Abhishek Reddy: জোড়া অস্ত্রোপচার, প্যারালাইসিসের ভয় কাটিয়ে ২২ গজে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন অভিষেক রেড্ডির
Ranji Trophy 2025-26: একটা দীর্ঘ সময় কেটেছিল হাসপাতালের বিছানায়। সেই দুঃসহ অধ্যায় পেরিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের ওপেনার অভিষেক রেড্ডি (Abhishek Reddy ) সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে হাঁকালেন এক অবিশ্বাস্য ২৪৭ রানের ডাবল সেঞ্চুরি।

দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট মাঠ থেকে দূরে থাকা, দু’বার বড় অস্ত্রোপচার এবং চিকিৎসকদের চরম সতর্কবার্তা— এই সব কিছুর সঙ্গে লড়ে ২২ গজে ফিরে এসেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের ওপেনার অভিষেক রেড্ডি (Abhishek Reddy)। একসময় চিকিৎসকরা ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। একটা দীর্ঘ সময় কেটেছিল হাসপাতালের বিছানায়। সেই দুঃসহ অধ্যায় পেরিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের এই ওপেনার সম্প্রতি ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে রঞ্জি ট্রফির ম্যাচে হাঁকালেন এক অবিশ্বাস্য ২৪৭ রানের ডাবল সেঞ্চুরি। এই ইনিংসের জোরে তাঁর দল ইনিংস ব্যবধানে জিতেছে। এমন স্বপ্নের মতো সফল প্রত্যাবর্তনই তো সকলে চায়।
স্বপ্ন ভাঙার পথে বাধা
কেরিয়ারের শুরুতেই বড় ধাক্কা আসে অভিষেক রেড্ডির জীবনে। ২০১৫ সালে কর্ণাটকের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়েছিল। প্রথম ম্যাচেই অর্ধশতরান করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার কিছুদিনের মধ্যেই চোট আঘাতে জর্জরিত হন। ২০১৬ সালে এক ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় ভেজা মাঠে তাঁর পা আটকে যায়। এর ফলে হাঁটুতে বড়সড় চোট লাগে। এরপর তাঁকে বড় অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এটা ছিল তাঁর প্রথম বড় সার্জারি।
প্রথমবারের অস্ত্রোপচারের পর অভিষেক সেরে উঠলেও, ২০২৩ সালে আবার রান নিতে গিয়ে ঠিক একই জায়গায় তাঁর একই পায়ে চোট লাগে। দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে। এই চোটগুলি এতটাই গুরুতর ছিল যে চিকিৎসকরা তাঁকে ক্রিকেট খেলা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করেন। তাঁরা বলেছিলেন, খেলা চালিয়ে গেলে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত (Paralysed) হতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও তিনি সচিন তেন্ডুলকরের একটি পোস্টার থেকে অনুপ্রেরণা নেন, যেখানে লেখা ছিল, “তোমার স্বপ্নকে ধাওয়া করো, সেগুলো সত্যি হয়।”
অদম্য মানসিকতার জয়
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিষেক শুরুর দিনগুলি প্রসঙ্গে বলেন, “আমার যখন অভিষেক হয়, তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ২০। আমার মধ্যে সেই তেজ ছিল। কিন্তু দুটি অস্ত্রোপচার আমাকে খুব খারাপ জায়গায় নিয়ে গিয়ে দাঁড় করিয়েছিল। অবশেষে যেখানে ফিরতে চেয়েছিলাম, সেখানে ফিরে আসতে পেরে আমি সত্যিই খুশি।”
কেরিয়ারের শুরুর দিকে কর্ণাটকের দলে জায়গা করে নেওয়া নিয়ে তিনি বলেন, “মনে আছে, ২০১৫ সালে কর্ণাটকে সুযোগ পাওয়ার পর আমি রান করে গিয়েছি। সেই দলে রবিন উথাপ্পা, মায়াঙ্ক আগরওয়াল, মনীশ পান্ডেদের মতো বড় বড় খেলোয়াড়েরা ছিলেন। সেখানে নিজের জায়গা তৈরি করা কঠিন ছিল, কিন্তু আমি ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে সেটা পেরেছিলাম। তবে ২০১৬ সালে অস্ত্রোপচারের পরেই সব পাল্টে গেল।”
চোট এবং মানসিক লড়াই সম্পর্কে তিনি বলেন, “২০১৬ সালে গুরুতর চোট লেগেছিল। ভেজা মাঠে ফিল্ডিং করার সময় আমার পা আটকে গিয়েছিল এবং হাঁটু ও পেশিতে চোট পেয়েছিলাম। দ্বিতীয়বার ২০২৩ সালে একই জায়গায়, একই পায়ে আঘাত লাগে। আবারও অস্ত্রোপচার করাতে হয়। সেই বছরগুলিতে ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথা আমার মাথায় এসেছিল, কিন্তু আমি সেই ভাবনাগুলোকে আমার স্বপ্নের ওপর প্রভাব ফেলতে দিইনি।”
দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা সহ্য করা এবং ক্রিকেট থেকে দূরে থাকা সত্ত্বেও, অভিষেক রেড্ডি হাল ছাড়েননি। তিনি জানান, তাঁর সতীর্থ ও বন্ধু অভিমন্যু মিথুন তাঁকে মানসিকভাবে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ফিরে এসে তিনি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, “এখন আমার ৩১ বছর বয়স, আর আমি যেখানে আছি তা নিয়ে খুশি। আমি এখনও সেই একই আক্রমণাত্মক অভিষেক রেড্ডি। আমি এখনও শেষ করিনি।”
