হিন্দু ধর্মালম্বীদের মধ্যে অন্যতম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল মহা শিবরাত্রি। এমনিতে প্রত্যেক মাসের কৃষ্ণচতুর্দশী তিথিতে থাকে শিবরাত্রি। তবে ফাল্গুন মাসের এই তিথির বিশেষ এক গুরুত্ব রয়েছে। এই দিন যে কঠিন তপস্যার ফল পেয়েছিলেন দেবী পার্বতী। বিয়ে হয়েছিল হর-পার্বতীর।
মনে করা হয় এই দিন চার প্রহরে মহাদেবের পুজো করলে পূরণ হয় মনস্কামনা। আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি উপোস করে চার প্রহরে পুজো করতে হবে।
প্রথম প্রহর শুরু ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধে ৬টা বেজে ১৯ মিনিটে। শেষ হবে রাত ৯টা ২৬ মিনিটে।
দ্বিতীয় প্রহর শুরু হবে রাত ৯টা ২৬ মিনিটে শেষ হবে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে।
তৃতীয় প্রহর শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ৩৪ মিনিটে। শেষ হবে ভোর ৩টে ৪১ মিনিটে।
চতুর্থ প্রহর শুরু ২৭ ফেব্রুয়ারি ভোর ৩টে ৪১ মিনিটে। শেষ হবে ভোর ৬টা ৪৮ মিনিটে।
চার প্রহরে পুজোর নিয়ম –
ধূপ, প্রদীপ, অক্ষত, সাদা, ঘি, বেল, ভাং, কুল, গরুর দুধ, আখের রস, গঙ্গাজল, কর্পূর, মলয়গিরি, চন্দন, পাঁচ রকম মিষ্টি, শিব ও মা পার্বতীর সাজসজ্জার উপকরণ, পাঁচটি শুকনো ফল, চিনি, মধু, আমের পল্লব, বার্লি কানের দুল, যব, আভূষণ এবং বস্ত্র, দই, ফল, ফুল, পান, ধূতরো, তুলসী, পৈতে, পঞ্চ রস, সুগন্ধি, গন্ধ রোলি, কুশাসন প্রয়োজন শিবরাত্রির পুজোর জন্য।
সবার আগে ব্রহ্ম মুহূর্তে সারতে হবে স্নান। স্নান সেরে উপবাসের সংকল্প গ্রহণ করতে হবে। রীতি মেনে শিব-পার্বতীর পুজো করুন। ভগবান শিবের মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে হবে।
শিবলিঙ্গে জল বেলপাতা, ভাঙ, ধূতরো ফুল ও ফল, সাদা চন্দন নিবেদন করুন। মন্দিরে গিয়ে নদীর পাশ থেকে পবিত্র মাটি নিয়ে এসে মাটির শিব মূর্তি বানিয়ে নিয়ে তাতেও নিবেদন করতে পারেন এই সব।
রাতে চার প্রহরে পুজোর সময় দই, ঘি, দুধ, জল, চিনি, মধু দিয়ে শিবলিঙ্গকে স্নান করান। আখের রস দিয়েও স্নান করাতে পারেন বা ব্যবহার করতে পঞ্চমৃত। চার প্রহরের শেষে ঠাকুরকে নিবেদন করা ভোগ খেয়ে তবে উপোস ভাঙুন।
প্রত্যেকবার জল ঢালার সময় এই চারটি মন্ত্র উচ্চারণ করুন –
১। ওম উল্লম্ব পৃথিবী বিস্ফোরিত। ওম নমঃ শিবায়। ওম হ্রীম হরণ নমঃ শিবায়।
২। ওম নমো ভগবতে দক্ষিণামূর্ততে মহায়াম মেধা প্রয়াশ্চ স্বাহা।
৩। ওম ইম ক্ষঃ মা আন্ত ওম। ওম প্রন হরিম থাহ।
৪। ওম নমো নীলকণ্ঠায়। ওম পার্বতীপতয়ে নমঃ। ওম পশুপাতে নমঃ।
বিঃ দ্রঃ – এই প্রতিবেদনে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, তা ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে প্রাপ্ত তথ্য। এই বিষয়ে কোনও দায় নেই TV9 Bangla-র।