AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

MahaShivratri 2024: মহেশ্বরের জটায় অর্ধচন্দ্র কেন? পড়ুন পৌরাণিক কাহিনি

Mythology: পৌরাণিক ও হিন্দু পুরাণ অনুসারে, মহাদেবের রয়েছে নানা নাম, নাানা রূপ। মহেশ্বরকে নীলকান্ত, চন্দ্রশেখর নামেও ডাকা হয়। তবে এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কাহিনি। এছাড়া মহাদেবের পোশাক-আশাক নিয়েও রয়েছে আলাদা কৌতূহল। বাঘের ছাল, রুদ্রাক্ষের মালা, গলায় সাপ জড়ানো, জটায় চাঁদ, এমন বেশে কোনও দেবতাকেই দেখা যায় না। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, মহেশ্বরের জটায় অর্ধচন্দ্রের অবস্থান কেন থাকে?

MahaShivratri 2024: মহেশ্বরের জটায় অর্ধচন্দ্র কেন? পড়ুন পৌরাণিক কাহিনি
| Edited By: | Updated on: Mar 06, 2024 | 2:24 PM
Share

সামনেই মহাশিবরাত্রি। আর তার জেরে শিবপুজোর মাহাত্ম্যের বিষয়ে আরও বেশি করে কৌতূহল জাগছে ভক্তের মনের মধ্যে। শিব পুরাণে তো রয়েছেই, হিন্দুশাস্ত্র ও বিভিন্ন পুরাণে শিবের মাহাত্ম্য ও পৌরাণিক কাহিনি বর্ণিত রয়েছে। কথিত আছে, মহাদেব হলেন দেবতাদের দেবতা। তাঁর কোনও ধবংস নেই। তিনি সাধারণ থেকেও অসাধারণ। সব দেবতাদের থেকেও আলাদা তিনি। ফলে তাঁর জীবনের ও নামের গুরুত্ব সকল হিন্দুর কাছেই উল্লেখযোগ্য। শিবকে সন্তুষ্ট করতে ও আশীর্বাদ পেতে, প্রতি সোমবার ও শ্রাবণ মাসজুড়ে শিবভক্তরা উপবাস রেখে, নিষ্ঠাভরে শিবের মাথায় জল ঢেলে পুজো করে থাকেন। এছাড়া শিবঠাকুর অল্পতেই সন্তুষ্ট। দুধ, মধু, বেলপাতা, জল দিয়ে অভিষেক করলে, ভাঁ ও ধুতুরা দিয়ে নৈবেদ্য প্রদান করলে খুব সহজেই তুষ্ট হন মহাদেব। আর এই জিনিসগুলির সঙ্গেও রয়েছে মহাদেবের নানা কাহিনি।

পৌরাণিক ও হিন্দু পুরাণ অনুসারে, মহাদেবের রয়েছে নানা নাম, নাানা রূপ। মহেশ্বরকে নীলকান্ত, চন্দ্রশেখর নামেও ডাকা হয়। তবে এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু কাহিনি। এছাড়া মহাদেবের পোশাক-আশাক নিয়েও রয়েছে আলাদা কৌতূহল। বাঘের ছাল, রুদ্রাক্ষের মালা, গলায় সাপ জড়ানো, জটায় চাঁদ, এমন বেশে কোনও দেবতাকেই দেখা যায় না। তবে অনেকেরই প্রশ্ন, মহেশ্বরের জটায় অর্ধচন্দ্রের অবস্থান কেন থাকে?

কিংবদন্তি মতে, একটা সময় ছিল, যখন স্বর্গের দেবদেবীদের সঙ্গে রাক্ষসদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ তৈরি হয়। হিন্দুধর্মে সেই মহাসঙ্কট সমুদ্রমন্থন নামে পরিচিত। মন্থনের সময় সাগর থেকে হলাহল নামে বিষাক্ত বিষ উত্থিত হয়। সেই মন্ত্রণের সময় হলাহলের বিষাক্ত প্রভাবে গোটা বিশ্বই ধ্বংসের মুখে পড়ে। তবে সেইসময় বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডকে ধ্বংসের হাত থেকে মুক্তি দিতে মহাদেব সেই বিষাক্ত বিষ নিজের কণ্টে ধারণ করেন। সেই বিষের জ্বালায় তাঁর কণ্ঠ নীল হয়ে যায়। সেই থেকে তাঁর নাম হয় নীলকান্ত। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে,বিষ পানের জ্বালায় ও চরম প্রভাবে ভোলেনাথের তীব্র জ্বর শুরু হয়েছিল। সেই বিষের জ্বালাকে শীতল করতে চন্দ্রদেব-সহ স্বর্গের সব দেবদেবীই তাঁর মাথায় চন্দ্রকে ধারণ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। চন্দ্র ধারণ করার পর ধীরে ধীরে শিবের তপ্ত দেহ ঠাণ্ডা হতে শুরু করে।

আরও এক পৌরাণিক কাহিনি মতে, চন্দ্রমার স্ত্রী ছিলেন ২৭ জন নক্ষত্রকন্যা। তাদের মধ্যে রোহিণী ছিলেন চন্দ্রদেবের সবচেয়ে প্রিয় এক পত্নী। রোহিনীকে ভালোবাসায় কষ্ট পেয়েছিলেন চন্দ্রমার অন্যান্য স্ত্রীরা। স্বামীর একপেশে প্রেমের কারমে পিতা প্রজারপতি দক্ষিণের কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দক্ষিণ চন্দ্রদেবকে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিশাপ দেন। সেই কারণেই চাঁদের গায়ে ক্ষত-বিক্ষত হওয়ার চিহ্ন দেখা যায়। ভিতরে ভিতরে ক্ষয় হতে থাকে। চন্দ্রদেবের এমন পরিস্থিতি দেখে নারদ চন্দ্রমাকে মহাদেবের আরাধনা করতে বলেন। নারদের পরামর্স অনুসারে, চন্দ্রদেব শিবনাম জপে কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করে। শিবের কৃপায় পূর্ণিমায় চাঁদ পূর্ণরূপে আবির্ভাব হতে শুরু করে। চন্দ্রের অনুরোধে মহাদেব জটায় অর্ধচন্দ্র ধারণ করেন। সেই থেকে ভক্তরাও শিবের পাশাপাশি চন্দ্রদেবেরও পুজো করে থাকেন।

হিন্দু ধর্ম অনুসারে, চাঁদকে শিবের একটি অপরিহার্য অলঙ্কার বলে মনে করা হয়। কথিত আছে, কোনও ভক্ত যদি শুদ্ধ চিত্তে শিবের কাছে প্রার্থনা করেন, মহাদেব কখনও ফেরান না তাঁকে। তার সব ইচ্ছে পূরণ করেন তিনি।

Follow Us