Mirror Modal saree: পুজোয় ট্রেন্ডিং ‘মিরর মোডাল’ কিনেছেন? কাচার সময় এই ভুল করলেই কিন্তু সব শেষ!
How to wash Mirror modal sareeএবারের পুজোর ফ্যাশনে বাজার কাঁপাচ্ছে মিরর মোডাল শাড়ি। তবে পুজোয় নামার আগে সাধের শাড়ি ধুতে গিয়ে ড্রাই ওয়াশ করবেন নাকি বাড়িতেই কাচবেন? সামান্য ভুলেই যাতে আয়নার জেল্লা আর মোডালের নরম ভাব নষ্ট না হয়, জেনে নিন টোটকা।

সামনেই পুজো, আর কেনাকাটার থলিতে ‘মিরর মোডাল’ ঢুকবে না, তা কি হয়! এবারের পুজোর ফ্যাশন ট্রেন্ডে সবচেয়ে বেশি রাজত্ব করছে এই শাড়ি। মোডাল কাপড়ের মাখনের মতো নরম ছোঁয়া আর সঙ্গে ছোট-বড় আয়নার ঝলকানি; ষষ্ঠীর সকাল হোক কিংবা নবমীর আড্ডা, পুজোর ভিড়ে স্পটলাইট কাড়ার জন্য এই শাড়ি একেবারে পারফেক্ট। কিন্তু শখের শাড়ি বাড়ি এনেই অনেকের বুক ধুকপুক—দোকানের ভাঁজ কাটানো বা সামান্য দাগ লাগলে কাচবেন কী করে?
অনেকেরই আবার অভ্যাস থাকে নতুন শাড়ি পুজোয় পরার আগে একবার জলে ধুয়ে নেওয়ার। তখনই যদি ভাবেন, এক বালতি ডিটারজেন্ট গুলে ভালো করে কেচে নেবেন, তবেই কিন্তু পুজোর আগেই শাড়ির খেল খতম! কারণ মোডাল ভীষণ আদুরে ফ্যাব্রিক। আর শাড়ির ওই ‘মিরর’ কিন্তু ভারী কাচ নয়, ওগুলো মূলত পাতলা অ্যাক্রিলিক বা মেটালিক ফয়েল। একটু ভুলেই আয়নার আঠা গলে যাবে, নয়তো ধার লেগে শাড়ির গায়েই সুতো ফেঁসে যাবে, শাড়ির বারোটা বাজবে। তাই পুজোয় শাড়ি একদম চকচকে রাখতে পরিচর্যার কায়দাটা হতে হবে একেবারে আলাদা।
কী কী ভাবে পরিষ্কার করবেন?
ড্রাই ওয়াশ না ঘরোয়া কাচা এবারের এই ট্রেন্ডিং শাড়ির প্রথম পরিচর্যা নিয়ে অনেকেই দোলাচলে ভোগেন। টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, মিরর মোডাল শাড়ির ক্ষেত্রে ড্রাই ওয়াশ বা ড্রাই ক্লিন করানোই সবচেয়ে নিরাপদ। কারণ ড্রাই ক্লিনের কেমিক্যাল ওয়াশে জলের স্পর্শ ছাড়া ধুলো-ময়লা সাফ হয়, ফলে মেটালিক ফয়েল মিররের আঠা আলগা হওয়ার বা কাঁপড় কুঁচকে যাওয়ার এক ফোঁটাও ঝুঁকি থাকে না। তবে প্রতিবার তো আর লন্ড্রির চড়া বিল দেওয়া সম্ভব নয়! তাই পকেটের রেস্ত বাঁচিয়ে যদি বাড়িতেই শাড়ি পরিষ্কার করতে চান, তবে মেনে চলতে হবে এই কড়া নিয়মগুলি।
ওয়াশিং মেশিন মিরর মোডাল শাড়ি আর যা-ই হোক, মেশিনের চক্কর সহ্য করার মতো শক্তপোক্ত জিনিস নয়। ওয়াশিং মেশিনে দিলে ফয়েল মিররের ধার লেগে শাড়ির অন্য পাড়ের সুতো উঠে একাকার হবে, মিররেরও বারোটা বাজবে। তাই ভরসা থাকুক নিজের দু’হাতে।
সাবান জল সাধারণ ক্ষারযুক্ত গুঁড়ো সাবান একেবারেই নৈব নৈব চ। এক বালতি ঠান্ডা জলে সামান্য একটু মৃদু লিকুইড ডিটারজেন্ট গুলে নিন। জল যেন কোনওভাবেই গরম না হয়। বেশি উষ্ণতা পেলেই প্লাস্টিক আয়নার আঠা আলগা হয়ে ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এবার শাড়িটি সাবান জলে ভিজিয়ে রাখুন মাত্র ৫ থেকে ৭ মিনিট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জলে ডুবিয়ে রাখলে মোডালের জেল্লা আর রঙের বারোটা বেজে যাবে।
যত্ন শাড়ি পরিষ্কার করতে গিয়ে গায়ের জোর দেখানো চলবে না। ব্রাশ তো ছোঁয়াবেনই না, এমনকি শাড়ির আঁচল বা কুঁচি ধরে ঘষাঘষিও নয়। দুই হাতে শাড়িটা জলের মধ্যে হালকা ডুবিয়ে ডুবিয়ে নিন। এতেই কাপড়ে জমে থাকা ধুলো বা অতিরিক্ত স্টার্চ বেরিয়ে যাবে, অথচ ফল্স মিররের ওপরে কোনও স্ক্র্যাচ পড়বে না।
নিংড়াতে গেলেই কেলেঙ্কারি কাপড় কাচার পর নিংড়ে সব জল বের করার যে বদভ্যাস থাকে, মিরর মোডালের ক্ষেত্রে সেটাই সবথেকে বড় শত্রু। দুমড়ে-মুচড়ে নিংড়াতে গেলে ওই পাতলা ফয়েল আয়নাগুলো চিরতরে বেঁকে যাবে। তাই শাড়িটা না নিংড়ে একটা বড় শুকনো সুতির তোয়ালেতে আলতো করে জড়িয়ে নিন। তোয়ালে নিজেই বাড়তি জল শুষে নেবে।
রোদে নয় কড়া রোদে দিলে মোডালের জৌলুস দ্রুত চলে যায়। তাই শাড়ি সবসময় ঘরের ছায়ায়, ফ্যানের বাতাসে টানটান করে মেলে দিন।
ব্যস, ড্রাই ওয়াশ হোক কিংবা এই সহজ ঘরোয়া টোটকা, সঠিক নিয়ম মেনে নিলেই পুজোর প্যান্ডেলে আপনার ট্রেন্ডিং মিরর মোডাল শাড়িটি উড়বে ফুরফুর করে আর আয়নাগুলোও আলো পড়ে ঝকমক করবে একেবারে নিখুঁতভাবে!
