
কলকাতা : দিন দুয়েক আগেই আরসিবি নিয়ে নতুন খবর শোনা গিয়েছিল। যেখানে তারা চিন্নাস্বামী দুর্ঘটনায় নিহত সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একগুচ্ছ নিয়মে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবে। গতবছর আইপিএলে ট্রফি সেলিব্রেশনের সময় চিন্নাস্বামীর বাইরে ১১ জন সমর্থকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পরেই বিতর্কের মুখে পড়ে বেঙ্গালুরুর স্টেডিয়াম। আগে খুব বিতর্ক হয়েছিল কিন্তু অবশেষে কর্নাটক সরকার চিন্নাস্বামীতেই আরসিবিকে খেলার ছাড়পত্র দিয়েছে। ৫টি ম্যাচ বেঙ্গালুরুতে ও ২টি ম্যাচ রায়পুরে খেলবে আরসিবি।
প্রথম ম্যাচেই আরসিবির প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। ২৮ মার্চ উদ্বোধনী ম্যাচেই বেঙ্গালুরুতে মুখোমুখি ২০১৬ আইপিএলের ফাইনালিস্টরা। দুই দলেই রয়েছেন বিশ্বমানের ব্যাটাররা। সবথেকে বেশি নজর থাকবে হায়দ্রাবাদের অভিষেক শর্মা ও আরসিবির বিরাট কোহলির দিকে। তবে এই ম্যাচে শুধু খেলা নয়, সমান গুরুত্ব পাবে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের নিরাপত্তাও। কিন্তু স্টেডিয়ামে দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে আরসিবি কর্তৃপক্ষ। যেমন –
1. কড়া নজরদারি ব্যবস্থা। জনগণরা যাতে সুরক্ষিত থাকেন, সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এই নজরদারি ব্যবস্থা।
2. নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকিট বিক্রি করা হবে ও স্টেডিয়ামে ঢোকার ক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গিয়েছে, কোনও ম্যাচেই হাউসফুল স্টেডিয়াম রাখা হবে না।
3. ভিড় নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি, এআই-য়ের ব্যবহার ও কড়া নিয়মে ব্যাগ ও দর্শকদের নিরীক্ষণ করা হবে।
4. মেডিকেল ও ইমার্জেন্সি প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হবে। যাতে কেউ আহত হলেই মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা করার সুযোগ পাওয়া যায়, এই বিষয়েই প্রস্তুত থাকতে চাইছে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের কর্মকর্তারা।
5. একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ম্যাচে দর্শক সংখ্যা কম রাখা হবে। সাধারণত, চিন্নাস্বামীর দর্শকাসনে ধরে প্রায় ৪০ হাজার। কিন্তু এই ম্যাচে রাখা হবে প্রায় ২৮ হাজার দর্শক। নিরাপত্তা আরও মজবুত করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মকর্তারা।
১৭ বছরের অপ্রাপ্তির পর অবশেষে ১৮তম বছরে ট্রফি পেয়েছিল আরসিবি। কিন্তু ১১ জন সমর্থকের মৃত্যু যেন নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে। তাঁদের শ্রদ্ধা জানাতেই এবার প্র্যাকটিসে প্রত্যেক আরসিবির ক্রিকেটার ১১ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামবেন। ম্যাচের সময়তেও তাঁরা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের প্রবেশ গেটেই ১১ জনের নামাঙ্কিত একটি স্মৃতি ফলক বানানো হবে। ম্যুরালের পাশেই থাকবে সেই ফলক। শুধু আইপিএল নয়, পাকাপাকিভাবেই সেই ফলকটি রাখার পরিকল্পনা করছে KSCA। এর পাশাপাশি গ্যালারিতে ১১টি সিট পাকাপাকিভাবে রিজার্ভ করে রাখা হবে সেই সমর্থকদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে। প্রিমিয়াম গ্যালারির ১১টি সিট রাখা হবে তাঁদের জন্য। এমনকি, আন্তর্জাতিক ম্যাচেও অবিক্রিত থাকবে ওই সিটের টিকিট। ভবিষ্যতে চিন্নাস্বামীতে আয়োজিত কোনও ম্যাচেই ওই ১১টি বিশেষ আসন বিক্রি হবে না। এভাবেই নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে চাইছে আরসিবি ও কর্নাটক সরকার।