
কলকাতা: ইমামির সঙ্গে কি ইস্টবেঙ্গলের চুক্তি ভাঙতে চলেছে? আইএসএল শুরুর আগে ইস্টবেঙ্গলের কর্তা দেবব্রত সরকারের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যকে ঘিরে ময়দানে জল্পনা। বছর চারেক আগে লাল-হলুদের সঙ্গে বিনিয়োগকারী সংস্থা হিসেবে গাঁটছড়া বাঁধে ইমামি। এই সম্পর্কের সূত্র গড়ে দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাঝে মাঝেই টিমের জন্য বরাদ্দ বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন ক্লাব কর্তারা। ভালো ফুটবল দল গড়তে এর আগে বাজেট বাড়িয়েওছেন বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তারা। এমনকি দল পরিচালনার ক্ষেত্রেও ক্লাবের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে ইমামি। বৃহস্পতিবার বিকেলে ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকারের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের পর হঠাৎই বিচ্ছেদের সুর!
আইএসএলের হোম ম্যাচ কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে খেলতে চেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। যা একেবারেই না-পসন্দ ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকারের। ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে হোম ম্যাচ দেখতে না যাওয়ার কথা বলছেন তিনি। কিশোর ভারতীতে দর্শকসংখ্যা কম। সদস্যদের পর্যাপ্ত টিকিট দিতে পারবে না ক্লাব। এ ছাড়া অন্যান্য স্পনসরারদেরও টিকিট দেওয়া অসম্ভব। এখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। এই ঘটনার রেশ ধরেই দেবব্রত সরকার বলে দিয়েছেন, ‘ইমামির কাজে আমরা কৃতজ্ঞ। কারণ কঠিন সময়ে ওরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে ওঁরা আমাদের প্রায়ই বলে থাকেন, খেলাধূলায় ওঁদের বিশেষ আগ্রহ নেই। ধার্মিক বিষয়েই ওঁদের ফোকাস। আমাদের বিকল্প ইনভেস্টর খোঁজার কথা বলেছেন। যতদিন না বিকল্প হিসেবে কাউকে পাচ্ছি, ওঁরা ইনভেস্ট করতে রাজি।’
এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যকে ঘিরেই তোলপাড় ময়দান। আইএসএল শুরুর আগে হঠাৎই বিচ্ছেদের গুঞ্জন লাল-হলুদে! এর আগেও ইস্টবেঙ্গলে এসেছেন নামী ইনভেস্টর। কিন্তু কেউই দীর্ঘদিন থাকেনি। সে দিক থেকে ইমামির মেয়াদ বেশি। তবে এই ইমামির সঙ্গে এর আগেও বিচ্ছেদের হাওয়া উঠেছে। সে সব ক্ষেত্রেও ক্লাবের শীর্ষ কর্তার মন্তব্য নিয়ে দু’পক্ষে চাপানউতোর। শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ হতে হতে হয়নি। এ বারও কি তেমনই হবে? নাকি, এ বার চরম বার্তাই মিলছে?
বিনিয়োগকারী সংস্থার কর্তা আদিত্য আগরওয়াল টিভি নাইন বাংলাকে বললেন, ‘আমি ওঁর মন্তব্য শুনিনি। তবে এই সম্পর্ক অন্য রকম ভাবে হয়। শুধুমাত্র টাকার সম্পর্ক হয় না। আমাদের সম্পর্ক টাকার চেয়ে অনেক উঁচুতে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব খেলতে থাকবে। যতদিন না ক্লাব আমাদের বারণ করছে, আমরা বিনিয়োগ করে যাব।’ ময়দানে অবশ্য জোর গুঞ্জন ইমামির সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের দূরত্ব বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিনিয়োগকারী সংস্থার মনোভাবে নাকি খুশি নয় ক্লাবের একাংশ। অদূর ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক কোনদিকে গড়ায় সে দিকেই তাকিয়ে ময়দান।