AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Baby care tips: জন্মের পর শিশুর মুখে মধু? এই ভুলেই হতে পারে বড় বিপদ!

Honey side effects: পরিবারে নতুন সদস্য এলেই তার মুখে একটু মধু ছুঁইয়ে দেওয়ার রেওয়াজ বহু পুরোনো। কিন্তু জানেন কি, এই এক ফোঁটা মধু ছোট্ট শিশুর শরীরে কতটা বিষক্রিয়া করতে পারে? কেন এক বছরের কম বয়সিদের মধু খাওয়াতে কড়া বারণ করেন চিকিৎসকরা? জেনে নিন।

Baby care tips: জন্মের পর শিশুর মুখে মধু? এই ভুলেই হতে পারে বড় বিপদ!
কী বলছেন চিকিৎসক?Image Credit: Free pik
| Updated on: Sep 28, 2026 | 11:11 AM
Share

পরিবারে সদ্যোজাত এসেছে, আর তার মুখে একটু মধু দেওয়া হবে না, তা কি হয়! ঘরে ঘরে এমন রেওয়াজ বহু পুরোনো। অনেকেই মনে করেন, জন্মের পরপরই শিশুর মুখে মিষ্টি কিছু দিলে তার ভবিষ্যৎ ভালো হবে। আর মধু তো শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। তাই এই কাজটা প্রায় সকলেই করে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকরা একেবারে অন্য কথা বলছেন। তাঁদের মতে, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কোনও ভাবেই মধু দেওয়া উচিত নয়। একটু ভুলেই ঘটে যেতে পারে বড়সড় বিপদ। কিন্তু কেন এমন কড়া বারণ?

মধু কেন বিপদের কারণ?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স এবং অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল থাকে। হজমশক্তিও পুরোপুরি তৈরি হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতে মধুকে খুব নিরাপদ মনে হলেও, এর মধ্যে কখনও কখনও ‘ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম’ (Clostridium botulinum) নামের এক ধরনের মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার স্পোর বা বীজ লুকিয়ে থাকতে পারে। বড়রা এই মধু খেলে তাঁদের পরিণত হজমশক্তি অনায়াসেই এই ব্যাকটেরিয়াকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু ছোট্ট শিশুর পাকস্থলী তা একেবারেই পারে না। উল্টে ওই ব্যাকটেরিয়া শিশুর অন্ত্রে গিয়ে বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন তৈরি করে।

ভয়ঙ্কর রোগ ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’

এর থেকেই শিশুর শরীরে বাসা বাঁধে ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’ (Infant botulism) নামের এক মারাত্মক রোগ। আপোলো স্পেকট্রা হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শশাঙ্ক ত্রিবেদী জানিয়েছেন, এক বছরের কম বয়সি শিশুকে মধু একদমই দেওয়া উচিত নয়। এই রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। শিশু ঠিকমতো দুধ টানতে পারে না। কান্নার জোর কমে যায়, শরীর নেতিয়ে পড়ে এবং পেশি দুর্বল হয়ে যায়। পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে শিশুর শ্বাস নিতেও কষ্ট হতে পারে। রোগটি বিরল হলেও এর ঝুঁকি কিন্তু মারাত্মক। তাই সাবধানতা হিসেবে ১২ মাস বয়স হওয়ার আগে শিশুর দুধ, জল বা বাড়ির তৈরি কোনও খাবারেও মধু মেশানো একেবারেই ঠিক নয়। এক বছর বয়সের পর অবশ্য অল্প পরিমাণে মধু দেওয়া যেতে পারে।

জল খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম

শুধু মধু নয়, জন্মের পর প্রথম ছ’মাস শিশুকে আলাদা করে জল খাওয়াতেও বারণ করেন চিকিৎসকরা। কারণ, মায়ের দুধ থেকেই শিশু পর্যাপ্ত জল পেয়ে যায়। আলাদা করে জল খাওয়ালে শিশুর পেট অকারণে ভরে যেতে পারে। ফলে সে মায়ের দুধ কম খাবে। এর সঙ্গে বেশি জল খেলে শিশুর শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ারও ঝুঁকি থাকে। তাই প্রথম ছ’মাস শিশুর জন্য শুধুমাত্র মায়ের দুধই হল সেরা খাবার।

Follow Us