
ইসলামাবাদ: বাংলাদেশের ইউনূস প্রশাসনের সঙ্গে এখন ‘গলায় গলায় বন্ধুত্ব’ শেহবাজ শরিফের পাকিস্তানের। আর সেই বন্ধুত্ব ‘অটুট’ রাখতে গিয়েই টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান। আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের করার কথা জানাল। তবে বাংলাদেশের থেকে কিছুটা অন্য পথে গিয়ে তারা জানাল, টি-২০ বিশ্বকাপে খেলবে।
রবিবার পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করল, পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। তবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিরুদ্ধে যে ম্যাচ রয়েছে, সেই ম্যাচ খেলবে না পাকিস্তান।
নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসতে চায়নি বাংলাদেশ। আইসিসির ভোটাভুটিতে গোহারান হেরেও শিক্ষা হয়নি ইউনূস সরকারের। বিশ্বকাপ থেকেই আগাম ছুটি হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের। এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ হারিয়েছে পদ্মাপারের দেশ।
বাংলাদেশ টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাদ যাওয়ার পর হঠাৎ ঘোলা জলে মাছ ধরতে নামে পাকিস্তান। আইসিসির ভোটাভুটিতে বাংলাদেশ-প্রেম জেগে উঠেছিল পাকিস্তানের। সেখানে ব্যর্থ হয়ে এবার বিশ্বকাপে ভারতকে চাপে ফেলার কৌশল নেন মহসিন নাকভিরা। প্রথমে বিশ্বকাপ বয়কটের ফাঁকা আওয়াজ দিলেও শেষমেশ কলিজার জোর দেখাতে পারেনি পাকিস্তান। এদিন পাকিস্তান সরকার সুর নরম করে জানাল, বিশ্বকাপ খেলবে তাদের দেশ। তবে ‘বন্ধু’ দেশের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে তারা ঘোষণা করল, ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না।
পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে খোঁচা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতের বিরুদ্ধে লাগাতার হারের ভয়েই পাকিস্তান আগেভাগে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা করল বলে কটাক্ষ করছেন তাঁরা। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, টি-২০ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ম্যাচ পড়লেও কি বয়কটের পথে হাঁটবে শেহবাজ শরিফের সরকার? নাকি তখন ম্যাচ খেলতে নামবে? তাহলে এই ম্যাচ বয়কটের কারণ কী, সেই প্রশ্ন উঠবে। সবমিলিয়ে পাকিস্তানের এই হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়েই শোরগোল পড়েছে ক্রিকেট মহলে।
পাকিস্তানের এই ঘোষণার পর আসরে নামে আইসিসি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার কথা জানাল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা। একই সঙ্গে জানাল, বিশ্বকাপের মতো আসরে এভাবে বেছে বেছে ম্যাচ খেলা খেলা সম্ভব নয়। আইসিসির এই বার্তার পর পাকিস্তান পিছু হটে কি না, সেটাই দেখার।