
কলকাতা: বিহারের তাজপুরের বাসিন্দা বৈভব। চার বছর বয়সে খেলা শুরু। বাবার কাছেই প্রথম ক্রিকেটের ট্রেনিং। তাঁর বাবা সঞ্জীব সূর্যবংশী বাড়ির পিছনে সিমেন্টের পিচ বানিয়ে প্র্য়াকটিসের ব্যবস্থা করেন। ১৩ বছর বয়সে জেড্ডায় নিলামে ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকায় রাজস্থান দলে নেওয়া হয় তাঁকে। বাকিটা জানতে কারোরই বাকি নেই। গুজরাটের বিরুদ্ধে ম্যাচে বৈভবের দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ের পরে টুইটারে এমন কিছু হয়, যা নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন পুরুষ অধিকার কর্মী দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজ। এমন কী হল, যা নিয়ে পকসোর (POCSO) দাবি তুলেছেন নেটিজেনরা?
২৮ এপ্রিল তাঁর জীবনের তৃতীয় আইপিএল ম্যাচে নেমে ১০১ রান করে সারা ভারতকে চমকে দিয়েছেন ১৪ বছরের বিস্ময়বালক। বৈভব সূর্যবংশীর জন্য উল্লাসে ফেটে পড়েছিল পুরো ভারত। মাত্র ৩৫ বলে শতরান করে ভারতের সমস্ত ব্য়াটারদের পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন ১৪ বছরের কিশোর। প্রাক্তন এবং বর্তমান ক্রিকেটাররা এই তরুণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। তাঁর মধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের উজ্জ্বল তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকেই। অনেকে আবার ভয়ও পাচ্ছেন যেন বৈভবের খ্যাতি তাঁর পথের কাঁটা না হয়ে দাঁড়ায়।
এই সবের মাঝে একজন এক্স ইউজার, দীপিকা নারায়ণ ভরদ্বাজ যিনি একজন পুরুষ অধিকার নিয়ে কাজ করেন তিনি সোচ্চার হয়েছেন এক্স-এর একটি পোস্ট নিয়ে। একটি পোস্টে মাত্র ১৪ বছরের ওই কিশোরকে নিয়ে একটি অশ্লীল মন্তব্য করা হয়। যদিও নিশ্চিত করা যায়নি ওটি আদেও কোনও ফেক অ্যাকাউন্ট কিনা। নেটিজেনরা বলেছেন যে, পুরুষ বা মহিলা নির্বিশেষে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরণের অশ্লীল আচরণের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে অ্যাকশন নেওয়া উচিত। আমরা যদি কোনও নাবালিকা মেয়ে সম্পর্কে আপত্তিকর কিছু বলা হয়, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ দেখতে পাওয়া যায়, ঠিক তেমনই যুবকদেরও সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
এরপর অবশ্য একটি পোস্টে এমনও দেখা যায় যে, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে এমন মন্তব্য়ের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমাও চাওয়া হয়। ক্ষমা চেয়ে বলা হয়, ‘নিছকই মজা করে এই পোস্টটি করেছিলাম। বৈভবের ইনিংসটা দেখে উত্তেজিত হয়ে একটি অশ্লীল পোস্ট করে ফেলেছিলাম, সেই জন্য আমি লজ্জিত। আমি পোস্টটি ডিলিট করেছি এবং ভবিষ্যতে এমন কিছু হবে না।’