চিকিৎসকদের অনেকেই সকালবেলা উঠে খালি পেটে এক গ্লাস জল খাওয়ার পরামর্শ দেন। রাতের বেলা ঘুমোনোর সময় দীর্ঘক্ষণ জাল না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে জলের ঘাটতি হয়। সেই কারণেই এই পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনেকেই দ্রুত শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এবং শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খালি পেটে লেবুর জল খান। একগ্লাস ঈষদুষ্ণ জলে এক চামচ মধু এবং একটি লেবু চিপে নিয়ে তা পান করার অভ্যাস রয়েছে। তবে শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর ভেবে যে পানীয় রোজ সকালে উঠে খাচ্ছেন,তা আদৌ আপনার উপকারী তো? কোনও ক্ষতি হচ্ছে না তো?
লেবুর রসে আছে সাইট্রিক অ্যাসিড। আবার আমাদের পাকস্থলী থেকেও স্বাভাবিক নিয়মেই হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড নিঃসৃত হয়। এই অ্যাসিড খাবার দ্রুত পরিপাক করতে সাহায্য করে। মনে রাখবেন পেট খালি থাকলেও কিন্তু পাকস্থলীর এই অ্যাসিড নিঃসরণ বন্ধ হয় না। বরং লম্বা সময় না খেয়ে থাকলে বেশ কিছুটা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড জমা হয় পাকস্থলীতে।
এই অবস্থায় আপনি যদি লেবুর জল পান করেন তাহলে তার সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে সাইট্রিক অ্যাসিডও। এতে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে অ্যাসিডিটিতে ভোগার ঝুঁকি থেকে যায়। খালি পেটে লেবু–জল খেলে তাই কারও কারও অম্বলের সমস্যা হতে পারে। ফলে টক ঢেঁকুর উঠতে পারে, পেটে অস্বস্তিকর অনুভূতি হতে পারে, পেট ফাঁপার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমনকি পেটব্যথাও হতে পারে। লেবুর সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান যোগ করা হলেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
খালি পেটে থাকা অবস্থায় আপনার পাকস্থলীতে যে অ্যাসিড জমা হয়েছিল, খানিকটা খাবার খেলে সেই অ্যাসিড খাবারটা পরিপাকের কাজে অংশ নেয়। অর্থাৎ পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ কমে আসবে। এরপর লেবু মেশানো পানীয় পান করলে কোনও ক্ষতি নাও হতে পারে। যদিও খাবার খেয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে লেবুর জল খাওয়া উচিত নয়। খাবার খাওয়ার ঠিক পরে জল খেলে খাবার পরিপাকে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
খালি পেটে শুধু জল পান করা কিন্তু ভাল। এ ক্ষেত্রে আপনার পাকস্থলীতে জমা হওয়া অ্যাসিড এই জলের সঙ্গে মিশে লঘু হয়ে যাবে। কিছুক্ষণ পরে লেবু দিয়ে কোনও পানীয় খেলেও তাতে সমস্যা হয় না।
একেবারে খালি পেটে কিংবা খাবার খাওয়ার ঠিক পরপর নয়, বরং অন্য কোনও সময় লেবুর জল পান করা উচিত। মনে রাখবেন, খাবার খাওয়ার অন্তত মিনিট ২০ আগে কিংবা পরে জল খাওয়া সবচেয়ে ভাল। খাবার খাওয়ার অন্তত ২০ মিনিট পর লেবুর জল খেতে পারেন।