রান্নাঘরে জুতো-চটি পরে প্রবেশ করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ
যেখানে শুদ্ধতা বজায় থাকে না, সেখান থেকে দেবী লক্ষ্মী ও মা অন্নপূর্ণা বিদায় নেন। এর ফলে অকারণে সংসারে অশান্তি, মনোমালিন্য এবং সম্পর্কের তিক্ততা বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, এর প্রভাবে ঘরের অন্নের ভাণ্ডারে টান পড়ে এবং ধীরে ধীরে আর্থিক অনটন গ্রাস করতে থাকে।

হিন্দু শাস্ত্র মতে, রান্নাঘর হল মা অন্নপূর্ণার অধিষ্ঠান ক্ষেত্র। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, জুতো বা চটি পরে রান্নাঘরে প্রবেশ করা মানে দেবী অন্নপূর্ণার পবিত্রতাকে ক্ষুন্ন করা। বাইরে থেকে জুতো-চটির সঙ্গে আসা ধুলো-বালি আসলে অশুভ এবং নেতিবাচক শক্তির বাহক। জেনে নিন রান্নাঘরে কেন জুতো পরা বর্জনীয়-
জুতো-চটি পরে রান্নাঘরে ঢুকলে ঘরের অন্দরে নেতিবাচক উর্জার আধিক্য ঘটে। বাস্তুশাস্ত্র বলছে, যেখানে শুদ্ধতা বজায় থাকে না, সেখান থেকে দেবী লক্ষ্মী ও মা অন্নপূর্ণা বিদায় নেন। এর ফলে অকারণে সংসারে অশান্তি, মনোমালিন্য এবং সম্পর্কের তিক্ততা বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, এর প্রভাবে ঘরের অন্নের ভাণ্ডারে টান পড়ে এবং ধীরে ধীরে আর্থিক অনটন গ্রাস করতে থাকে।
বাস্তুর তত্ত্ব অনুযায়ী, রান্নাঘর হল ‘অগ্নি’ তত্ত্বের প্রধান আধার। অন্যদিকে, জুতো-চটি বাইরের ভারী উর্জার প্রতীক, যা অনেকটা ‘পৃথিবী’ তত্ত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আগুনের সংস্পর্শে এই বাইরের ভারী শক্তি এলে তত্ত্বর ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। এর ফলে গৃহকর্তার উন্নতির পথে বারবার বাধা আসে এবং অযথা খরচ বেড়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মানসিক অস্থিরতা তৈরি হওয়াও অসম্ভব নয়।
কেবল আধ্যাত্মিক বা বাস্তু নয়, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও রান্নাঘরে জুতো নিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর। সারাদিন বাইরে ঘোরার ফলে জুতোর নিচে কোটি কোটি ধুলিকণা এবং রোগ-জীবাণু বা ব্যাক্টেরিয়া বাসা বাঁধে। জুতো পরে রান্নাঘরে ঢুকলে সেই জীবাণু সরাসরি মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে, যা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে বড় ধরণের অসুস্থতা ডেকে আনতে পারে। তাই সুস্বাস্থ্যের খাতিরে রান্নাঘরের মেঝে সবসময় জীবাণুমুক্ত এবং পরিষ্কার রাখা একান্ত জরুরি।
সংসারে শ্রীবৃদ্ধি এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আজই এই অভ্যাস ত্যাগ করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। মনে রাখবেন, রান্নাঘরের পবিত্রতাই হল আপনার সুখী গৃহকোণের চাবিকাঠি।
