প্রেমিক-প্রেমিকারা মেসেজ গোপনীয় রাখতে চান? হোয়াটসঅ্যাপে আসছে নতুন ম্যাজিক ফিচার
দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় বন্ধু ভালোবাসার মানুষ বা পরিচিতদের ফোন নম্বর, ব্যাংক ওটিপি (OTP), বাড়ির ঠিকানা বা গোপন পাসওয়ার্ড টেক্সট করার প্রয়োজন পড়ে। কাজ মিটে গেলে সেই মেসেজ ম্যানুয়ালি ডিলিট করার কথা মাথায় থাকে না অনেকেরই। এই অসতর্কতার সুযোগ নিতে পারে হ্যাকাররা। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন সিস্টেম সেই ভয় দূর করবে।

ব্যক্তিগত চ্যাট হোক বা গোপনীয় কোনও তথ্য— ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ব্যবহারকারীদের সেই উদ্বেগ মেটাতেই এবার কোমর বেঁধে নামছে মেটা-র মালিকানাধীন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। চ্যাট বক্সে আর জমে থাকবে না অপ্রয়োজনীয় বা সংবেদনশীল মেসেজ। কারণ, খুব শীঘ্রই আসতে চলেছে ‘আফটার রিডিং’ (After Reading) নামের একটি দুর্ধর্ষ ফিচার। একবার পড়া হয়ে গেলেই মেসেজ ডিলিট হয়ে যাবে নিজে থেকেই।
কী এই ‘আফটার রিডিং’ ফিচার?
বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ডিসঅ্যাপিয়ারিং মেসেজ’ (Disappearing Messages) ফিচারের সুবিধা থাকলেও, নতুন এই আপডেটটি আরও এক ধাপ এগিয়ে। টেক দুনিয়ার খবর অনুযায়ী, এই ফিচারের মূল লক্ষ্য হল চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা। যখনই প্রাপক প্রেরিত মেসেজটি খুলবেন, অমনি শুরু হয়ে যাবে একটি বিশেষ কাউন্টডাউন। ঠিক ১৫ মিনিটের মাথায় সেই মেসেজ প্রেরক এবং প্রাপক— দুই পক্ষের চ্যাট বক্স থেকেই চিরতরে মুছে যাবে।
কেন এই ফিচার জরুরি?
দৈনন্দিন জীবনে অনেক সময় বন্ধু ভালোবাসার মানুষ বা পরিচিতদের ফোন নম্বর, ব্যাংক ওটিপি (OTP), বাড়ির ঠিকানা বা গোপন পাসওয়ার্ড টেক্সট করার প্রয়োজন পড়ে। কাজ মিটে গেলে সেই মেসেজ ম্যানুয়ালি ডিলিট করার কথা মাথায় থাকে না অনেকেরই। এই অসতর্কতার সুযোগ নিতে পারে হ্যাকাররা। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন সিস্টেম সেই ভয় দূর করবে।
ফিচারের খুঁটিনাটি:
১৫ মিনিটের ডেডলাইন: মেসেজটি পড়া মাত্রই ১৫ মিনিটের সময়সীমা শুরু হয়ে যাবে।
অটো-এক্সপায়ারি: যদি প্রাপক মেসেজটি না খোলেন, তবে সেটি ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত চ্যাটে থাকবে। এরপর সেটি নিজে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যাবে।
ইউজার কন্ট্রোল: ব্যবহারকারীরা চাইলে এই ফিচারটি নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।
কবে নাগাদ মিলবে এই সুবিধা?
রিপোর্ট অনুযায়ী, অ্যান্ড্রয়েড বিটা ভার্সন ২.২৬.১২.২-তে এই ফিচারের দেখা মিলেছে। যদিও সাধারণ ব্যবহারকারী বা বিটা টেস্টারদের জন্য এখনও এটি চালু করা হয়নি। বর্তমানে ফিচারটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুত ট্রায়াল শেষ করে এটি বিশ্বের সমস্ত স্মার্টফোনে পৌঁছে যাবে। ডিজিটাল নিরাপত্তার খাতিরে হোয়াটসঅ্যাপের এই পদক্ষেপ যে প্রযুক্তি বিশ্বে বড়সড় বদল আনতে চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন শুধু দেখার, এই নতুন চমক ব্যবহারকারীদের কতটা মন জয় করতে পারে।
