
কলকাতা: ক্যারিবিয়ান ঝড় আর দেখা যাবে না কেকেআরে। বেগুনি জার্সিতে হঠাৎ করে ঘুরিয়ে দেবেন না ম্যাচ। কিংবা বল হাতে এমন কেউ থাকবেন না, যিনি কয়েক বলেই ঘুরিয়ে দেবেন খেলা। আন্দ্রে রাসেল অবশ্য কেকেআরে থাকছেন কোচের ভূমিকায়। কিন্তু তাঁর জায়গাটা কে নিতে পারেন নাইট শিবিরে? রাসেলের বিকল্প তুলে নিল কেকেআর। আগামী আইপিএলে কেকেআরে খেলতে দেখা যাবে ক্যামেরন গ্রিনকে। তুমুল লড়াই করে গ্রিনকে ছিনিয়ে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
২ কোটি টাকা ছিল বেস প্রাইস। প্রায় সাড়ে ৬৪ কোটি টাকা পার্সে নিয়ে আবু ধাবির মিনি নিলামে কেকেআর কিন্তু টার্গেট করেছিল গ্রিনকে। আরসিবি, রাজস্থানের সঙ্গে শুরুতে লড়াই করলেও সিএসকে আসরে নামতেই রোমাঞ্চ বেড়ে যায়। কিন্তু কেকেআর একবার লড়াই থেকে সরেনি। শেষ পর্যন্ত ২৫ কোটি ২০ লাখ টাকায় গ্রিনকে তুলে নেয় কেকেআর-ই। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি প্লেয়ার শ্রেয়স আইয়ার। গত মরসুমে ২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় তাঁকে তুলেছিল পঞ্জাব কিংস। কিন্তু বিদেশি ক্রিকেটারদের দামের ইতিহাসে নয়া রেকর্ড তৈরি করে ফেললেন গ্রিন। ২০২৪ সালে মিচেল স্টার্ককে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় নিলাম থেকে তুলেছিল কেকেআর। তখন কোচ ছিলেন গৌতম গম্ভীর। গ্রিন ছাপিয়ে গেলেন গ্রিনকেও।
২০২৩ সালে প্রথমবার আইপিএলে খেলেন ক্যামেরন গ্রিন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ৪৫২ রান করেছিলেন। নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার পরের বছর গিয়েছিলেন আরসিবিতে। ২৫৫ রান করার পাশাপাশি ১০টা উইকেট নিয়েছিলেন অলরাউন্ডার। তার পরের বছর অবশ্য় চোটের কারণে খেলতে পারেননি। পিঠের চোটের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল। সেই গ্রিন যে মিনি নিলামে সব দলের টার্গেট হয়ে উঠতে পারেন, জানাই ছিল। পেসার অলরাউমন্ডার রাসেলকে হারিয়ে কেকেআর-ও এমন কাউকে চাইছিল, যিনি রাসেলের ভূমিকায় সফল হতে পারেন। গ্রিন ছাড়া এই মুহূর্তে উপযোগী ক্রিকেটার আর কেউ নন।
দলের সিইও ভেঙ্কি মাইসোর বলেছেন, ‘গ্রিনের মতো কাউকে নিতে চেয়েছিলাম আমরা। যে দামে ওকে পেয়েছি, তাতে খুশি। তবে দাম যাতে বিরাট চড়ে না যায়, সেটাও মাথায় রাখতে হয়েছিল। চড়া দামে গ্রিনকে নিলে পুরো নিলাম প্রক্রিয়াটাতে প্রভাব পড়ত। টিমের পাওয়ার কোচ রাসেল। গ্রিনের মতো তরুণ অলরাউন্ডারকে পেয়ে ও-ও নিশ্চয়ই খুশি হবে। ব্যাট আর বল হাতে কী করতে পারে গ্রিন আমরা ভালো করেই জানি।’