করোনার সময় কাছের মানুষরাই…বিস্ফোরক দাবি বরুণের!
এই বছরও নাইট দলে রয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর ভাল ফর্ম থাকলেও শেষের ম্যাচগুলিতে সেই অর্থে উইকেট পাননি বরুণ। এই নিয়েই চিন্তায় থাকবে কেকেআর। কিন্তু তাঁর এই অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে উন্মোচন করে দিল ভারতের 'টক্সিক ফ্যানবেস' কালচারকে।

কলকাতা : বিশ্বের চোখে এখনও তিনি মিস্ট্রি স্পিনার। সদ্য সমাপ্ত হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনিই সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। কিন্তু তাঁর জীবনেও রয়েছে এক ভয়ঙ্কর অতীত। দেশে না ফেরা থেকে মরে যাওয়ার মত হুমকির শিকার হয়েছেন তিনি, বরুণ চক্রবর্তী। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর তাঁর ক্রিকেটজীবন একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। সেই সময়, অর্থাৎ ২০২১ সালেই তাঁকে নিয়ে একের পর এক কুমন্তব্যে ভরে উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়া।
২০২১ সালে আইপিএল চলাকালীন প্রথমবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বরুণ চক্রবর্তী। এই ঘটনার ফলেই মাঝপথে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ‘২১-এর আইপিএল। ‘২১ সালের মে মাসের শুরুতে ৩০তম ম্যাচ শুরুর আগেই এই ঘটনা ঘটেছিল। বাতিল হয়ে গিয়েছিল আরসিবি বনাম কলকাতার ম্যাচ। বরুণের সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্দীপ ওয়ারিয়রও। আক্রান্ত হয়েছিলেন চেন্নাই শিবিরের কোচ লক্ষ্মীপতি বালাজি ও সিইও কাশী বিশ্বনাথন। আইপিএল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে অনেকে দায়ী করেছিলেন বরুণকে। যে ঘটনা নিয়ে বরুণ বলেছেন,”সেই সময় আইপিএলই ছিল বিনোদনের একমাত্র পথ। সেই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সবার চক্ষুশূল হয়েছিলাম আমি। সেই সময় মানুষ আমাকে প্রচণ্ড গালিগালাজ করত। আমাকে অজানা নম্বর থেকে ফোন করে দেশে না ফেরার জন্য হুমকি দেওয়া হত। যাদের আমি নিজের কাছের লোক ভাবি, তারা অর্থাৎ সমর্থকরা আমাকে বলত, তুমি মরে যাচ্ছ না কেন? তুমি মরে যেতে পারো না? এতটাই খারাপ ছিল সেই অভিজ্ঞতা।” সেই বছর পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য টুর্নামেন্ট স্থগিত করে দিয়েছিল বিসিসিআই। যদিও পরে আবার আবু ধাবিতে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে বাকি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বছর ফাইনাল খেললেও চেন্নাইয়ের কাছে হেরে গিয়েছিল নাইটরা। সেই মরশুমে কোভিডে আক্রান্ত হয়েও ১৭ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন বরুণ। কিন্তু তাঁর এই অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে উন্মোচন করে দিল ভারতের ‘টক্সিক ফ্যানবেস’ কালচারকে।
এই বছরও নাইট দলে রয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁর ভাল ফর্ম থাকলেও শেষের ম্যাচগুলিতে সেই অর্থে উইকেট পাননি বরুণ। এই নিয়েই চিন্তায় থাকবে কেকেআর। এবছর নিলামের পর থেকেই একাধিক নাইট ক্রিকেটার আইপিএল থেকে ছিটকে গিয়েছেন। হর্ষিত রানার পর গতকাল বিদায় ঘটে গেল বাংলার পেসার আকাশ দীপেরও। কলকাতার প্রথম ম্যাচ মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে মুম্বইতে হলেও ২, ৬ ও ৯ এপ্রিল হবে কলকাতায়। ২ তারিখ কলকাতার প্রতিপক্ষ সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। ৬ তারিখ নাইটদের বিরুদ্ধে নামবে পাঞ্জাব কিংস। ৯ এপ্রিল ইডেনে কলকাতা বনাম লখনৌ সুপারজায়ান্টস। রুণের সঙ্গী হবেন সুনীল নারিন। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে নারিনের স্পিন ঘিরে আর ভীতি সঞ্চার হয় না ব্যাটারদের মনে। তাই চাপে থাকবেন বরুণ, মনে করছে ক্রিকেটদুনিয়া।
