দু’বেলা রোজ ব্রাশ করেও কেন হলুদ হচ্ছে দাঁত? কীভাবে ঝকঝকে রাখবেন?
দাঁত সুস্থ রাখতে দিনে দু’বার নরম ব্রাশ দিয়ে অন্তত দু’মিনিট ধরে দাঁত মাজুন। নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করুন এবং চা-কফি খাওয়ার পর জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করুন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন। দাঁতে দাগ বা টারটার জমলে নিজে থেকে ঘষে তোলার চেষ্টা না করে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রতিদিন নিয়ম করে দাঁত মাজেন, তবুও হাসলে দাঁতের হলদেটে ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে? অনেকেই মনে করেন, ঠিকমতো ব্রাশ না করার কারণেই দাঁতের রং হলুদ হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে এর পিছনে থাকতে পারে একাধিক কারণ। বয়স বাড়া, চা-কফি পান, ধূমপানের অভ্যাস কিংবা দাঁতের উপরের এনামেলের ক্ষয়—সবই দাঁতের স্বাভাবিক রং বদলে দিতে পারে। তাই শুধু নিয়মিত ব্রাশ করলেই যে দাঁত ঝকঝকে সাদা থাকবে, এমনটা নয়।
কেন নিয়মিত ব্রাশ করেও দাঁত হলুদ হয়?
১. দাঁতের বাইরের শক্ত আবরণকে বলা হয় এনামেল। এর নীচে থাকে ডেন্টিন, যার স্বাভাবিক রং কিছুটা হলুদ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বা দীর্ঘদিনের ক্ষয়ের কারণে এনামেল পাতলা হয়ে গেলে নীচের ডেন্টিন বেশি দৃশ্যমান হয়। ফলে নিয়মিত দাঁত মাজলেও দাঁত হলদেটে দেখাতে পারে
২. চা, কফি, কোলা এবং গাঢ় রঙের কিছু খাবারে থাকা রঞ্জক পদার্থ দাঁতের উপর দাগ ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন এই ধরনের খাবার ও পানীয় খেলে দাগ ক্রমশ গাঢ় হতে পারে। শুধু ব্রাশ করে সব দাগ দূর করা সব সময় সম্ভব হয় না।
৩.সিগারেটের নিকোটিন ও টারের কারণে দাঁতে হলুদ বা বাদামি দাগ পড়তে পারে। নিয়মিত ধূমপান কিংবা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করলে সেই দাগ আরও জেদি হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি এগুলি মুখের স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে।
৪. দাঁতের গায়ে ব্যাকটেরিয়া ও খাদ্যকণার কারণে প্লাক তৈরি হয়। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে তা শক্ত হয়ে টারটারে পরিণত হতে পারে। এর ফলে দাঁতে হলদেটে ভাব দেখা যায়। শক্ত হয়ে যাওয়া টারটার সাধারণ ব্রাশে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না; প্রয়োজন হতে পারে দন্তচিকিৎসকের সাহায্য।
৫. প্রত্যেকের দাঁতের স্বাভাবিক রং এক রকম নয়। কারও দাঁতের এনামেল তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় দাঁত বেশি হলুদ দেখাতে পারে। আবার কিছু ওষুধ, শৈশবে অতিরিক্ত ফ্লুরাইডের সংস্পর্শ এবং দাঁতে আঘাত লাগার কারণেও দাঁতের রং বদলে যেতে পারে।
দাঁত সাদা রাখতে কী করবেন?
দাঁত সুস্থ রাখতে দিনে দু’বার নরম ব্রাশ দিয়ে অন্তত দু’মিনিট ধরে দাঁত মাজুন। নিয়মিত ফ্লস ব্যবহার করুন এবং চা-কফি খাওয়ার পর জল দিয়ে মুখ কুলকুচি করুন। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন। দাঁতে দাগ বা টারটার জমলে নিজে থেকে ঘষে তোলার চেষ্টা না করে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
দাঁত সাদা করার জন্য অতিরিক্ত জোরে ব্রাশ করা কিংবা লেবু, কয়লা বা অন্য কোনও ঘরোয়া উপাদান দিয়ে দাঁত ঘষা উচিত নয়। এতে এনামেলের ক্ষতি হতে পারে। দাঁতের হলদেটে ভাবের কারণ বুঝে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার ক্লিনিং বা নিরাপদ হোয়াইটনিংয়ের পরামর্শ দিতে পারেন।
