‘নক আউট’ নায়ক সঞ্জু, দ্রাবিড়-লক্ষ্মণকে ট্রফি উৎসর্গ গম্ভীরের!
একমাস আগে সঞ্জু নিজেও মানতে পারেননি, তিনি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পাবেন। দলেই জায়গা হচ্ছিল না তাঁর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ৫ ম্যাচে করলেন মাত্র ৪৬ রান। বিশ্বকাপেও সুযোগটা পাওয়া তাঁর অভাবনীয়ভাবে।

কলকাতা : জেকব ডাফির ক্যাচটা বাউন্ডারি লাইনে তিলক ভার্মা ধরতেই মাঠে ঢুকে এল অগুনতি কচিকাঁচা। সবার হাতে একটা করে জাতীয় পতাকা। ততক্ষনে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা দেশে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী – আনন্দে উদ্বেল হয়ে উৎসবে শামিল। কাঁদছেন অধিনায়ক সূর্য। রীতিমতো নাচানাচি শুরু করে দিয়েছেন শিবম, বুমরারা। কমেন্ট্রি করতে এসে ইরফান পাঠান ‘আফগান জলেবি’ গানে আমেদাবাদের দর্শকদের সামনে উৎসবে ব্যস্ত। এই দৃশ্যই তো দেখতে চেয়েছিল ভারত। এই দৃশ্যের অপেক্ষায় ছিল প্রত্যেক ভারতীয় সমর্থক, যারা অভিশপ্ত ১৯ এর সেই হৃদয়ভাঙা মুহূর্তগুলির সাক্ষী হয়েছে। যারা দেখেছিল, ২০০৩ এর সচিন আর ২০২৩ এর কোহলিকে একই সারিতে দাঁড়াতে। যাদের কাছে রোহিতের যন্ত্রনাক্লিষ্ট মুখে ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার স্মৃতি এখনও তরতাজা। এই মাঠেই তো সেদিন উপস্থিত ছিলেন সূর্য। অথচ, আগামীকাল তিনি ট্রফি নিয়ে উদযাপন করলেন সবার সঙ্গে। একবার মনে হল, হয়ত চোখে জল জমছে সঞ্জু স্যামসনের। স্বাভাবিক, এই প্রতিযোগিতায় তিনিই তো আসল ‘কামব্যাক কিং’।
একমাস আগে সঞ্জু নিজেও মানতে পারেননি, তিনি বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার পাবেন। দলেই জায়গা হচ্ছিল না তাঁর। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ৫ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ৪৬ রান। বিশ্বকাপেও সুযোগটা পাওয়া তাঁর অভাবনীয়ভাবে। অভিষেক শর্মা হাসপাতালে ভর্তি না হলে তাঁর সুযোগই হয়না। ইডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তাঁর ৯৭* না থাকলে তো জেতেই না ভারত। এরপরে ওয়াংখেড়েতে ৮৯, গতকালের আহমেদাবাদের ৮৯। তিন ম্যাচেই যেন ভারতের কাপ ভবিষ্যৎ ঠিক হয়ে যায় সঞ্জুর ব্যাটে। ম্যাচের পর তিনি নিজেই বললেন,”২০২৪ বিশ্বকাপে আমি দলে থাকলেও খেলার সুযোগ পাইনি। তখন থেকেই ভাবতাম আমি ম্যাচে খেলব ও দলের হয়ে ভাল পারফর্ম করব।ওই খারাপ সময়ে সচিন স্যারের পরামর্শ আমার কাছে খুব লাভদায়ক হয়েছে। আমি ক্রমাগত তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আমার ব্যাটিং নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন।” সচিনের পরামর্শ শুনেই মনে পড়ে যায় ২০১৪ পতৌদি ট্রফি। ৫ ম্যাচের সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড গিয়েছিল ভারত ও সিরিজের ফল ছিল ইংল্যান্ডের পক্ষে ৩-১। সেই প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত ব্যর্থ ছিলেন বিরাট কোহলি। সিরিজের শেষে সচিনের পরামর্শেই নিজের টেকনিকে উন্নতি ঘটিয়েছিলেন বিরাট।
সঞ্জুর মতোই আজ তৃপ্ত গৌতম গম্ভীর। প্রেস কনফারেন্সে এসে দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণকে ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না গম্ভীর। বললেন,”আমি রাহুলভাই ও ভিভিএসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। রাহুল ভাই ও আমি, দুজনের পদ্ধতি আলাদা তবু আমরা জানতাম আমাদের মধ্যে জেতার রসদ আছে। আমরা শুরু থেকেই চেয়েছিলাম হাই রিস্ক গেম খেলতে। আমরা ঝুঁকি নিতে চেয়েছি বারবার। ১৬০, ১৭০ রানের থেকে আমরা ২৫০ রান তোলাতে বেশি আগ্রহী ছিলাম।” কাল মাঠে এসেছিলেন রোহিত থেকে ধোনি, কপিল থেকে অমিত শাহ। তাঁদের সামনেই অভিশাপ মুক্ত হল আমেদাবাদ। ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন ‘চেত্তা’ সঞ্জু স্যামসন। তাঁর পারফরম্যান্সই প্রমাণ করল, সুযোগ পেলে মানুষ কোন পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে যেতে পারে।
