AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Diwali 2026: দীপাবলিতে কেন জ্বালানো হয় ২১টি প্রদীপ? কেন ধনতেরাসে ১৩টি? জানলে চমকে যাবেন

Diwali Diyas: প্রদীপের মাটির আধার আমাদের নশ্বর দেহ, তেল বা ঘি আমাদের কর্ম ও তুলোর বাতি আমাদের অহংকার ও আত্মাকে নির্দেশ করে। প্রদীপ জ্বালার মাধ্যমে আমাদের শরীরের অজ্ঞানতা দূর করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়। ভাইফোঁটাতে ৫টি প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে। এই ৫টি প্রদীপ আসলে পঞ্চভূতের প্রতীক।

Diwali 2026: দীপাবলিতে কেন জ্বালানো হয় ২১টি প্রদীপ? কেন ধনতেরাসে ১৩টি? জানলে চমকে যাবেন
ফাইল ছবিImage Credit: TV9 Network
| Updated on: Nov 04, 2026 | 1:44 PM
Share

কলকাতা: কয়েক দিন পরেই রয়েছে আলোর উৎসব দীপাবলি। আলোর এই উৎসব মানেই আনন্দ, উল্লাস ও অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে সুন্দরকে স্বাগত জানানো। কার্তিক মাসের এই ৪ দিনের উৎসবের প্রতিদিনই আছে কিছু না কিছু ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব। এই দিনগুলিতে নির্দিষ্ট সংখ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা চালু আছে, যার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কিছু গভীর আধ্যাত্মিক কারণ।

ধনতেরাস – ৬ নভেম্বর, শুক্রবার (১৩টি প্রদীপ)

কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ধনতেরাস পালন করা হয়। এবং ত্রয়োদশী তিথির জন্যই ১৩টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এর মধ্যে প্রথম প্রদীপটি মৃত্যুর দেবতা যমরাজের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ মুখ করে জ্বালানো হয়। পরিবারের সদস্যদের বিপদ থেকে রক্ষা করতেই এই প্রদীপ দেওয়া হয়। এছাড়াও স্বাস্থ্য, মা লক্ষ্মী ও কুবেরকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে মোট ১৩টি প্রদীপ দেওয়া হয়। অনেক প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এই ১৩টি প্রদীপ বছরের ১৩টি চন্দ্র মাস বা ১৩টি জীবনীশক্তিরও প্রতীক।

ভূত চতুর্দশী – ৭ নভেম্বর, শনিবার (১৪টি প্রদীপ)

এই দিনটিকে অনেকে বাংলার হ্যালোউইন বলেও অভিহিত করেন। এই দিনে বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। মনে করা হয়, এই রাতে আমাদের ১৪ জন্মের পূর্বপুরুষ মর্ত্যে নেমে আসেন তাঁদের বংশধরদের আশীর্বাদ করতে। যেহেতু এই দিনটি চতুর্দশী, তাই ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই দিনে প্রদীপ জ্বালালে কোনও অশুভ শক্তি আপনার কাছে ঘেঁষবে না বলে মনে করা হয়। ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে পূর্বপুরুষদের শান্তির উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করা হয়। এর পাশাপাশি এই দিন ১৪ শাক খাওয়া হয়।

দীপাবলি – ৯ নভেম্বর, সোমবার (২১টি প্রদীপ)

এই দিন ধন-সম্পদের দেবী মা লক্ষ্মী ও ভগবান গণেশের পূজা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই অমাবস্যার অন্ধকারে মা লক্ষ্মী মর্ত্যলোকে নেমে আসেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে ও ঘরের প্রতিটি কোণকে আলোকিত করতে ২১টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার অনেকে বলেন, ত্রেতাযুগে লঙ্কা জয়ের পর, ১৪ বছরের বনবাস শেষ করে এই দিনেই ভগবান শ্রীরাম ও তাঁর স্ত্রী সীতা ও ভ্রাতা লক্ষ্মণ অযোধ্যায় ফিরেছিলেন। অযোধ্যাবাসী তাঁদের প্রিয় রাজাকে স্বাগত জানাতে পুরো নগরীকে প্রদীপের আলোয় সাজিয়ে তুলেছিলেন। এর আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার বাংলায় কালীপুজো পালিত হবে।

কেন ২১টি প্রদীপই জ্বালানো হয়, ২২টি নয়?

৫টি জ্ঞানেন্দ্রিয়- চোখ, কান, নাক, জিভ, ত্বক

৫টি কর্মেন্দ্রিয়- হাত, পা, মুখ, মলদ্বার, জননাঙ্গ

৫টি প্রাণ- শরীরের ভিতরের ৫টি বায়ু

৫টি উপাদান- ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বাতাস, আকাশ

১টি মন/আত্মা

এই ২১টি উপাদানের শুদ্ধিকরণ করার উদ্দেশ্যে ২১টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, সংখ্যার বিচারে ২১ এর যোগফল হয় ২+১=৩, যা দেবগুরু বৃহস্পতির সংখ্যা। প্রদীপের আলো ও শুভ সংখ্যার প্রভাবে ঘরের বাস্তুদোষ কাটে ও ঘরে পজিটিভ এনার্জির সঞ্চার হয়।

ভাইফোঁটা – ১১ নভেম্বর, বুধবার (৫টি প্রদীপ)

ভাইফোঁটাতে ৫টি প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম রয়েছে। এই ৫টি প্রদীপ আসলে পঞ্চভূতের প্রতীক। ৫টি মূল উপাদান (ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম অর্থাৎ মাটি, জল, আগুন, বাতাস, আকাশ) ভাইয়ের রক্ষাকর্তা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মানবদেহে ৫টি জীবনীশক্তি বা পঞ্চপ্রাণের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও তেজ কামনা করেন। অনেকে মনে করেন, ৫ প্রদীপ আসলে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম এবং আকাশ – এই ৫ দিক থেকে আসা সব বিপদ থেকে ভাইকে রক্ষা করে।

প্রদীপের মাটির আধার আমাদের নশ্বর দেহ, তেল বা ঘি আমাদের কর্ম ও তুলোর বাতি আমাদের অহংকার ও আত্মাকে নির্দেশ করে। প্রদীপ জ্বালার মাধ্যমে আমাদের শরীরের অজ্ঞানতা দূর করে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়। এমনকি প্রদীপের পবিত্র শিক্ষা গৃহের সমস্ত নেগেটিভ এনার্জি দূর করে পজিটিভ এনার্জির বিস্তার ঘটায়, যা মনকে পবিত্র রাখে।

Follow Us