার কোনও ভয় থাকবে না।
- পাক ঠিকমতো হয়েছে কি না, তা বুঝতে আঙুলে সামান্য মিশ্রণ নিয়ে গোল করার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন সহজেই গোল হয়ে যাচ্ছে এবং আঙুলে জড়াচ্ছে না, তবে বুঝবেন পাক একেবারে নিখুঁত হয়েছে।
