Cremation Rituals: জামাই কি শ্বশুরের মুখাগ্নি করতে পারেন? গরুড় পুরাণ বলছে…
Garuda Purana rules: মানুষ মারা গেলে তাঁর শেষকৃত্য কে করবেন, তা নিয়ে হিন্দু ধর্মে অনেক নিয়ম রয়েছে। ছেলে না থাকলে কি জামাই (Son-in-Law) শ্বশুরের মুখাগ্নি করতে পারেন? গরুড় পুরাণ এ নিয়ে ঠিক কী বলছে? কী বলছেন শাস্ত্রবিদরা?

হিন্দু সনাতন ধর্মে মানুষের মৃত্যুর পর শেষকৃত্য বা দাহ সংস্কার করা ভীষণ জরুরি একটি কাজ। বিশ্বাস করা হয়, সঠিক নিয়ম মেনে এই শেষ কাজটুকু না করলে মৃত মানুষের আত্মা শান্তি পায় না এবং পরলোকে মুক্তি মেলে না। তবে কোনও পরিবারে যদি ছেলে না থাকে, তবে কি জামাই তাঁর শ্বশুর বা শাশুড়ির মুখাগ্নি করতে পারেন? ধর্মশাস্ত্র গরুড় পুরাণ (Garuda Purana) এ বিষয়ে ঠিক কী বলছে?
শাস্ত্রে শেষকৃত্যের প্রথম অধিকার কার?
গরুড় পুরাণের মূল নিয়ম অনুযায়ী, কোনও মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য করার প্রথম অধিকার থাকে পরিবারের নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের। এই তালিকায় সবার আগে থাকেন নিজের ছেলে। ছেলে না থাকলে নাতি এই পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে পারেন। প্রাচীন কাল থেকেই মনে করা হত, পুত্রের হাতে পিণ্ডদান আর মুখাগ্নি হলেই বাবা-মায়ের আত্মা মোক্ষ বা শান্তি লাভ করে।
জামাইয়ের ক্ষেত্রে গরুড় পুরাণের নিয়ম কী?
বিয়ের পর মেয়েকে অন্য গোত্রে সমর্পণ করা হয়। সনাতন বিশ্বাস মতে, বিবাহের পর একটি মেয়ে তাঁর বাবার গোত্র ছেড়ে স্বামীর পরিবারের অংশ হয়ে যান। যেহেতু জামাই অন্য গোত্র ও অন্য বংশের লোক, তাই শাস্ত্রে তাঁকে মূল পরিবারের রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় বলে ধরা হতো না। এই কারণে ধর্মশাস্ত্রে পুরনো দিনে জামাইকে শ্বশুরের অন্তিম সংস্কার বা মুখাগ্নি করা থেকে দূরে রাখার নিয়ম ছিল।
বর্তমান সমাজ ও পরিবর্তিত চিন্তাধারা
তবে বিপদের সময় সঠিক দায়িত্ব পালন করাই হলো আসল ধর্ম। আজকাল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিন্তাধারাও অনেক বদলেছে। ধর্মশাস্ত্রেই বলা রয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে বা আপৎকালে নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া যায়।
আজকের যুগে কোনও পরিবারে যদি কোনো পুত্রসন্তান না থাকে, কিংবা বিপদের দিনে অন্য কোনো পুরুষ আত্মীয় পাশে না থাকেন, তবে জামাই কিন্তু নির্দ্বিধায় শ্বশুরের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে পারেন। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ভক্তি ও পরিষ্কার মনে দায়িত্ব পালন করাই বড় কথা। অনেক পরিবারেই জামাইকে নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসা দেওয়া হয়। তাই পরিবারের সবাই রাজি থাকলে জামাইয়ের হাতে শ্বশুরের শেষকৃত্যে কোনও পাপ বা দোষ হয় না।
মেয়েদের অধিকার আগে ভাবা হতো মেয়েরা স্বভাবতই নরম মনের হন, তাই শ্মশানের কষ্টদায়ক পরিবেশ তাঁরা সহ্য করতে পারবেন না। এই কারণেই মেয়েদের শ্মশানে যাওয়া বা মুখাগ্নি করা থেকে দূরে রাখা হতো। কিন্তু আজকাল অনেক মেয়েই এগিয়ে এসে বাবা-মায়ের শেষ কাজ নিজে হাতে করছেন। কারণ সনাতন ধর্ম কোনও কঠিন বাঁধাধরা নিয়ম নয়। তাই জামাই হোক বা কন্যা, মন থেকে শ্রদ্ধা নিয়ে কাজ করলে তা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছে যায় বলে জানাচ্ছেন শাস্ত্রবিদদের একাংশ।
