কাউকে হেয় করতে কেন কাঁচকলা বলা হয়?
বাংলা ভাষায় ‘কাঁচকলা দেখানো’ কথাটি মূলত কাউকে পাত্তা না দেওয়া, তার কথা বা দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা তার প্রত্যাশা পূরণ না করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, কেউ কোনও কিছু আশা করলেও তাকে কার্যত কিছুই না দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করাকেই রূপক অর্থে ‘কাঁচকলা দেখানো’ বলা হয়।

‘তুই আমার কাঁচকলা করবি…।’ ঝগড়াঝাটির সময় কিংবা কাউকে ছোট করে দেখাতে অনেক সময় এমন কথা অনেকে বলেন। অর্থাৎ, বাংলা কথাবার্তায় কাউকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে বা গুরুত্বহীন বোঝাতে প্রায়ই বলা হয়, ‘তোমাকে আমি কাঁচকলা দেখাই!’ আবার কাউকে অবজ্ঞা করে বলতে শোনা যায়, ‘তোমাকে কাঁচকলা দেখাই!’ কিন্তু সাধারণ একটি ফলের নাম কীভাবে অপমান বা অবজ্ঞার সঙ্গে জড়িয়ে গেল?
আসলে, এই প্রবাদপ্রবচনের পিছনে রয়েছে বাংলা ভাষার দীর্ঘদিনের চলতি ভাষার ব্যবহার। কাঁচকলা পাকা কলার মতো মিষ্টি নয়। এটি সাধারণত সবজি হিসেবে রান্না করে খাওয়া হয়। ফলে ফল হিসেবে এর স্বাদ বা আকর্ষণ পাকা কলার তুলনায় আলাদা। তেমন একটা সুস্বাদু নয়। তবে কাঁচকলাকে অবজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের কোনও নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কারণ সেই অর্থে পাওয়া যায় না।
বাংলা ভাষায় ‘কাঁচকলা দেখানো’ কথাটি মূলত কাউকে পাত্তা না দেওয়া, তার কথা বা দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়া কিংবা তার প্রত্যাশা পূরণ না করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ, কেউ কোনও কিছু আশা করলেও তাকে কার্যত কিছুই না দেওয়া বা প্রত্যাখ্যান করাকেই রূপক অর্থে ‘কাঁচকলা দেখানো’ বলা হয়।
দৈনন্দিন কথাবার্তায় এই ধরনের প্রবাদপ্রবচন ভাষাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তবে মনে রাখা দরকার, কাঁচকলা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি খাবার। তাই শব্দটির নেতিবাচক ব্যবহার থাকলেও ফলটি মোটেই গুরুত্বহীন নয়।
