হাসতে-হাসতেও হতে পারে স্ট্রোক, কীভাবে বুঝবেন?
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ধূমপানের মতো নানা কারণে কম বয়সিদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে। ডাক্তারদের মতে,স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চিনতে পারা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আজ 'বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে' সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্ট্রেক কিন্তু শুধু বয়স্কদের হয় না। কম বয়সীরাও আক্রান্ত হতে পারেন। এমন অনেক ভুরি-ভুরি ঘটনা রয়েছে,যেখানে দেখা গিয়েছে কম বয়সীদের মৃত্যু হয়েছে। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং ধূমপানের মতো নানা কারণে কম বয়সিদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়েছে। ডাক্তারদের মতে,স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চিনতে পারা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে, মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আজ ‘বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে’ সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মস্তিষ্কের কোনও অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে, অথবা মস্তিষ্কের কোনও রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষ পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।
চিকিৎসক সোনিয়া লাল গুপ্তের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়লেও, প্রাপ্তবয়স্কদের যে কোনও বয়সেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তরুণদেরও স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
স্ট্রোকের কোন লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়?
স্ট্রোকের লক্ষণ অনেক সময় হঠাৎ দেখা দেয়। প্রাথমিক অবস্থায় সেগুলি চিনতে না পারলে চিকিৎসা পেতে দেরি হতে পারে। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল—
- হাসতে গেলে মুখের এক পাশ ঠিকমতো নড়তে না পারা।
- বিশেষ করে শরীরের এক দিকে হঠাৎ শক্তি কমে যাওয়া।
- জড়িয়ে কথা বলা কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
- হঠাৎ হাঁটতে অসুবিধা হওয়া বা শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পারা।
- আচমকা ঝাপসা দেখা বা দেখতে অসুবিধা হওয়া।
- এই লক্ষণগুলির কোনওটি হঠাৎ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত।
কয়েক মিনিটের মধ্যে লক্ষণ সেরে গেলেও বিপদ কাটে না। অনেক সময় স্ট্রোকের মতো লক্ষণ কয়েক মিনিটের মধ্যে মিলিয়ে যায়। তখন অনেকে মনে করেন, সমস্যা আর নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই ধরনের সাময়িক উপসর্গও বিপদের সংকেত হতে পারে। একে বলা হয় ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাক বা TIA। এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের সতর্কবার্তা হতে পারে।
তাই মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা কথা বলতে সমস্যা হওয়ার মতো লক্ষণ অল্প সময়ের মধ্যে সেরে গেলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি
কীভাবে কমাবেন স্ট্রোকের ঝুঁকি? চিকিৎসকদের পরামর্শ, দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সুষম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত নুন, চিনি ও তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
- নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে না থাকা।
