
রায়পুর : গতকাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bengaluru) বিরুদ্ধে ২ উইকেটে হেরে গিয়েছে পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স (Mumbai Indians)। এর ফলে ২০২৬ সালের আইপিএল (IPL 2026) থেকে ইতিমধ্যেই বিদায় ঘটে গিয়েছে রোহিত-সূর্যদের। রবিবার রায়পুরের মাঠে বেঙ্গালুরুকে জিততে গেলে শেষ ২ ওভারে করতে হত ১৮ রান। ১৯তম ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়েছিলেন বুমরা (Jasprit Bumrah)। তবু অনামী রাজ বাওয়ার (Raj Bawa) শেষ ওভারের শেষ বলে নতিস্বীকার করতে হয়েছে মুম্বইকে। এই পরাজয়ের ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে আইপিএল ২০২৬ থেকে ছিটকে গেল মুম্বই। ১১ ম্যাচের মধ্যে ৮ ম্যাচেই হার – দলের এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্সে হতাশ সমর্থকরা। ২০১৩, ‘১৫, ‘১৭, ‘১৯, ‘২০ – মোট পাঁচবার ট্রফি পেলেও ১৯ বছরের আইপিএল ইতিহাসে এই নিয়ে অষ্টমবার গ্ৰুপ পর্বেই বিদায় নিল ‘পল্টন’ রা।
মুম্বইয়ের ব্যর্থতার ইতিহাস:
অতীতেও গ্ৰুপ পর্ব থেকেই বিদায় ঘটেছে মুম্বইয়ের। ২০০৮, অর্থাৎ আইপিএলের প্রথম বছরেই ‘স্ল্যাপগেট’ (Slapgate) বিতর্ক ও সচিনের (Sachin Tendulkar) চোটের কারণে ভাল ফল করতে ব্যর্থ হয়েছিল মুম্বই। ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হওয়া এই প্রতিযোগিতায় ক্রমাগত ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সপ্তম স্থানে আইপিএল যাত্রা শেষ করেন সচিনরা। ২০১৫ ও ২০১৭ – এই দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলেও আবার ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিযোগিতায় নেমে গ্ৰুপ পর্ব থেকেই বিদায় ঘটে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন দলকে। এরপরে যদিও ২০১৯ ও ২০২০ সালে পরপর জিতে পাঁচবার এই শিরোপা পাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল মুম্বই ব্রিগেড। কিন্তু ২০২১ সালেই হয় ভরাডুবি। রান রেটের গেরোয় আটকে পঞ্চম স্থানে আইপিএল যাত্রা শেষ করেছিল মুম্বই। তার পরের বছর দশম স্থানে শেষ করা ছিল আইপিএল ইতিহাসে মুম্বইয়ের সবথেকে জঘন্য পারফরম্যান্স। সেই বছর ১৪ ম্যাচের মধ্যে ১০ ম্যাচেই হারতে হয়েছিল দলকে। ২০২৪ সালে রোহিতকে সরিয়ে হার্দিক পান্ডিয়াকে অধিনায়ক করে মুম্বই ম্যানেজমেন্ট। এরপর তাঁকে নিয়ে ক্রমাগত বিতর্ক শুরু হয়। এমনকি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রকাশ্যে আসা সেই বছরও দলকে পয়েন্টস টেবিলের তলানিতে নিয়ে যায়। সেই বছরেও ১০ ম্যাচে হারতে হয়েছিল নীল-সোনালি ব্রিগেডকে।
২০২৬ সালেও সেই একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটল। ১১ ম্যাচে মাত্র ৩টি জয় নিয়ে এই মুহূর্তে পয়েন্টস্ টেবিলের নবম স্থানে মুম্বই। ব্যাটিং এবং বোলিং – দুই বিভাগেই ব্যর্থ সূর্যরা। বিপক্ষ দলের রানের গতি আটকালেও ১১ ম্যাচে মাত্র ৩ উইকেট পেয়েছেন দলের তারকা বোলার যশপ্রীত বুমরা। হাতে থাকা বাকি ৩ ম্যাচ এখন সম্মানরক্ষার লড়াই মুম্বইয়ের কাছে। সেই ৩ ম্যাচেই জিতে মুম্বই চাইবে টেবিলের তলানি থেকে কিছুটা উপরে উঠে একটু হলেও সম্মানজনক অবস্থা নিয়ে মরসুম শেষ করতে। নাহলে এই আইপিএল আরও একরাশ লজ্জা উপহার দেবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের।