Maha Shivratri 2025: মহা শিবরাত্রিতে কেন চার প্রহরেই পুজো করতে হয় ভোলেনাথের?

Feb 26, 2025 | 4:38 PM

Maha Shivratri 2025: নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আজ উপোস থেকে ব্রত পালন করবেন অনেকেই। এর পরে চারপ্রহরে বাবার মাথায় জল ঢালবেন তাঁরা। প্রশ্ন হল শিব পুজোর ক্ষেত্রে চার প্রহর কেন গুরত্বপূর্ণ? কী বলছেন শাস্ত্রজ্ঞরা?

Maha Shivratri 2025: মহা শিবরাত্রিতে কেন চার প্রহরেই পুজো করতে হয় ভোলেনাথের?
শৈবাগম শাস্ত্র অনুসারে, শিব হল পরমসত্তা। তিনি মহাজাগতিক চৈতন্য এবং পরাচৈতন্যের প্রতীক। শিবলিঙ্গের অবয়ব সেই সত্তাকেই মনে করায়। শৈবাগম শাস্ত্র বলছে ডিম্বাকৃত লিঙ্গ মহাজাগতের বিশাল ব্যপ্তির প্রতিভূ।

Follow Us

শুদ্ধ মনে, ভক্তিভরে এবং সামান্য কিছু উপকরণ দিয়ে পুজো করলেই হল। এতেই খুশি ভোলেনাথ। সেই উপাদানের মধ্যে রয়েছে ধুতুরা ফুল, বেলপাতা, জল, দুধ, ঘি এই সব। জোতিষবিদরা বলেন, ফাল্গুন মাসে মহাশিবরাত্রির দিনে চার প্রহরে ভোলেবাবার পুজো করলে খুশি হন তিনি। এই বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধে থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম প্রহর। চার প্রহর শেষ হচ্ছে ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আজ উপোস থেকে ব্রত পালন করবেন অনেকেই। এর পরে চারপ্রহরে বাবার মাথায় জল ঢালবেন তাঁরা। কিন্তু প্রশ্ন হল শিব পুজোর ক্ষেত্রে চার প্রহর কেন গুরত্বপূর্ণ? কী বলছেন শাস্ত্রজ্ঞরা?

একদিনের সময়কে বোঝানোর জন্য একটা সময় প্রহর দিয়ে বোঝানো হত। ২৪ ঘণ্টা সময়কে বিভিন্নভাবে বোঝানো হত। এক প্রহর অর্থাৎ ৩ ঘণ্টা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন শিবরাত্রি কিন্তু পুজো নয়। বরং এটিকে ব্রত বলাই ভাল। তাই প্রতি প্রহরে শিবকে পুজো নিবেদনের কথা বলা হয়। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে তবে জেনে বা অজান্তে কেউ পুজো নিবেদন করলেও তুষ্ট হন মহাদেব।

এক্ষেত্রে প্রচলিত রয়েছে এক ব্যাধের কাহিনি। সেদিন ছিল ফাল্গুন মাসের শিবচতুর্দশী অর্থাৎ মহাশিবরাত্রি। সারাদিন জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে আর কিছু খাওয়া হয়নি তাঁর। এদিকে প্রায় সন্ধে হয়ে এসেছে। ব্যাধ ঠিক করলেন সেই রাতটা একটা গাছের উপরে কাটিয়ে দেবেন তিনি। সেই মতো গাছের নীচে শিকার বেঁধে রেখে একটু উঁচুতে একটা ডালে উঠে শুয়ে পড়েন তিনি।

গাছটি ছিল বেল গাছ। কাছেই ছিল একটি শিব লিঙ্গ। সেই দিন গাছে ওঠার সময় ব্যাধের অজান্তে বেলপাতা গিয়ে পড়েছিল শিব লিঙ্গ। এদিকে সেই সময় তিনি ছিলেন উপবাসী। ব্যাধের অজান্তেই সেই দিন শিশির ভেজা বেলপাতা পড়ায় পূর্ণ হয়েছিল তাঁর শিব চতুর্দশীর ব্রত।

এই ঘটনার বেশ কয়েক বছর পরে ব্যাধের আয়ু শেষ হয়ে এলে তাকে নিতে আসেন যম দূতরা। এদিকে তখন যমদূতদের পথ রুখে দাঁড়ায় শিবগণেরা। ভীষণ যুদ্ধ বাঁধে দুই দলে। অবশেষে আর উপায় নেই দেখে ছুটে আসেন স্বয়ং যম। যমকে আটকাতে পথে এসে দাঁড়ান শিবের বাহন নন্দী। শেষে সুরাহার জন্য শিবের কাছেই যান দুই দল। তখন শিব জানান ও আমার ব্রত করেছে তাই ওঁকে নিয়ে যাওয়া যাবে না। যম জানিয়ে দেন যাঁরা শিবের ব্রত করেন তাঁদের উপরে যমের কোনও অধিকার থাকে না।